Home Blog Page 163

‘পর্তুগালের নয়, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ স্পেনের’ দাবি রদ্রির

‘পর্তুগালের নয়, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ স্পেনের’দাবি রদ্রির।  স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মনে করেন, পর্তুগালের তারকাখচিত মিডফিল্ড যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিশ্বের সেরা মাঝমাঠ এখন স্পেনেরই। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার আগে এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রদ্রি বলেন, পর্তুগাল তাদের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন এবং প্রতিপক্ষের সামর্থ্য সম্পর্কে স্পেনের পূর্ণ ধারণা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান পর্তুগাল দল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম।

তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানালেও নিজের দলের ওপরই আস্থা রাখছেন স্পেন অধিনায়ক। রদ্রির ভাষায়, “আমার মতে বিশ্বের সেরা দল এবং সেরা মাঝমাঠ আমাদেরই। পর্তুগালের দলে অসাধারণ সব তারকা রয়েছে, তারা দল হিসেবেও দারুণ খেলে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করতে চাই, আমাদের দলই আরও ভালো।”

স্পেনের মাঝমাঠে রয়েছেন পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইস ও অ্যালেক্স বায়েনার মতো সৃজনশীল ফুটবলার। অন্যদিকে পর্তুগালের শক্তি ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রুবেন নেভেস ও বের্নার্দো সিলভাদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ মিডফিল্ড। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই দলের মাঝমাঠের লড়াইই হতে পারে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে চলতি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের জালে কোনো গোল ঢোকেনি। শেষ ষোলোর আগে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে তারা। বিপরীতে পর্তুগালকে শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে জয় পেতে হয়েছে।

রদ্রি বিশ্বাস করেন, নকআউট পর্বেই স্পেন তাদের সেরা ফুটবল খেলবে। তিনি বলেন, “আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। এমন টুর্নামেন্টে কখন সেরাটা দিতে হয়, সেটা আমরা জানি। গ্রুপ পর্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন নকআউটে স্পেনের আসল শক্তি দেখা যাবে।”

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, পর্তুগাল দুর্দান্ত দল হলেও বিশ্বের সেরা দল স্পেন। তিনি বলেন, দুই দলের খেলার ধরনে অনেক মিল রয়েছে। তাই ম্যাচে ছোট ছোট মুহূর্ত এবং খুঁটিনাটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন। সমালোচনা থাকলেও তিনি জানিয়েছেন, নিজেকে এখন পুরোপুরি ফিট মনে হচ্ছে এবং পর্তুগালের বিপক্ষে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

জয়ের আশায় টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

0

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের আশায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। সোমবার হারারেতে সিরিজের প্রথম ম‍্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়।

আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে চোখ রেখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। মূল লক্ষ‍্য অবশ‍্যই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, এখানে কীভাবে খেলতে হবে বোঝা। তবে গুরুত্ব দিয়েই জয়ের কথা ভাবছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যে কারণে ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরের আসর হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে। এই সিরিজ শুরুর আগে মিরাজ বললেন, বিশ্ব আসরকে মনের কোণে রেখেই মাঠে নামবেন তার।

তিনি বলেন,‘ আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ, যেহেতু সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েতে। এখানে তিন ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় কন্ডিশন সম্পর্কে বুঝতে পারবে। যদি শতভাগ দিতে পারি এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য বড় সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ একাদশ : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদেক হোসেন সৈকত, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, সৌম্য সরকার ও নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক)।

জিম্বাবুয়ে একাদশ : বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক) ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

রোনালদোর শেষ স্বপ্ন টিকবে নাকি স্পেনের আধিপত্য?

রোনালদোর শেষ স্বপ্ন টিকবে নাকি স্পেনের আধিপত্য? বিশ্বকাপ থেকে নেইমারের ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর এবার ফুটবলপ্রেমীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও স্পেন। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে হারলেই শেষ হয়ে যাবে এক দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তাই ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

কোটি ফুটবল ভক্তকে কাদিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এবার শেষ ষোলোয় আরও এক ম্যাচ থেকে বিদায় নেবে একটি দল। লামিনে ইয়ামালের স্পেন নাকি রোদালদোর পর্তুগাল! এই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে রাতেই।

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউটে উঠেছে দুই দলই। কে গ্রুপে পর্তুগাল তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে এইচ গ্রুপে স্পেনও তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থান দখল করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। ফলে দুই দলের আত্মবিশ্বাসই এখন তুঙ্গে।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। তরুণ ও গতিময় আক্রমণভাগ, বল দখলে আধিপত্য এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ স্পেনকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞতা।

রোনালদোর নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেস, রাফায়েল লিয়াও, ভিটিনিয়া ও বের্নার্দো সিলভার মতো তারকারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগাল ও স্পেনের লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত দুই দল মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে।

এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮টি ম্যাচ, পর্তুগাল জিতেছে ৬টি, আর ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মুখোমুখি পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে স্পেন। তবে বিশ্বকাপ ও বড় টুর্নামেন্টে দুই দলের লড়াই বরাবরই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি।

ডালাসের এই মহারণে একদিকে থাকবে স্পেনের তারুণ্য ও গতির পরীক্ষা, অন্যদিকে রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন। নেইমারের কান্নার পর ফুটবল বিশ্ব কি এবার দেখবে রোনালদোর বিদায়বেলা, নাকি পর্তুগিজ মহাতারকা দলকে নিয়ে পৌঁছে যাবেন কোয়ার্টার ফাইনালে-তার উত্তর মিলবে রাতের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের নাটকীয় লড়াইয়ে।

এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ-রোনালদো

‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ’ পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, চলমান বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে স্পেনের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচই যে বিশ্বমঞ্চে তার শেষ ম্যাচ হবে, তা মনে করতে রাজি নন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পর্তুগাল জয় পেয়ে আরও সামনে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১টায় ডালাসে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। অবসর প্রসঙ্গে বারবার প্রশ্ন করায় কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উদ্দেশে তার কোনো বার্তা আছে কি না। উত্তরে রোনালদো হালকা মেজাজে বিমানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

রোনালদো বলেন, “গতকাল বিমানে একজন কেবিন ক্রু ছিলেন। তার তাকানোর ধরন দেখেই আমি বুঝেছিলাম তিনি আর্জেন্টাইন। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘আপনি যেভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছেন, তাতে আমি জানি আপনি আর্জেন্টাইন।’ যদি আপনি দ্রুত অন্যদিকে তাকান, তাহলে বুঝতে হবে আপনি ক্রিশ্চিয়ানোকে পছন্দ করেন না।” এ সময় হাসিতেও ফেটে পড়েন পর্তুগিজ তারকা।

এরপরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। তিনি বলেন, ‘এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ। আমি এটি পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই। আশা করি, আগামীকাল আমার শেষ ম্যাচ নয়।’

রোনালদোর এই ঘোষণায় বিশ্ব ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির আভাস মিলেছে। প্রায় দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ ধারাবাহিকতা, অসংখ্য গোল এবং একাধিক শিরোপা জিতে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তাই তার শেষ বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও তুঙ্গে।

এখন দেখার বিষয়, স্পেনকে হারিয়ে পর্তুগালকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারেন কি না রোনালদো। সমর্থকদের প্রত্যাশা, বিদায়ের আগে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেবেন এই মহাতারকা।

পর্তুগালকে বিদায় করে স্পেন শেষ আটে

বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের কাছে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে হারের ফলে শেষ হয়ে গেল পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান। একই সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে অবসান হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মেরিনো।

কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বেলজিয়াম পৌঁছেছে শেষ আটে। এর ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের তিনটি লাইন আপ চূড়ান্ত হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের একটিতে ফ্রান্স মোকাবেলা করবে মরক্কোকে। অন্য এক কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই প্রতিনিধি নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হবে আজ। সে ম্যাচের জন্য আজ রাতে আর্জেন্টিনা খেলবে মিসরের বিপক্ষে। অন্য এক ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।

শেষ সময়ে গোল

স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে পারে এমনটাই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহুর্তে স্টেডিয়ামে উপস্থিত পর্তুগালের সমর্থকদের স্তদ্ধ করে দেন মিকেল মেরিনো। তার গোলেই শেষ হয়ে যায় পর্তুগাল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ মিশন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে না বাজতেই জলভরা চোখ নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান পর্তুগীজ অধিনায়ক।

বল দখলের লড়াইয়ে রোনালদো

উভয় দল বেশ সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচটি শুরু করে। একে অপরকে আটকে রাখার মিশন নিয়েছিল স্পেন ও পর্তুগাল। ফলে বল নিয়ে লামিন ইয়ামাল বারবার পেনাল্টি বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেও সফল হননি। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও রোনালদো ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরার মতো জায়গা খুঁজে পাননি।

বদলি খেলোয়াড়ে সর্বনাশ পর্তুগালের

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন দুই বদলি খেলোয়াড়। দ্রুত একটা ফ্রি কিক নেওয়ার সময় পর্তুগাল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ঠিকমতো পাহারা দিতে পারেনি। সেই সুযোগে ফেরান তোরেস বক্সের কিনারায় বল পেয়ে যায়। প্রথম স্পর্শেই বলকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক পাস দেন মিকেল মেরিনোর উদ্দেশে। আর তাতেই পর্তুগালের সব শেষের শুরু। দৌড়ে বল নিয়ন্ত্রণে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো।

স্পেনের জাল অক্ষত

১-০ গোলে পাওয়া এ জয়ের মাঝ দিয়ে স্পেন তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত কোনো দল তাদের জালে বল ফেলতে পারেনি। গ্রুপ পর্বেও না, শেষ বত্রিশেও না। স্বাভাবিকভাবে স্পেনের রক্ষণভাগ এখন প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মেক্সিকোকে বিদায় করে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে

মেক্সিকোকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোকে তারা ৩-২ গোলে হারায়।। ইংল্যান্ডের হয়ে জুডে বেলিংহাম জোড়া গোল করেন। অন্য গোলটি করেন হ্যারি কেন। মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান কমান কুইনোনেস ও জিমিনেজ।

ইংল্যান্ডের এই জয়কে ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়ের একটি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েম্বলির বাইরে অর্থাৎ দেশের বাইরে এমন উত্তেজনাপূর্ণ জয় খুব একটা দেখা যায়নি। অন্যদিকে কপাল পুড়ছে মেক্সিকোর। আজতেকা স্টেডিয়ামে এই নিয়ে ৯০ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে মেক্সিকো। আজতেকা মানেই সাফল্য আর সাফল্য। সেখানে মাত্র তৃতীয় ম্যাচে হারলো তারা। আর তাতেই বিশ্বকাপে আবার স্বপ্নভঙ্গ তাদের।

এই হারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় আয়োজক মেক্সিকোও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে জয়ের ফলে শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগুলো ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন দল। আগামী ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নরওয়ের মুখোমুখি হবে। ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগে নরওয়ে ২-১ গোলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে।

গোলের পর যেন উড়ে আকাশ ছুঁতে চাইছেন

প্রি কোয়ার্টারে অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে রূপ নিয়েছিল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ। কোনো কিছুর অভাব ছিল না। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, লাল কার্ড, হলুদ কার্ড, পেনাল্টি-সব কিছু এই এক ম্যাচে। উভয় দল পেনাল্টি পেয়েছে। উভয় দলই পেনাল্টি সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের পাওয়া লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক আসতেই পারে।

আক্রমণে প্রতি আক্রমণে ম্যাচটি বেশ জমে উঠেছিল। যার প্রমাণ মাত্র ছয় মিনিটে তিন গোল। প্রথমার্ধের শেষ সময়ের দিকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে জুডে বেলিংহামের জোড়া গোলের সুবাদে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায়। বেলিংহাম ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে গোল করেন। ৪২ মিনিটে কুইনোনেস ব্যবধান কমান।

দ্বিতীয়ার্ধের বড় এক সময় ইংল্যান্ডকে একজন কম নিয়ে খেলতে হয়। ৫৪ মিনিটে জারেল কোয়ানসা বিধি বহির্ভূতভাবে খেলার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন। তবে ছয় মিনিট পর এক পেনাল্টি ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেয়। তা থেকে হ্যারি কেন গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-১ গোলে এগিয়ে নেন। ৬৯ মিনিটে এক পেনাল্টি থেকে মেক্সিকো ব্যবধান কমায়। পরের সময়ে মেক্সিকো একাধিক চাপ তৈরি করলেও গোল আদায়ে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতা বিশ্বকাপ থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।

শুধু মাঠ নয় খাবার টেবিলেও হাল্যান্ড রীতিমতো একজন দানব!

রোজ ৬ হাজার ক্যালরি আর গরুর কলিজা-হৃৎপিণ্ড: মাঠ কাঁপানো হাল্যান্ডের ‘দানবীয়’ খাদ্যাভ্যাস

ফুটবল মাঠে বল পায়ে তাঁর গতি আর অতিমানবীয় শক্তি দেখলে মনে হতে পারে তিনি কোনো মানুষ নন, যেন এক নিখুঁত ‘রোবট’। আর এই কারণেই বিশ্ব ফুটবলে তাঁর ডাকনাম ‘সাইবর্গ’ বা ‘নরওয়েজিয়ান মেশিন’। তিনি আর কেউ নন, ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ের ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিন আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। সম্প্রতি ফুটবলের এই মহাতারকা আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তবে এবার মাঠের কোনো গোলের জন্য নয়, বরং তাঁর অদ্ভুত এবং চেনা ছকের বাইরের খাদ্যাভ্যাসের (ডায়েট) কারণে।

আধুনিক স্পোর্টস নিউট্রিশন বা ক্রীড়া পুষ্টির চেনা ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নরওয়েজিয়ান তারকা প্রতিদিন প্রায় ৬,০০০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করেন, যা একজন সাধারণ মানুষের দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ!

হাল্যান্ডের ‘বিস্ট ডায়েট’: পাস্তা-চিকেন নয়, প্লেটে থাকে গোরুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ

বর্তমান যুগের অধিকাংশ ফুটবলার যখন মেপে মেপে সেদ্ধ চিকেন, পাস্তা কিংবা প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর ভরসা রাখেন, হাল্যান্ড সেখানে বেছে নিয়েছেন এক সম্পূর্ণ আদিম ও ভিন্ন পথ। তাঁর এই দানবীয় ডায়েটের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হলো গোরুর হৃৎপিণ্ড (হার্ট) এবং যকৃৎ বা কলিজা (লিভার)।

হাল্যান্ডের দৈনিক খাদ্যতালিকায় যা যা থাকে:

  • অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস: গোরুর টাটকা হৃৎপিণ্ড ও যকৃৎ।
  • ভারী মাংস ও মাছ: বড় আকারের স্টেক, বিলাসবহুল টমাহক স্টেক এবং সি-বাস মাছ।
  • অন্যান্য খাবার: অ্যাসপারাগাস (এক ধরণের সবজি), এগ ফ্রাইড রাইস এবং কাঁচা মধু।
  • জাদুকরী পানীয়: প্রচুর পরিমাণে কাঁচা দুধ। এটিকে তিনি নিজের শক্তির অন্যতম উৎস মনে করেন এবং সকালে নাস্তার পাশাপাশি কফির সাথেও কাঁচা দুধ মিশিয়ে পান করেন।

প্রক্রিয়াজাত খাবারকে লাল কার্ড, খাঁটি মাংসে ভরসা

নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নির্মিত ‘হাল্যান্ড: দ্য বিগ ডিসিশন’ নামক একটি তথ্যচিত্রে এই ফুটবলার তাঁর এই ব্যতিক্রমী দর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ফাস্টফুডের তীব্র সমালোচনা করে হাল্যান্ড বলেন:

“অনেকে হয়তো এসব (হৃৎপিণ্ড বা যকৃৎ) খান না, কিন্তু আমি আমার শরীরের সর্বোচ্চ যত্ন নিতে চাই। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া একদম খাঁটি ও উচ্চমানের খাবার খাওয়া। মানুষ ঢালাওভাবে বলে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি কোন মাংসটা খাচ্ছেন? ফাস্টফুডের দোকান থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাত মাংস? নাকি আপনার চোখের সামনে সবুজ মাঠে ঘাস খেয়ে বড় হওয়া স্থানীয় গোরুর তাজা মাংস? আমি নিশ্চিতভাবেই পরেরটি বেছে নিই।”

ম্যাচ পরবর্তী কঠোর ‘রিকভারি’ রুটিন

শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, আধুনিক ফুটবলের তীব্র ধকল সামলে শরীরকে শতভাগ ফিট রাখতে হাল্যান্ডের রয়েছে অত্যন্ত কঠোর এবং বৈজ্ঞানিক এক রুটিন। মাঠের লড়াই শেষে দ্রুত চাঙ্গা হতে তিনি নিয়মিত যেসব থেরাপি নেন:

  • ক্রায়োথেরাপি ও আইস বাথ: পেশীর ক্লান্তি দূর করতে বরফশীতল পানিতে গোসল।
  • রেড-লাইট থেরাপি ও সনা: শরীরের কোষ সতেজ রাখতে বিশেষ লাইট থেরাপির ব্যবহার।
  • প্রাকৃতিক নিয়ম: একদম ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে শরীরে সূর্যের আলো লাগানো এবং দৈনিক ফিজিওথেরাপি।

খাদ্যতালিকায় এই আদিম ছোঁয়া আর আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ফিটনেস রুটিনের অদ্ভুত মিশ্রণই ২৫ বছরের এই তরুণকে করে তুলেছে সমসাময়িক ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও অপ্রতিরোধ্য স্ট্রাইকার।

সংশয় উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বজয়ের মুকুট পরালেন মলিনাক্স

0

অ্যালিসা হিলির মতো কিংবদন্তি অধিনায়কের জুতোয় পা গলানো সহজ কথা ছিল না। যখন তাঁর কাঁধে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল, ২৮ বছর বয়সী সোফি মলিনাক্স নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না তিনি এই বড় দায়িত্বের চাপ সামলাতে পারবেন কিনা। কিন্তু লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের সামনে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ট্রফি উঁচিয়ে ধরে মলিনাক্স প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল পাসই করেননি, বরং লেটার মার্কস নিয়ে এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

টুর্নামেন্ট জুড়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১১টি) উইকেট শিকারী হয়েছেন তিনি। অথচ ইনজুরি আর চারপাশের নানামুখী সংশয় পেরিয়ে তাঁর এই বিশ্বজয়ের গল্পটা ছিল রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর।

ইনজুরির ধাক্কা ও চারপাশের সংশয়

২০২৬ সালের শুরুতে অ্যালিসা হিলি সব ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় মলিনাক্সকে। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পিঠের ইনজুরিতে পড়েন এই অলরাউন্ডার। ফলে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ এবং এক মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেন তিনি।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, প্রধান নির্বাচক শন ফ্লেগলার মলিনাক্সের অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছিল প্রবল সংশয়। কিন্তু সব সন্দেহ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মলিনাক্স মাঠে ফেরেন এবং দলকে বিশ্বসেরার মুকুটে অনুপ্রাণিত করেন।

সংশয় কাটিয়ে ওঠার তৃপ্তি নিয়ে ম্যাচ শেষে মলিনাক্স বলেন:

“সব সংশয় দূর করতে পারার অনুভূতি দারুণ। লর্ডসে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সামনে বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে মাঠ ছাড়ার দিনটি অবিশ্বাস্য রকমের বিশেষ। সত্য বলতে, শুরুতে অধিনায়কত্ব পেয়েই ইনজুরিতে পড়ায় সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। নিজের মনেও সন্দেহ উঁকি দিচ্ছিল যে, আদৌ এটি কাজ করবে কিনা। কিন্তু এই পথচলায় একটা জিনিস শিখেছি “সবসময় বিশ্বাস রাখতে হয়। আমি ভাগ্যবান যে দলের মানুষ আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল, আর আমি এই দলটার ওপর সবকিছুর চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি।”

ফাইনালে মলিনাক্সের অবদান এবং মুনির প্রশংসা

লর্ডসের ফাইনালে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন মলিনাক্স। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বে স্বাগতিকদের ১৫০ রানে আটকে রাখে অস্ট্রেলিয়া। পরে বেথ মুনির ৬4 এবং ফোবি লিচফিল্ডের ৪৮ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটের সহজ জয় পায় অজিরা।

ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া সতীর্থ বেথ মুনির ভূয়সী প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন: “মুনি (বেথ মুনি) অসাধারণ এক ক্রিকেটার। ও যেন ফাইনাল ম্যাচগুলোর জন্যই তৈরি হয়েছে। ও কতটা ধারাবাহিক, তা গত কয়েক মাসে ওর ব্যাটিং দেখলেই বোঝা যায়। ও একই সাথে স্বাধীনভাবে খেলে, আবার আমার দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান ক্রিকেটারও বটে। দলের মেয়েরা ওর কথা মন দিয়ে শোনে। ও আমাদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড, আর আজ উইকেটের পেছনে ওর কিপিং ছিল অন্য মাত্রার।”

ইনজুরি, সমালোচনা আর নিজের ভেতরের দ্বিধাদ্বন্দ্বকে জয় করে সোফি মলিনাক্স যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে ফিরিয়ে আনলেন, তা নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

লর্ডসে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া

0

ইংল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠেই স্তব্ধ করে দিল অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দল। লর্ডসের ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল অজিরা। টানা দু’টি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে হারের বৃত্ত ভেঙে দুর্দান্তভাবে সিংহাসন ফিরে পেল অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে ২০২৩ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতল তারা।

লর্ডসের গ্যালারিতে রেকর্ড ২৮,৮৮৭ জন দর্শকের উপস্থিতিতে টস জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে ১৭.১ ওভারেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজি নারী দল।

সিভার-ব্রান্টের লড়াই সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের মাঝারি সংগ্রহ

পপস্টার রিতা ওরার পারফরম্যান্সের পর লর্ডসের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে খেলতে নামে দুই দল। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। দলীয় স্কোরে মাত্র ৮ রান যোগ হতেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ড্যানি ওয়াট-হজকে (৮) হারায় তারা। লুসি হ্যামিল্টন ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের তোপে ৭০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ইংলিশরা।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। ফ্রেয়া কেম্পকে সাথে নিয়ে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি, যা বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সিভার-ব্রান্ট ৪৫ বলে খেলেন অপরাজিত ৫৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। এই হাফ-সেঞ্চুরির মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি ফিফটির রেকর্ড গড়েন তিনি। অন্যদিকে কেম্প ২৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫০ রান।

মুনি-লিচফিল্ডের রেকর্ড জুটিতে চূর্ণ ইংল্যান্ডের স্বপ্ন

১৫১ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জর্জিয়া ভলকে (৯) হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই ধাক্কা টের পেতে দেননি বেথ মুনি এবং ফোবি লিচফিল্ড। পাওয়ার প্লে-তেই এই জুটি স্কোরবোর্ডে ৬২ রান তুলে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

  • বেথ মুনির রেকর্ড ইনিংস: ৩৮ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন মুনি। টুর্নামেন্টে এটি তাঁর তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি, যার মাধ্যমে তিনি সিভার-ব্রান্টের সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসান। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রান করে এলবিডব্লিউ (LBW) হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
  • লিচফিল্ডের ঝড়: মুনিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে লিচফিল্ড খেলেন ৪৮ রানের এক আগ্রাসী ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ১০০ রানের জুটিই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করে দেয়।

শেষের দিকে এলিস পেরি ও অ্যাশলেই গার্ডনার বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সারেন। ম্যাচের ১৭.১ ওভারে ওয়াইডের মাধ্যমে জয়সূচক রানটি আসে এবং প্রায় ৩ ওভার বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার শতভাগ রেকর্ড

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া (দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ৭টি ফাইনালের সবকটিতেই জয়)। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের খোঁজে থাকা ইংল্যান্ডকে আরও একবার রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের স্বাদও এবারই প্রথম পেল ইংলিশরা। হোয়াইট বলের দুই সংস্করণের কোনো ট্রফি ছাড়া টুর্নামেন্ট শুরু করা অস্ট্রেলিয়া আবারও প্রমাণ করল—ক্রিকেট বিশ্বে তাদের আধিপত্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ৫৮*, ফ্রেয়া কেম্প ৪৪*; লুসি হ্যামিল্টন ১/১৯, কিম গার্থ ১/২০)
  • অস্ট্রেলিয়া: ১৭.১ ওভারে ১৫৩/৩ (বেথ মুনি ৬৪, ফোবি লিচফিল্ড ৪৮; সোফি একলস্টোন ১/২৪, চার্লি ডিন ১/২৮)
  • ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন।

ব্রাজিলের ফুটবল কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

0

এই প্রশ্নটি এখন বিশ্বের কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তের মনে। নেইমারের বিদায় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে নকআউটে আরও একবার ইউরোপীয় গেরোয় আটকে যাওয়ার পর ব্রাজিল ফুটবল এখন ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্রান্তিকাল পার করছে।

তবে ফুটবলের ইতিহাস বলে, ব্রাজিলকে কখনোই চিরতরে ফুরিয়ে যাওয়া দল ভাবা ঠিক হবে না। কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে সাম্বার দেশ নিশ্চয়ই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। ব্রাজিল ফুটবলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ও পথগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. নতুন প্রজন্মের ওপর ভরসা (ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগো যুগ)

নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক অবসর একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্রাজিল ফুটবলে প্রতিভার অভাব কখনো ছিল না। এখন সময় এসেছে তরুণদের কাঁধে দলের ব্যাটন তুলে দেওয়ার।

  • ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগো: রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপের শীর্ষ স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা এই দুই তারকার রয়েছে। নেইমারের ছায়া থেকে বের হয়ে এখন তাদেরই দলের মূল নেতা হতে হবে।
  • এন্ড্রিক ও তরুণ প্রতিভা: এন্ড্রিকের মতো উদীয়মান ফুটবলারদের এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ করতে হবে, যারা ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের পরিপক্ক করে তুলতে পারবে।

২. ঘরোয়া ফুটবলের আধুনিকায়ন ও পরিকাঠামো বদল

ব্রাজিলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত প্রতিভা বিশ্বমানের, কিন্তু ইউরোপের দলগুলোর তুলনায় তাদের ঘরোয়া ফুটবল অবকাঠামো ও একাডেমি ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

  • আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি ডেটা, স্পোর্টস সায়েন্স এবং ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল। ব্রাজিলের তৃণমূল পর্যায় থেকে এই আধুনিক ফুটবল সংস্কৃতির সূচনা করতে হবে।

৩. কার্লো আনচেলত্তির কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

নরওয়ের কাছে হারলেও কার্লো আনচেলত্তির মতো একজন বিশ্বসেরা ইউরোপীয় কোচ ড্রেসিংরুমে থাকা ব্রাজিলের জন্য বড় শক্তি।

  • ইউরোপের দলগুলোকে হারাতে হলে তাদের মতোই আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং শারীরিক শক্তির ফুটবল বুঝতে হবে। আনচেলত্তি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোগো বোনিতো’ (নান্দনিক ফুটবল) অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে ইউরোপীয় দলগুলোর ব্লকিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল ভাঙা যায়, সেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশল তৈরি করতে পারবেন।

৪. মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করা

২০০২ সালের পর থেকে নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দল সামনে আসলেই ব্রাজিল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। এই ‘ইউরোপীয় জুজু’ কাটাতে ফুটবলারদের কৌশলগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও স্নায়ু ধরে রাখার জন্য শীর্ষস্তরের মেন্টাল ট্রেইনার বা স্পোর্টস সাইকোলজিস্টদের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

অতীতের শিক্ষা: ব্রাজিল সবসময় ফিরে আসে

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ব্রাজিল এর আগেও এমন কঠিন সময় পার করেছে। ১৯৭০ সালের পর ২৪ বছর তারা বিশ্বকাপ জেতেনি। এরপর ১৯৯৪ সালে তারা আবার বিশ্বজয় করে। ২০০২ সালের শিরোপার আগেও ১৯৯৮ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা।

ব্রাজিল ফুটবলের পুনরুত্থান রাতারাতি সম্ভব নয়। নেইমার-পরবর্তী যুগে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে সিবিএফ (CBF) যদি আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখে তরুণদের নিয়ে একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল দল গড়ে তুলতে পারে, তবে হেক্সার অধরা স্বপ্ন পূরণ করে ব্রাজিল ফুটবল অবশ্যই আবার বিশ্বের চূড়ায় ঘুরে দাঁড়াবে। সাম্বার ছন্দ সাময়িকভাবে থমকে গেছে, কিন্তু তা চিরতরে হারিয়ে যায়নি।