Home Blog Page 162

টিভিতে আজকের খেলা ৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রথম ওয়ানডে আজ। বিশ্বকাপে রাতে মুখোমুখি পর্তুগাল ও স্পেন। আগামীকাল সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বেলজিয়াম।

বিশ্বকাপ ফুটবল: শেষ ১৬
মেক্সিকো-ইংল্যান্ড
সকাল ৬টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

পর্তুগাল-স্পেন
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম
আগামীকাল সকাল ৬টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
১ম ওয়ানডে
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
বেলা ১-৩০ মি., নাগরিক ও টি স্পোর্টস

টেনিস
উইম্বলডন
৪র্থ রাউন্ড
বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

নক আউট পর্বে ইউরোপীয় দলের সামনে অসহায় ব্রাজিল!

ফুটবলের রাজপুত্র, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, জোগো বোনিতো বা সাম্বা ফুটবলের দেশ, ব্রাজিলকে চেনার জন্য এই বিশেষণগুলোই যথেষ্ট। কিন্তু বিগত ২৪ বছর ধরে এই ফুটবল পরাশক্তির নামের পাশে যুক্ত হয়েছে এক নির্মম ও অমীমাংসিত সমীকরণ, যার নাম ‘ইউরোপীয় জুজু’। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলকে পেলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলছে সেলেসাওরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের আকস্মিক বিদায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকার এই দলটির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অন্তহীন পরাজয়ের বৃত্তের ধারাবাহিকতা মাত্র।

২০০২ সালের পর থমকে যাওয়া ইতিহাস

২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে সর্বশেষ পঞ্চমবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ব্রাজিল। এরপর থেকে গত ছয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপের বাধা পেরোতে পারলেই যেন ব্রাজিলের বিশ্বজয় নিশ্চিত হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবারই নকআউট পর্বে কোনো না কোনো ইউরোপীয় শক্তির সামনে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে তাদের হেক্সা স্বপ্ন।

নকআউট পর্বে ইউরোপের কাছে ব্রাজিলের ব্যর্থতার খতিয়ান:

২০০৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হার।

২০১০ (কোয়ার্টার ফাইনাল): স্নাইডার-রোবেনদের নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে বিদায়।

২০১৪ (সেমিফাইনাল): ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক বিপর্যয়।

২০১৮ (কোয়ার্টার ফাইনাল): বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের কাছে ২-১ গোলে পরাজয়।

২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল): পেনাল্টি শুটআউটে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায়।

২০২৬ (শেষ ১৬): আর্লিং হাল্যান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে স্তব্ধ ব্রাজিল।

আনচেলত্তি এনেও কাটেনি অভিশাপ

ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে এই মানসিক ও কৌশলগত বাধা কাটাতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (CBF) প্রথা ভেঙে দলে এনেছিল ইউরোপেরই অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, ইউরোপীয় দলগুলোর আধুনিক ও শারীরিক ফুটবল কৌশলের জবাব দেওয়া। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে নরওয়ের ইস্পাতকঠিন ডিফেন্স এবং আর্লিং হাল্যান্ডের ক্ষিপ্রতার সামনে আনচেলত্তির ‘মাস্টারক্লাস’ও মুখ থুবড়ে পড়ল।

কেন এই ব্যর্থতার বৃত্ত?

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের এই ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে মূলত তিনটি প্রধান কারণ:

১. কৌশলগত অতি-নির্ভরশীলতা ও অনমনীয়তা: লাতিন আমেরিকার দলগুলো সাধারণত একক দক্ষতা ও নান্দনিক ফুটবলের ওপর জোর দেয়। বিপরীতে, ইউরোপীয় দলগুলো অনেক বেশি কৌশলগত, সুশৃঙ্খল এবং দলগত ব্লক তৈরিতে পারদর্শী। নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের পর ব্রাজিল যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তাদের মানসিক ভঙ্গুরতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
২. শারীরিক ও গতিশীল ফুটবল: বর্তমান ইউরোপীয় ফুটবল অত্যন্ত গতিময় ও শারীরিক শক্তি-নির্ভর। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্তোফার আয়ের কিংবা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডের মতো দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ম্যাচে শারীরিক লড়াইয়ে বারবার পরাস্ত হয়েছে ব্রাজিলের রক্ষণ ও আক্রমণভাগ।
৩. মনস্তাত্ত্বিক চাপ: বছরের পর বছর ধরে ইউরোপীয় দলের কাছে নকআউটে হেরে যাওয়ার ফলে ব্রাজিলের ফুটবলারদের মনে এক ধরণের অবচেতন ভীতি বা ‘সাইকোলজিক্যাল ব্লক’ তৈরি হয়েছে। যার ফলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে (যেমন নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১০ মিনিটে) স্নায়ু ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা।

নেইমার যুগের বিষাদময় সমাপ্তি

ইউরোপের কাছে ব্রাজিলের এই পরাজয়ের বৃত্তের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজিক হিরো হয়ে রইলেন নেইমার জুনিয়র। ২০১০ সালে অভিষেকের পর থেকে ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬ টানা চারটি বিশ্বকাপে তিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন। পেলেকে টপকে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই ইউরোপীয় প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে তাঁর চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছে। অবশেষে নরওয়ের কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসরের ঘোষণা এই দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল।

ইউরোপের দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের এই ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙা না পর্যন্ত ‘হেক্সা’ ট্রফি ব্রাজিলের জন্য কেবলই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে থাকবে। আনচেলত্তির বিদায় কিংবা নেইমারের প্রস্থান; ব্রাজিল ফুটবলের এই ক্রান্তিলগ্নে এখন প্রয়োজন এক আমূল পরিবর্তনের, যা তাদের আবার বিশ্বমঞ্চের চূড়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

এক যুগের বর্ণিল অধ্যায়ের অবসান: আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়টি কেবল ব্রাজিলের হেক্সা মিশনই গুঁড়িয়ে দেয়নি, একই সাথে অবসান ঘটাল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের। ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মাথায় চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের ব্যাটন নিজের কাঁধে বয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ‘আলবিদা’ বললেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

চোখের জলে বিদায়ের ঘোষণা

ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে নেইমার জানান, জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ। অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন,

“ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। আমি সবসময় দেশের জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু শরীর এবং মন বলছে, এটাই থেমে যাওয়ার সঠিক সময়। আমি চেয়েছিলাম ব্রাজিলের মাথায় ষষ্ঠ নক্ষত্রটি (হেক্সা ট্রফি) যুক্ত করে বিদায় নিতে, কিন্তু নিয়তি আজ আমাদের পক্ষে ছিল না।”

বিদায়বেলায় আক্ষেপ আর অপূর্ণতার হেক্সা স্বপ্ন

২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর থেকে বহু জয় ও ট্র্যাজেডির সাক্ষী হয়েছেন তিনি। পেলেকে টপকে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও, একটি বিশ্বকাপ ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াবে এই তারকাকে।

বিদায়ী বার্তায় নেইমার আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপ জয় আমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল। আমরা খুব কাছে গিয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছি। আজ নরওয়ের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করেও দলকে জেতাতে পারিনি, এই আক্ষেপ হয়তো কোনোদিন মুছবে না। তবে আমি নিশ্চিত, এই তরুণ দল একদিন ব্রাজিলের সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করবে।”

এক নজরে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

  • অভিষেক: ২০১০ (যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে)
  • প্রধান শিরোপা: ২০১৩ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ, ২০১৬ রিও অলিম্পিক (স্বর্ণপদক)
  • রেকর্ড: কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া

নেইমারের অবসরের ঘোষণার পরপরই ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সতীর্থ থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্বের নামী-দামী তারকারা তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন জাদুকর। তার মতো প্রতিভাকে ড্রেসিংরুমে পাওয়া যেকোনো কোচের জন্যই সৌভাগ্যের। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তাকে আজীবন মিস করবে।”

সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের যে নকআউট জুজু, তার শিকার হয়েই শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়তে হলো এই ফুটবল জাদুকরকে। সাম্বার ছন্দ আর চেনা ১০ নম্বর জার্সির সেই চপলতা আর দেখা যাবে না আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবুজ গালিচায়।

নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হার নিয়ে যা বললেন আনচেলত্তি!

জাপানের বিপক্ষে যে রণকৌশল কাজ করেছিল, নরওয়ের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়ালের সামনে তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ম্যাচ শেষে বিষণ্ণ ও হতাশ ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অকপটে স্বীকার করে নিলেন, নিজেরা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মনোযোগ হারানোর কারণেই আজ তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল বস নিজের অনুভূতি ও হারের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন।

প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে

ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস করাটাকেই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন,

“ফুটবলে যখন আপনি সুযোগ পাবেন, তখন আপনাকে তা লুফে নিতে হবে। প্রথমার্ধে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম, পেনাল্টিও পেয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে গোলটি পেয়ে গেলে ম্যাচের চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু আমরা সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি এবং এর খেসারত আমাদের দিতে হয়েছে।”

হাল্যান্ডের বিশ্বমানের পারফরম্যান্স ও রক্ষণভাগের ভুল

নরওয়ের জয়ের নায়ক আর্লিং হাল্যান্ডের জোড়া গোল এবং ব্রাজিলের ডিফেন্সের দুর্বলতা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন,
“আমরা জানতাম হাল্যান্ড কতটা বিপজ্জনক। তাকে আটকানোর জন্য আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। প্রথমার্ধে আমরা তাকে বোতলবন্দী রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু ৭৯ মিনিটে ডিফেন্সের ছোট্ট একটু অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ও (হাল্যান্ড) অসাধারণ এক হেডে গোল করে গেল। ও একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার, তাকে এক মুহূর্তের জন্য ছাড় দিলেও ও শাস্তি দেবে। দ্বিতীয় গোলটির সময় আমরা সমতায় ফেরার জন্য অল-আউট আক্রমণে গিয়েছিলাম, যার ফলে কাউন্টার অ্যাটাকে ডিফেন্স ফাঁকা হয়ে যায়।”

নরওয়ে জুজু ও কৌশলগত ব্যর্থতা

ব্রাজিল কেন নরওয়েকে হারাতে পারে না, এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নে আনচেলত্তি বলেন,
“ইতিহাস বা অতীত রেকর্ড নিয়ে আমরা ভাবিনি। তবে নরওয়ে কৌশলগতভাবে খুব গোছানো ফুটবল খেলেছে। ওরা প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলে রেখে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছে। আমরা বল পজেশনে এগিয়ে থাকলেও ওদের ফাইনাল থার্ডে ভাঙতে পারিনি। এটি আমাদের কৌশলগত ব্যর্থতা এবং এর দায় আমার।”

নেইমারের গোল এবং দেরিতে জেগে ওঠা

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোল নিয়ে কোচ বলেন, “নেইমার গোল করেছে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে এই স্তরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। আমরা আজ বড্ড দেরিতে জেগে উঠেছি।”

ব্রাজিলের কোটি ভক্তের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

হেক্সা মিশনের এই করুণ সমাপ্তিতে ব্রাজিলের কোটি ভক্তের আবেগের কথা স্মরণ করে আনচেলত্তি বলেন,
“আমি জানি এই হার পুরো ব্রাজিলের জন্য কতটা বেদনার। সমর্থকেরা দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ষষ্ঠ ট্রফির অপেক্ষা করছেন। আমরা তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, এজন্য আমি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। এই দলে অনেক তরুণ প্রতিভা আছে, এই ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রাজিল নিশ্চয়ই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

কার্লো আনচেলত্তির এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে, মাঠের পারফরম্যান্সের অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখতে না পারার কারণেই আরও একবার ট্র্যাজিক হিরো হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ব্রাজিলকে হারিয়ে যা বললেন হাল্যান্ড!

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। আর এই রূপকথার মহানায়ক আর কেউ নন, তিনি আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার পর নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আবেগ, আত্মবিশ্বাস আর এক বুক গর্ব।

ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাল্যান্ড এই জয়কে তাদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের “সর্বশ্রেষ্ঠ রাত” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছিলাম

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠেই সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মেতে ওঠেন হাল্যান্ড। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,

“আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। নরওয়ের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এবং তাও ব্রাজিলকে হারিয়ে, এটি অবিশ্বাস্য! আমরা জানতাম ইতিহাস আমাদের পক্ষে ছিল না, কিন্তু আমরা মাঠে নেমেছিলাম নতুন ইতিহাস লিখতে। আজ আমরা সেটি করে দেখিয়েছি।”

ব্রাজিলের বিপক্ষে ‘নরওয়ে জুজু’ নিয়ে হাল্যান্ড

অতীতে নরওয়ে কখনোই ব্রাজিলের কাছে হারেনি—এই রেকর্ড ম্যাচ শুরুর আগে তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে হাল্যান্ড বলেন, “অবশ্যই পুরোনো রেকর্ড আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আমাদের অগ্রজরা ব্রাজিলকে হারিয়েছিলেন, সেই গল্প শুনে আমরা বড় হয়েছি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই একই মঞ্চে, একই ব্যবধানে (২-১) আবার জয় পাওয়াটা যেন এক অলৌকিক কাকতালীয় ঘটনা। আমরা প্রমাণ করেছি, নরওয়ে ফুটবলে কাউকে ভয় পায় না।”

নিজের জোড়া গোল এবং ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রস থেকে করা অসাধারণ হেডের গোল এবং ৯০ মিনিটের কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করা জয়সূচক গোল নিয়ে এই স্ট্রাইকার বলেন, “পেনাল্টি মিস করার পর ব্রাজিল মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। প্রথমার্ধে ওরা সুযোগ নষ্ট করায় আমরা জানতাম দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সুযোগ আসবে। আন্দ্রেয়াসের ক্রসটি নিখুঁত ছিল, আমি শুধু বলটিকে সঠিক দিশা দিয়েছি। আর দ্বিতীয় গোলের সময় আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল ‍যেন ম্যাচটি যেন অতিরিক্ত সময়ে না গড়ায়। বল জালে জড়ানোর পর যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

দলের রক্ষণভাগ ও সতীর্থদের প্রশংসা

শুধু নিজের গোলের কৃতিত্ব নেননি হাল্যান্ড। প্রথমার্ধে পেনাল্টি সেভ করা এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আটকে রাখার জন্য নিজের দলের রক্ষণভাগকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। “ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করাটা যতটা আনন্দের, তার চেয়েও বড় কাজ ছিল ওদের ভিনিসিয়ুস বা নেইমারদের আটকে রাখা। আমাদের ডিফেন্ডাররা আজ জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। ব্রুনো গুইমারেস যখন পেনাল্টি মিস করল, আমরা তখনই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আজ রাতটা আমাদের হতে যাচ্ছে।”

সামনে আরও পথ চলা বাকি

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিলেও এখনই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার নিজ দলের জন্য বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হাল্যান্ডের ভাষায়, “আমরা এখানে শুধু একটি ম্যাচ জিততে আসিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল আমাদের জন্য এক নতুন শুরু। আমরা উদযাপন করব, তবে কাল থেকেই আবার পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেব। নরওয়ে অনেক দূর যেতে প্রস্তুত।”

হাল্যান্ডের এই হুঙ্কার আর মাঠের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে কেবলই কোনো চমক নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।

হাল্যান্ড ঝড়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৮ সালের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিল নরওয়ে। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে নরওয়েজিয়ানরা। আর এই পরাজয়ের সাথে সাথেই লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা মিশন’ আরও একবার শেষ ষোলোতেই থমকে গেল।

ব্যর্থ আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস

শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানের বিপক্ষে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত মাস্টারক্লাস দারুণ কাজে দিয়েছিল। তবে ইতিহাসের পাতা বলছিল ভিন্ন কথা, আগের চারবারের দেখায় কখনই নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। এবার সেই ‘নরওয়ে জুজু’ কাটাতে ব্যর্থ হলেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা। শুরু থেকেই ব্রাজিলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রেখে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউরোপের এই উদীয়মান শক্তি।

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের খেসারত

ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সেলেসাওরা। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্তোফার আয়ের ডি-বক্সের ভেতরে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনহাকে ফাউল করলে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। প্রথমার্ধের এই নিষ্্প্রভ পারফরম্যান্স এবং সুযোগ হাতছাড়ার মাশুলই শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

হাল্যান্ড ম্যাজিকে নরওয়ের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর আসল রোমাঞ্চ জমা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্য। নরওয়ের হয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তাদের গোলমেশিন আর্লিং হাল্যান্ড।

প্রথম গোল (৭৯ মিনিট): আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে বল ব্রাজিলের জালে জড়ান হাল্যান্ড। উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ে শিবির।

দ্বিতীয় গোল (৯০ মিনিট): নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে এক জোরালো নিচু শটে নিজের জোড়া গোল পূরণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

নেইমারের গোল কেবলই সান্ত্বনা

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) ব্রাজিল আরও একটি পেনাল্টি পায়। এবার স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি নেইমার জুনিয়র। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। নেইমারের এই গোলটি কেবল ব্রাজিলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে, বিদায়ের গ্লানি মুছতে পারেনি। ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

এক নজরে ম্যাচ:

  • ফলাফল: নরওয়ে ২ – ১ ব্রাজিল
  • নরওয়ের পক্ষে গোলদাতা: আর্লিং হাল্যান্ড (৭৯’ ও ৯০’)
  • ব্রাজিলের পক্ষে গোলদাতা: নেইমার (পেনাল্টি, ৯০+ মিনিট)
  • ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস।

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নরওয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অন্যদিকে, মাঠের ব্যর্থতা আর সুযোগ নষ্টের মহড়ায় আরও একটি বিশ্বকাপ মিশন হতাশা দিয়ে শেষ হলো ব্রাজিলের।

গোলশূন্যতে শেষ হলো ব্রাজিল-নরওয়ে প্রথমার্ধ

গোলশূন্যতে শেষ হলো ব্রাজিল-নরওয়ে প্রথমার্ধ। প্রথম হাফে দুই দলই গোলের বেশকিছু সুযোগ পেয়েছিলো, তবে গোলকিপারের সহায়তায় বেঁচে যায় দুই দলই।
প্রথমার্ধের যোগ করার সময়ে ওডেগার্ডের একটি শট সেচ করেন অ্যালিসন। ৪০তম মিনিটে ভিনিসিউসের শট সেভ করেন নরওয়ে গোলকিপার।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। প্রথমে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও, পরে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্টের সাহায্যে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তবে গিমারেসের শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলকিপার নিল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। তবে তাদের গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়। 
ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কিন্তু অবাক করার মতো হলেও, এই চার দেখায় একবারও জয়ের মুখ দেখেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি হয়েছে ড্র।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছিল।

১ পরিবর্তন নিয়ে নরওয়ের মুখোমুখি ব্রাজিল

৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ের। এই ম্যাচে তাদের একাদশে আছে একটি পরিবর্তন।
চোটের কারণে লুকাস পাকেতা আগেই ছিটকে গেছেন দল থেকে। এদিকে তার ফাইনালের আগে খেলার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তার আজকের ম্যাচ খেলার কথা ছিল না।

তাই কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাধ্য হয়েই একটি পরিবর্তন নিয়ে দল সাজিয়েছেন। পাকেতার জায়গায় দলে এসেছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

এদিকে নরওয়েও তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। চোট সারিয়ে ফিরেছেন নরওয়ের ফুলব্যাক জুলিয়ান রিয়ারসন।

ব্রাজিল একাদশ–
আলিসন;
দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল, ডগলাস;
রায়ান, গিমারেস, কাসেমিরো;
মার্তিনেল্লি, কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস।

নরওয়ে একাদশ–
নাইল্যান্ড;
রিয়ারসন, আয়ের, হেগেম, উলফে;
ওডেগার্ড, বার্গে, বের্গ;
শোরলথ, হালান্ড, নুসা।