Home Blog Page 141

ফ্রান্সের গতির ঝড় থামাতে চায় স্পেন

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষের গতিময় ফুটবল নিয়ে সতর্ক স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তন না এনে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের ফুটবলেই আস্থা রাখছেন তিনি। অতীতের দুই দেখায় ফ্রান্সকে হারানোর আত্মবিশ্বাসও যোগাচ্ছে স্প্যানিশ শিবিরকে।

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নকআউটের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতিনির্ভর আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, স্পেন শুরুটা করেছিল কিছুটা ধীরগতিতে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেইপ ভার্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। নকআউট পর্বেও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়নি স্প্যানিশদের।

আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির সেমিফাইনাল। গত তিন বছরের মধ্যে এটি হবে দুই দলের তৃতীয় লড়াই। ২০২৪ সালের ইউরো এবং ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে জয় পেয়েছিল স্পেন।

তবে অতীতের সেই সাফল্যকে বর্তমানের সঙ্গে মেলাতে রাজি নন দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর মতে, আগের তুলনায় ফ্রান্স এখন ভিন্ন এক দল।

স্পেন কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে ফ্রান্স সব সময়ই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দুই বছর আগের দলের সঙ্গে বর্তমান ফ্রান্সের অনেক পার্থক্য রয়েছে। খেলার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আমার বিশ্বাস, দুই দলই আগের চেয়ে আরও উন্নতি করেছে।’

দে লা ফুয়েন্তের মতে, দুই দলের ফুটবল দর্শন একেবারেই আলাদা। ফ্রান্স যেখানে গতির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে স্পেনের শক্তি বলের দখল ও ছন্দময় আক্রমণে। তাই প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে চান না তিনি।

স্পেন কোচের ভাষায়, ‘ফ্রান্সের শক্তি আমরা জানি। তবে নিজেদের খেলার ধরন বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনব। কিন্তু নিজেদের ফুটবল খেলেই সবশেষ দুই ম্যাচে তাদের হারিয়েছি, এবারও সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।’

ইংল্যান্ড ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়

দশ বছর আগেও যদি কেউ বলতো যে ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত ট্রফির দাবিদার হয়ে উঠবে, তবে তা রীতিমতো হাসির খোরাক জোগাত। কারণ, ২০১৬ সালের ইউরো কাপের শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে পুঁচকে আইসল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা। তারও আগে, ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল তারা; যেখানে কোস্টারিকার সাথে গোলশূন্য ড্র ছিল তাদের একমাত্র প্রাপ্তি।

কিন্তু আজ সময় বদলেছে। জুড বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইনের অসাধারণ নৈপুণ্যের ওপর ভর করে ইংল্যান্ড এখন যেকোনো টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে। আর এটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো বছরের জন্য নয়, বরং প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্যই সত্য।

সাফল্যের নতুন এক ধারাবাহিকতা

২০১৬ সালের ইউরোর পর থেকে গত পাঁচটি প্রধান টুর্নামেন্টের মধ্যে চারটিতেই অন্তত সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক অভূতপূর্ব সময়। বিশ্বমঞ্চে এই ধারাবাহিকতার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের ওপরে আছে কেবল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স, কারণ তাদের ঝুলিতে আছে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মতো বড় শিরোপা।

গত শনিবার অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। এবার শেষ চারে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়ার এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এই ম্যাচটিতে যদি ইংল্যান্ড চলেও যায়, তবুও বর্তমান দলটি এমনভাবে তৈরি যা ক্ষণস্থায়ী সাফল্যের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে।

অতীত ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাস এবং ঘুরে দাঁড়ানো

১৯৯৬ সালের ইউরো কাপের সময় ডেভিড ব্যাডিয়েল, ফ্রাঙ্ক স্কিনার এবং লাইটনিং সিডসের লেখা বিখ্যাত গান “থ্রি লায়ন্স”-কে ইংল্যান্ডের বাইরের মানুষ প্রায়ই অহংকার বলে উপহাস করতো। কিন্তু গানটির একটি লাইন ছিল, “England’s gonna throw it away, gonna blow it away” যা আসলে বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়েও অন্ধ আশাবাদের কথা বলত। ইতিহাস বলে, ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা কখনোই খুব সহজে সাফল্য পাননি।

এক নজরে ইংল্যান্ডের অতীত টুর্নামেন্টের খতিয়ান:

  • ১৯৬৮ থেকে ১৯৯০ (২২ বছরের অপেক্ষা): ১৯৬৮ সালের ইউরো সেমিফাইনালে যুগোস্লাভিয়ার কাছে হারার পর পরবর্তী ২২ বছর তারা কোনো সেমিফাইনাল দেখেনি। এই দীর্ঘ সময়ে তারা দুটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরো কাপের মূল পর্বেও কোয়ালিফাই করতে পারেনি।
  • ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ (আবারও ২২ বছরের অপেক্ষা): ১৯৯৬ সালের ইউরোর পর আবারও ২২ বছর কেটে যায় সেমিফাইনালের মুখ দেখতে। এই সময়টি ছিল হৃদয় ভাঙার গল্পে ভরা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ওয়েইন রুনির লাল কার্ড এবং দুই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিদায়।
  • অন্যান্য বিপর্যয়: ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোনালদিনহোর সেই অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিকে গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যানের পরাস্ত হওয়া কিংবা ২০০৮ সালের ইউরো কাপে কোয়ালিফাই করতেই ব্যর্থ হওয়া।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের আগের ৬৮ বছরে ইংল্যান্ড মাত্র একবার ফাইনালে (১৯৬৬) এবং তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছিল, যার মধ্যে দুটি ছিল নিজেদের মাটিতে। এমনকি ইংল্যান্ডের তথাকথিত ‘সোনালী প্রজন্মও’ কোয়ার্টার ফাইনালের গেরো টপকাতে পারেনি।

একবিংশ শতাব্দীর নতুন ইংল্যান্ড

বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইংল্যান্ড দল এখন এমন এক ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যার কাছাকাছি আগের কোনো দল যেতে পারেনি। আজকের একজন কিশোর ইংলিশ সমর্থক তার জীবনে ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্টের শেষ দিক পর্যন্ত খেলা ছাড়া আর কিছুই দেখেনি। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে তারা দুটি ফাইনাল এবং দুটি সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেট ইংল্যান্ডকে টানা দুটি ইউরোর ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন (২০২১ সালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে এবং ২০২৪ সালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হার)। আর এখন বর্তমান কোচ থমাস টুখেলের ওপর দায়িত্ব এসেছে দলকে সেই অধরা শিরোপার শেষ ধাপটি পার করানোর।

শুধু ছেলেদের দলই নয়, ইংল্যান্ডের মেয়েদের দলও (লায়োনেস) টানা দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে এবং ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়েছে। আগামী দুই বছর পর নিজেদের মাটিতে ছেলেদের ইউরো কাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়—ইংল্যান্ড ফুটবলের এই জয়রথ এখনই থামছে না।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর সেমিফাইনাল – বড় তারকা আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ একের পর এক নাটকীয়তা ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়ে এবার শেষ চারে এসে পৌঁছেছে। বিশ্বমঞ্চের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট থেকে আর মাত্র দুটি জয় দূরে দাঁড়িয়ে আছে চারটি পরাশক্তি দেশ, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের এই মঞ্চে সামান্যতম ভুলেরও কোনো সুযোগ নেই। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দলের এই হাইভোল্টেজ লড়াই নিয়ে তৈরি করা গাইডলাইনটি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. এমবাপ্পে বনাম ইয়ামাল: ইউরোপের দুই পরাশক্তির দ্বৈরথ

ফ্রান্স বনাম স্পেন

  • ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম
  • সময়: বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ( ১টা)

ম্যাচের মূল আকর্ষণ:

ইউরোপের অন্যতম সেরা দুটি স্কোয়াড মুখোমুখি হওয়ায় এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ক্লাসিক ম্যাচ হওয়ার সব উপাদান নিয়ে অপেক্ষা করছে।

মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে আবারও মূল নায়ক ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গেছেন তিনি, যা তাঁকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল পেছনে রেখেছে।

তবে ফ্রান্সের আসল শক্তি হলো তাদের পুরো স্কোয়াডের গভীরতা। কোয়ার্টার ফাইনালে উসমান দেম্বেলে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের গোলসংখ্যা পাঁচে নিয়ে গেছেন। এছাড়া কোচ দিদিয়ের দেশমের দলের হয়ে মাঝমাঠে দারুণ সৃজনশীলতা দেখিয়েছেন মাইকেল অলিস, যিনি ৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে আছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতা স্পেনের বিরুদ্ধে এই দলীয় শক্তি ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে।

স্পেনের সেরা ফুটবল এখনো দেখা বাকি বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ল্যামিন ইয়ামাল এখনো বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। বার্সেলোনার এই উইঙ্গার গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল করেছেন। এছাড়া চার গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল গত দুই ম্যাচে কোনো গোল পাননি। ফলে নকআউট পর্বে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয় পেতে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া ইয়ামাল সেমিফাইনালের এই বড় মঞ্চেই নিজের প্রতিভার সবটুকু ঢেলে দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ২০১০-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:

  • ব্রাজিলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফ্রান্স এবার তাদের ৮ম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলবে। তাদের চেয়ে বেশি সেমিফাইনাল খেলেছে কেবল জার্মানি (১২ বার)।
  • স্পেন তাদের ইতিহাসের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারার পর থেকে তারা গত ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত (২৭ জয় ও ৯ ড্র)।
  • বিশ্বকাপে এটি এই দুই দলের মাত্র দ্বিতীয় দেখা। এর আগে ২০০৬ সালের আসরে শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও ফ্রান্স ৩-১ গোলে জিতেছিল।

২. পুরোনো শত্রুতার নতুন অধ্যায়: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ঐতিহাসিক লড়াই

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

  • ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম
  • সময়: বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা।

ম্যাচের মূল আকর্ষণ:

২০১৮ সালের পর এটি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। তবে থ্রি লাইন্সদের ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

এটি আবেগ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঠাসা এক ম্যাচ, ঠিক ৪০ বছর আগে মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা একাই ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করেছিলেন। এবার আর্জেন্টিনার ডাগআউটে আছেন আরেক সুপারস্টার ‘নম্বর ১০’ লিওনেল মেসি। মেসি এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি, আর প্রথমবার মুখোমুখি হওয়ার জন্য বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বমোট সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া মেসি বর্তমানে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে সমান ৮টি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন।

তবে ইংল্যান্ডের দলেও আছেন তাদের নিজস্ব আইকনিক ‘নম্বর ১০’ জুড বেলিংহাম। গত দুটি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই তিনি দুটি করে গোল করেছেন, ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই কীর্তি গড়লেন। অন্যদিকে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনও সতীর্থ বেলিংহামের সমান ৬টি গোল নিয়ে দারুণ ফর্মে আছেন।

চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলই এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ ছন্দে ফুটবল খেলতে পারেনি; বরং নকআউট পর্বে কঠোর লড়াই ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে এনে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই বুধবারে থমাস টুখেলের শিষ্যদের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি থাকলেও ম্যাচটি যে একটি স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:

  • ২০১৮ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে চারবার সেমিফাইনালে উঠেছে, যা ২০১৮ সালের আগের পুরো ইতিহাসে তাদের মোট সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ডের সমান।
  • ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে জয়লাভ করেছে, যা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এক আসরে তাদের দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।
  • থমাস টুখেল ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত রইলেন। এর আগে ১৯৬৬ সালে অ্যালফ রামসের এই একই রেকর্ড ছিল (৫ জয়, ১ ড্র)।
  • আর্জেন্টিনা গত চার আসরের মধ্যে তিনবার (২০১৪, ২০২২, ২০২৬) সেমিফাইনালে পৌঁছাল। ২০১৪ সালের আগে ১৯৯০ সালের পর তারা আর সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি।

বিশ্বকাপে লামিনের সেরা পারফরম্যান্স এখনও দেখা বাকি-ফুয়েন্তের বিশ্বাস

নিজের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে এখনও পুরোপুরি আলো ছড়াতে পারেননি লামিন ইয়ামাল। তবে মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করছেন এই তরুণ স্প্যানিশ তারকা। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, বিশ্ব মঞ্চে ইয়ামালের সেরা পারফরম্যান্স এখনও দেখা বাকি।

এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা সুখকর ছিল না ইয়ামালের জন্য। চোটের কারণে আসরের প্রথম দিকে খুব বেশি সময় খেলতে পারেননি তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ দিকে মাঠে নামানো হয় তাকে। পরে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলেন কেবল প্রথমার্ধ, আর সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।

বর্তমানে পুরোপুরি ফিট ইয়ামাল। সবশেষ দুই ম্যাচেই খেলেছেন পূর্ণ সময়। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন এবং মাঝেমধ্যে তার স্বাভাবিক প্রতিভার ঝলকও দেখা যাচ্ছে। তবু এখনও নিজের সেরা রূপে পৌঁছাতে পারেননি বলে মনে করছেন অনেকেই।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে একটি গোলই করেছেন ইয়ামাল, অ্যাসিস্টের খাতা এখনও খোলা হয়নি। তবে স্পেনের সেমিফাইনালে ওঠার পথে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তাকে থামাতে প্রতিপক্ষকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হওয়ায় সুবিধা পেয়েছেন স্পেনের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে কাদেনা এসইআর কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামালকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপে লামিনের সেরা পারফরম্যান্স এখনও আসা বাকি। সে প্রচণ্ড অনুপ্রেরণা নিয়ে খেলে। তার মধ্যে দারুণ আগ্রহ ও ক্ষুধা আছে। আমাদের শুধু তার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে অতিরিক্ত চাপ তাকে প্রভাবিত না করে।”

স্পেন কোচ আরও বলেন, ‘এটি অভিজ্ঞতা অর্জন ও পরিপক্ব হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এমবাপে ও হলান্ডও কয়েক বছর আগে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। লামিন এখন সেই পথেই আছে। বিশ্বকাপের বাকি সময়টায় সে এমন কিছু করবে, যা সবার মনে ইতিবাচক ছাপ ফেলবে।’

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামাল। সেই টুর্নামেন্টে একটি গোলের পাশাপাশি করেছিলেন চারটি অ্যাসিস্ট এবং জিতেছিলেন আসরের সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার। এবার বিশ্বকাপেও তার কাছ থেকে আরও বড় কিছুর প্রত্যাশায় স্পেন শিবির।

‘বাজবল’ যুগের উত্থান ও পতন – রোমাঞ্চ আর খামখেয়ালিপনার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

0

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটল ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের বহুল আলোচিত ‘বাজবল’ যুগের। জুলাইয়ের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসর নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। আর তার ঠিক দুই সপ্তাহ পর, গত রবিবার, ৯টি টেস্টের ৭টিতেই পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে বরখাস্ত হন প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

অধিনায়ক স্টোকস এবং কোচ ম্যাককালামের জুটিতে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে যেমন রোমাঞ্চের চূড়ায় ভাসিয়েছে, তেমনি ভক্ত ও ক্রিকেট পণ্ডিতদের ক্ষোভের কারণও হয়েছে। এই আগ্রাসী খেলার ধরন ক্রিকেট বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করলেও, এটি যে অত্যন্ত স্মরণীয় ছিল তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ম্যাককালামের ৪ বছরের মেয়াদে ‘ব্যাবজল’ যুগের সেই ভালো ও মন্দের সেরা কিছু মুহূর্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বেয়ারস্টোর টর্নেডো ও বাজবল যুগের শুরু (জুন ২০২২)

জনি বেয়ারস্টো তাঁর ম্যাচ জেতানো ইনিংসে সাতটি ছক্কা এবং ১৪টি চার মেরেছিলেন।

পূর্ববর্তী ১৭টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয় পাওয়া এক বিধ্বস্ত দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাককালাম ও স্টোকস। লর্ডসে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শুরুটা ভালোই হয়েছিল, কিন্তু ট্রেন্ট ব্রিজের দ্বিতীয় টেস্টেই বোঝা যায় এই দল আসলে কী করতে চায়।

খেলার পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ৭২ ওভারে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ২৯৯ রান। ৯৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ম্যাচ ড্র হওয়াই একমাত্র নিয়তি মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাজিক দেখান জনি বেয়ারস্টো। মাত্র ৭৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি (যা গিলবার্ট জেসপের করা ইংল্যান্ডের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ১ বল বেশি)। বেয়ারস্টো ৯২ বলে ১৩৬ রান করে আউট হলেও স্টোকস ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২২ ওভার বাকি থাকতেই অবিশ্বাস্য জয় পায় ইংল্যান্ড।

২. ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া (জুলাই ২০২২)

জনি বেয়ারস্টোর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১১৪ রান করেন। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১০৬ রান।

নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার এক মাসের মধ্যেই আরেকটি ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে পুনর্নির্ধারিত পঞ্চম টেস্টে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৮ রান। টেস্ট ইতিহাসে ইংল্যান্ড কখনো এত রান তাড়া করে জেতেনি।

১০৭-০ থেকে আচমকা ১০৯-৩ হয়ে গেলে ম্যাচ কঠিন রূপ নেয়। কিন্তু জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর মধ্যে ২৬৯ রানের এক অবিচ্ছিন্ন মহাকাব্যিক জুটি ম্যাচটি সহজ বানিয়ে দেয়। রুট ১৪২* এবং বেয়ারস্টো ১১৪* (ম্যাচের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি) রানে অপরাজিত থাকেন। প্রতি ওভারে ৫-এর বেশি রান তুলে ২০০৭ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের প্রথম সিরিজ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয় তারা।

৩. রাওয়ালপিন্ডির ঐতিহাসিক জয় (ডিসেম্বর ২০২২)

রাওয়ালপিন্ডির আবছা আলোয় নাসিম শাহকে আউট করে জ্যাক লিচ জয় নিশ্চিত করেছিলেন।

ম্যাককালামের অধীনে এটিই ছিল প্রথম বিদেশ সফর এবং সম্ভবত সবচেয়ে স্মরণীয়। ১৭ বছর পর পাকিস্তানে খেলতে গিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই টেস্ট রেকর্ড ৫০৬-৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৩৬.৫ ওভারে ৬.৭৩ রান রেটে তারা মোট ৯২১ রান সংগ্রহ করে।

পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে রোমাঞ্চকর এক জয় পায় ইংলিশরা। জেমস অ্যান্ডারসন ও অলি রবিনসন রিভার্স সুইংয়ের জাদুতে ৪টি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন। শেষ উইকেটে নাসিম শাহকে জ্যাক লিচ এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড। পরবর্তীতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় তারা।

৪. ওয়েলিংটনে মাত্র ১ রানের হৃদয়বিদারক হার (ফেব্রুয়ারি ২০২৩)

টম ব্লান্ডেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে চার রানে আউট হন জেমস অ্যান্ডারসন।

১১ টেস্টে ১০ জয় নিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছিল ব্যাবজল। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে রুট ও হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ৪৩৫-৮ রান তুলে কিউইদের ফলো-অন করায় ইংল্যান্ড। কিন্তু কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৮ রান।

৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটিকে টেনে তোলেন রুট ও স্টোকস। কিন্তু তারা ফেরার পর বেন ফোকস জয়ের একদম কাছে নিয়ে গিয়ে আউট হন। শেষ উইকেটে যখন মাত্র ২ রান বাকি, নেইল ওয়াগনারের একটি শর্ট বল অ্যান্ডারসনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপারের হাতে চলে যায়। মাত্র ১ রানের এই অবিশ্বাস্য হার টেস্ট ইতিহাসে এক চরম ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে।

৫. অ্যাশেজের বিতর্কিত ডিক্লারেশন বা ইনিংস ঘোষণা (জুন ২০২৩)

ইংল্যান্ড যখন ৭৮তম ওভারের শেষে ইনিংস ঘোষণা করে, ততক্ষণে জো রুট ১১৮ রানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাবজলের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা ছিল ২০২৩ সালের অ্যাশেজ। এজবাস্টনে ম্যাচের প্রথম বলেই প্যাট কামিন্সকে চার মেরে জাক ক্রলি ম্যাচের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। জো রুটের ১১8 রানের ওপর ভর করে প্রথম দিনেই ইংল্যান্ডের রান যখন ৩৯৩-৮, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে ইনিংস ঘোষণা (Declare) করেন অধিনায়ক স্টোকস।

উদ্দেশ্য ছিল দিনের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট তুলে নেওয়া। কিন্তু সেই জুয়া কাজে লাগেনি। অস্ট্রেলিয়া কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন পার করে এবং শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতে নেয়। অনেকেই মনে করেন, ওই সময়ে আরও ২০-৩০টি রান করলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

৬. শর্ট বলের ফাঁদ এবং ম্যানচেস্টারের বৃষ্টি (জুলাই ২০২৩)

ওল্ড ট্রাফোর্ডে বৃষ্টির কারণে খেলা শেষ হওয়ার আগে, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৫ উইকেটে ২১৪, এবং তখনও তারা ইংল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।

লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টটি মনে রাখা হবে বেয়ারস্টোর বিতর্কিত স্টাম্পিং এবং লর্ডসের দর্শকদের নজিরবিহীন ক্ষোভের জন্য। তবে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ১৮৮-১ রান নিয়ে দারুণ অবস্থানে থেকেও অস্ট্রেলিয়ার স্পষ্ট পাতা ‘শর্ট বল’ (Short-ball) ফাঁদে পা দিয়ে একে একে উইকেট বিলিয়ে ৩২৫ রানে অলআউট হয়। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতে ২-০ তে এগিয়ে যায়।

হেডিংলিতে ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিনে মাত্র ৩০ ওভার খেলা সম্ভব হয় এবং পঞ্চম দিন পুরোপুরি ধুয়ে যায়। ফলে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় এবং অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ নিজেদের কাছে রেখে দেয়।

৭. হায়দরাবাদের রূপকথা (জানুয়ারি ২০২৪)

হায়দরাবাদে ইংল্যান্ড ৪২০ রানে অলআউট হওয়ার আগে, ওলি পোপের ১৯৬ রানের ইনিংসটিই ছিল দলের মোট রানের প্রায় অর্ধেক।

ম্যাককালামের আমলের সেরা অ্যাওয়ে জয় বলা যায় এটিকে। ভারতের মাটিতে প্রথম ইনিংসে ১৯০ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের হার সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু ওলি পোপ তাঁর জীবনের সেরা ইনিংস খেলে ১৯৬ রান করেন।

জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৩১ রান। কিন্তু অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার টম হার্টলির ৬২ রানে ৭ উইকেটের অবিশ্বাস্য স্পেলে ভারত মাত্র ২০২ রানে গুটিয়ে যায়। ২৮ রানের এক রূপকথার জয় পায় ইংল্যান্ড। যদিও ভারত পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজটি জিতেছিল।

৮. মুলতানে ব্রুকের ট্রিপল সেঞ্চুরি ও ৮০০ রান (অক্টোবর ২০২৪)

মুলতানে হ্যারি ব্রুক ৩২২ বলে ৩১৭ রান করেছিলেন।

ভারতে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের মুলতানে আবারও স্বরুপে ফেরে ব্যাবজল। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রান করলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা তার জবাবে ৭ উইকেটে রেকর্ড ৮২৩ রান তোলে (১৯৩৮ সালের পর তাদের সর্বোচ্চ)।

জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের মধ্যে ৪৫৪ রানের ঐতিহাসিক জুটি গড়ে ওঠে। রুট করেন ২৬২ রান এবং ব্রুক ৩৪ বছর পর প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩১৭ রান) করার কীর্তি গড়েন। ইংল্যান্ড ম্যাচটি ইনিংস ব্যবধানে জিতলেও, পাকিস্তান পরের দুটি টেস্টে স্পিন ট্র‍্যাক বানিয়ে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।

৯. ওভালের ক্লাসিক ম্যাচে ভারতের জয় (আগস্ট ২০২৫)

ক্রিস ওকস তাঁর সম্ভাব্য শেষ টেস্ট ইনিংসে ঝুলন্ত ব্যান্ডেজ বা স্লিং (sling) বেঁধে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন।

২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও ব্যাবজল নিয়ে সংশয় কাটছিল না। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওভালে পঞ্চম টেস্টে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ৩৭৪ রান। একপর্যায়ে রুট ও ব্রুকের দ্বিশতক ছোঁয়া জুটিতে ইংল্যান্ড ৩০১-৩ রান তুলে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল।

কিন্তু ১১১ রান করে ব্রুক একটি আলগা শট খেলে আউট হতেই খেলার মোড় ঘুরে যায়। রুট ১০৫ রান করে ফিরলে ম্যাচ পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে। শেষ দিনে জয়ের জন্য ৩৫ রান বাকি থাকতে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। ক্রিস ওকস ভাঙা হাত নিয়ে স্লিং বেঁধে বীরত্বের সাথে ব্যাট করতে নামলেও মোহাম্মদ সিরাজের তোপে ভারত মাত্র ৬ রানে ম্যাচটি জিতে নেয়।

১০. অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ বিপর্যয় (ডিসেম্বর ২০২৫)

অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের এই পরাজয়টি ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা ১৮টি টেস্টে তাদের জয়হীন থাকার রেকর্ড।

বাস্তবে না হলেও, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এই সিরিজটিই ‘ব্যাবজল’ যুগের শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। পার্থের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১২৩-৯ রানে আটকে দিয়ে এবং নিজেরা ১০০ রানের লিড নিয়েও মাত্র ২ দিনে ম্যাচটি হেরে যায় ইংল্যান্ড। তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ৬৫-১ থেকে মাত্র ৮৮ রানে ধসে পড়ে।

ব্রিসবেনের দিবা-রাত্রির টেস্ট এবং অ্যাডিলেডেও ইংল্যান্ড খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকা বোলারদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সহজে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করে। মেলবোর্নে ১৫ বছর পর সান্ত্বনার এক জয় পেলেও তা ম্যাককালামের চাকরি বাঁচাতে যথেষ্ট ছিল না।

২০২৬ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোম সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ইসিবির। বরখাস্ত করা হয় ম্যাককালামকে। সাদা বলের দায়িত্বে তিনি থেকে গেলেও, টেস্ট ক্রিকেটে বিনোদনের সুনামি আনা ‘ব্যাবজল’ অধ্যায়ের অবসান ঘটল একরাশ হতাশা আর শূন্যতা দিয়ে।

উত্থানের গল্প থেকে ধ্বংসস্তূপে – যেভাবে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের চাকরি হারালেন ম্যাককালাম

0

চার বছর আগে যখন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন, তখন ইসিবির ক্রিকেট মহাব্যবস্থাপক রবের্ট কি ক্রিকেটপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “সবাই সিটবেল্ট বেঁধে নিন, এক রোমাঞ্চকর রাইডের (ভ্রমণ) জন্য প্রস্তুত হন।” শুরুটা সত্যিই রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নের পথ ধরে চলা ‘রাইড’ আজ গিয়ে ঠেকেছে এক চরম ধ্বংসস্তূপে। রবিবার (১২ জুলাই) লাল বলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ম্যাককালামকে।

কিন্তু কীভাবে একটি সফল এবং আলোচিত অধ্যায়ের এমন করুণ পরিণতি হলো? ক্রিকেট বিশ্লেষক স্টিফেন শেমিল্টের মতে, পর্দার আড়ালে অনেক ছোট-বড় ঘটনা থাকলেও, মূলত একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তেই সবকিছু তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল।

পার্থের সেই অভিশপ্ত শনিবার: পতনের শুরু

অ্যাশেজের সঠিক পরিকল্পনার অভাব, হ্যারি ব্রুকের নাইটক্লাবের বাউন্সারের সাথে ঝামেলা, কিংবা অতি সম্প্রতি সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রাতের ঘটনা, সবকিছুই ফিকে হয়ে যায় সাত মাস আগের পার্থ টেস্টের একটি সেশনের কাছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি তখন পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয়। মাত্র একটি শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং সেশন পার করতে পারলেই ম্যাচটি জিতে যেত ইংলিশরা। কিন্তু ম্যাককালামের ডিকশনারিতে তো ‘শান্ত’ বা ‘ধৈর্য’ বলে কোনো শব্দ ছিল না! ‘বিপদের দিকে তেড়ে যাও’ এই অতি-আগ্রাসী নীতি বজায় রাখতে গিয়ে মাত্র ৯৯ রানে ৯টি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক এই ব্যাটিং ধস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দেয়, যার আফটারশক বা ধাক্কা দলটিকে আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

“ইংলিশ ক্রিকেট একসময় রোববারের দিনগুলোকে বড় বড় জয়ের জন্য মনে রাখত, যেমন ২০১৭ সালে অ্যানিয়া শ্রাবসোল কিংবা ২০১৯ সালে বেন স্টোকসের মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স। কিন্তু সাম্প্রতিক দুটি রোববার এসেছে চরম আঘাত হয়ে। দুই সপ্তাহ আগে বেন স্টোকস নিজে থেকে অধিনায়কের পদ ছেড়েছেন, আর আজ ম্যাককালামকে বিদায় করে দেওয়া হলো।”

যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ

ম্যাককালামের বিদায় এবং বেন স্টোকসের অবসরের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট আজ ঠিক ৪ বছর আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে তাদের কোনো স্থায়ী অধিনায়ক নেই এবং কোনো প্রধান কোচও নেই।

তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বরখাস্ত হলেও হোয়াইট বল বা সীমিত ওভারের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন ৪৪ বছর বয়সী এই নিউজিল্যান্ডার। এখন দেখার বিষয়, টেস্ট ক্রিকেটের এই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন কোন ত্রাতা এসে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে টেনে তোলেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগেই নতুন কোচ চায় ইংল্যান্ড: আলোচনায় একঝাঁক নাম

0

টানা ব্যর্থতার দায়ে গত রবিবার ইংল্যান্ডের লাল বলের (টেস্ট) প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গত ৯টি টেস্টের মধ্যে ৭টিতেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে ইংলিশরা। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে মরিয়া ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, নতুন কোচের জন্য ইতিমধ্যে ৬ থেকে ১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

অধিনায়ক ও কোচের শূন্যতা: এক বড় চ্যালেঞ্জ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর গত জুনের শেষের দিকে আকস্মিকভাবে টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে অবসর নেন বেন স্টোকস। ফলে এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড টেস্ট দল একই সাথে অধিনায়ক ও কোচহীন অবস্থায় আছে।

রিচার্ড গুল্ড নিশ্চিত করেছেন, বোর্ড প্রথমে প্রধান কোচ নিয়োগ দেবে। এরপর সেই নতুন কোচ, ক্রিকেট মহাব্যবস্থাপক রবের্ট কি এবং জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থের সাথে আলোচনা করে নতুন টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন করা হবে। হোয়াইট বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দায়িত্বে বহাল থাকা ম্যাককালামের সাথে সমন্বয় করে এই নতুন কোচকে ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপ সামলাতে হবে।

আগ্রাসী ক্রিকেট থেকে কি সরে আসবে ইংল্যান্ড?

ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড ‘বাজবল’ বা অতি-আগ্রাসী ঘরানার ক্রিকেট খেলে আসছিল। তবে নতুন কোচকে যে হুবহু একই ধারা বজায় রাখতে হবে, তেমনটা ভাবছেন না গুল্ড। তিনি বলেন:

“আমাদের দলে যে ধরনের প্রতিভা ও স্কিল আছে, তাতে দল স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। তবে কোচের পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে খেলার ধরনে পরিবর্তন আসতেই পারে। আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি ক্রিকেটারদের ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে পারবেন।”

অন্তর্বর্তীকালীন কোচের সম্ভাবনা

১৯ আগস্টের মধ্যে স্থায়ী কোচ নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হলে ইসিবি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার কথাও মাথায় রাখছে। কারণ সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা হাই-প্রোফাইল কোচরা বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দল, কাউন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকতে পারেন। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইংল্যান্ড দলের কোচিং করানো যাবে, এমন নমনীয় মডেলও বিবেচনা করছে ইসিবি।

সম্ভাব্য কোচের তালিকায় কারা থাকতে পারেন?

যদিও ইসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করেনি, তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিচের নামগুলো থাকার সম্ভাবনা প্রবল:

  • কুমার সাঙ্গাকারা: রাজস্থান রয়্যালসের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে দারুণ সফল এবং ইংলিশ কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে।
  • অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার: ইংল্যান্ড দলের সাবেক সফল কোচ, যার অধীনে ইংলিশরা টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করাচ্ছেন।
  • অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ: ইংল্যান্ডের সাবেক এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার বর্তমানে বোর্ডের বিভিন্ন কাঠামোর সাথে যুক্ত এবং তরুণদের প্রিয় মুখ।
  • জাস্টিন ল্যাঙ্গার: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই কোচ তাঁর কঠোর শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, যা বর্তমান ইংল্যান্ড দলের মানসিকতা বদলে দিতে পারে।
  • পল কলিংউড: এর আগেও ইংল্যান্ড দলের সাথে সহকারী ও অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রবের্ট কি-র নেতৃত্বে এখন আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে কে বসেন ইংল্যান্ডের গরম টেস্ট চেয়ারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

‘অ্যানিমেলস’, হ্যান্ড অব গড এবং বেকহ্যাম: আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বৈরিতাপূর্ণ বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৬ দশক

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ধ্রুপদী এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক চিরন্তন দ্বৈরথ, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি। একদিকে থ্রি লায়ন্সের লক্ষ্য তাদের দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানো, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। এই ম্যাচের মাধ্যমে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

১৯৬২ সালে শুরু হওয়া এই ফুটবলীয় দ্বৈরথ কেবল মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ১৯৮০-এর দশকে সংগঠিত ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে যায়, যার প্রভাব আজো গ্যালারির ফুটবল গীতিতে শোনা যায়। মাঠের লাল কার্ড, অতিমানবীয় গোল আর মহাবিতর্কের এই ছয় দশকের ইতিহাস নিয়ে বিবিসি স্পোর্টসের বিশেষ আয়োজন:

এক নজরে দুই দলের বিশ্বকাপ মুখোমুখি লড়াই

অনেকের জন্য বিস্ময়কর হলেও সত্য, বিশ্বকাপে দুই দলের মোট ৫ বারের দেখায় জয়ের দিক থেকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। তবে নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বাদ তারা বহু বছর পায়নি।

১. ১৯৬২: ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব, চিলি)

পরবর্তী ম্যাচগুলোর তুলনায় এটি ছিল বেশ শান্ত প্রকৃতির। রন ফ্লাওয়ার্স, ববি চার্লটন এবং জিমি গ্রিভসের গোলে ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা এক গোল শোধ করলেও তা সান্ত্বনা মাত্র ছিল। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ড কোয়ার্টারে যায় এবং পরবর্তীতে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

২. ১৯৬৬: ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল, ইংল্যান্ড)

এই ম্যাচটিকেই দুই দেশের চরম ফুটবলীয় বৈরিতার জন্মসূত্র বলা যায়। আজো আর্জেন্টিনা দাবি করে যে জেফ হার্স্টের করা জয়সূচক গোলটি অফসাইড ছিল এবং তাদের অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে।

ম্যাচের মাত্র ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনকে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন বহিষ্কার করলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। রাত্তিন মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ৮ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। মাঠ ছাড়ার সময় তিনি ব্রিটিশ রাণীর লাল কার্পেটে বসে পড়েন এবং কর্নার ফ্ল্যাগের ব্রিটিশ পতাকায় (ইউনিয়ন জ্যাক) হাত দেন।

ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের তৎকালীন কোচ আলফ রামসে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘অ্যানিমেলস’ (পশু) বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর খেলোয়াড়দের জার্সি বদল করতে নিষেধ করেন। এই ম্যাচের বিতর্কের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে ১৯৭০ বিশ্বকাপে ফিফা প্রথমবারের মতো হলুদ ও লাল কার্ড প্রথা চালু করে। (উল্লেখ্য, কিংবদন্তি রাত্তিন গত শনিবার ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন)।

৩. ১৯৮৬: আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল, মেক্সিকো)

ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি কেবল ফুটবল ছিল না, ছিল জাতীয়তাবাদী আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই ম্যাচেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ (Hand of God) গোল, যেখানে তিনি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান।

এর ঠিক ৪ মিনিট পর ম্যারাডোনা মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের অর্ধেক দলকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে শতাব্দীর সেরা গোলটি করেন। গ্যারি লিনেকার শেষ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও ম্যারাডোনার জাদুতে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে যায় এবং পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জেতে। ২০০৫ সালের আগে ম্যারাডোনা এই হ্যান্ড অব গড গোলের জন্য ক্ষমা চাননি, যা পিটার শিলটন আজো ক্ষমার অযোগ্য বলে মনে করেন।

৪. ১৯৯৮: আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা জয়ী) (শেষ ১৬, ফ্রান্স)

এই ম্যাচটি ডেভিড বেকহ্যামের ক্যারিয়ারের এক কালো অধ্যায়। আর্জেন্টিনার ডিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারার অপরাধে বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর আগে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও অ্যালান শিয়ারের পেনাল্টি গোলের পর মাইকেল ওয়েন এক দুর্দান্ত একক দৌড়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বিরতির ঠিক আগে হাভিয়ের জানেত্তি আর্জেন্টিনার হয়ে সমতা ফেরান।

১০ জনের দল নিয়ে ইংল্যান্ড বীরত্বের সাথে লড়াই করে এবং সল ক্যাম্পবেলের একটি গোল ফাউলের অজুহাতে বাতিল হয়। অবশেষে টাইব্রেকারে ডেভিড ব্যাটি ও পল ইন্সের পেনাল্টি মিসের কারণে ইংল্যান্ড বিদায় নেয়। এক বছর পর সিমিওনে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি রেফারিকে ফাঁদে ফেলতে অভিনয় করেছিলেন, যার কারণে হলুদ কার্ডটি লাল কার্ডে রূপ নেয়।

৫. ২০০২: আর্জেন্টিনা ০-১ ইংল্যান্ড (গ্রুপ পর্ব, জাপান)

এই ম্যাচটি ছিল ডেভিড বেকহ্যামের জন্য ‘প্রায়শ্চিত্ত ও প্রতিশোধের’। সাপোরো ডোম স্টেডিয়ামে মাউরিসিও পোচেত্তিনো বক্সের ভেতর মাইকেল ওয়েনকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বেকহ্যাম চার বছর আগের অপমানের প্রতিশোধ নেন। এই হারের ফলে আর্জেন্টিনা ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, আর ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হয়।

২০২৬: নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন ইতিহাস

২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি এই দুই দলের। ফলে দুই দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক বৈরিতার তীব্রতা কিছুটা অজানা। তবে চলতি বিশ্বকাপে টমাস টুখেলের ‘লড়াকু’ ইংল্যান্ড এবং লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার এই সেমিফাইনাল ম্যাচটি পুরোনো সব ইতিহাস, বিতর্ক আর আবেগকে আবারও ফুটবল মাঠের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্ব আরও একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায়।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই সবচেয়ে কঠিন: মেসি

বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রেখে আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ধারাবাহিক সাফল্যকে মোটেও স্বাভাবিক বলে মনে করেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পর তিনি বলেছেন, একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে থেকে একের পর এক সাফল্য অর্জন করবে- এমন ঘটনা ফুটবলে খুবই বিরল। তাই বর্তমান সময়টিকে উপভোগ করার পাশাপাশি মূল্যায়ন করাও জরুরি।

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণে তাদের সামনে শেষ চারের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‌’আর্জেন্টিনার মানুষ যেমন এই মুহূর্ত উপভোগ করছে, আমরাও তেমনই উপভোগ করছি। এই দল এমন কিছু অর্জন করেছে, যা স্বাভাবিক নয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও একই মান ধরে রাখা, সব শিরোপা জয়ের পরও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা’-এগুলো সহজ নয়। তাই এই মুহূর্তগুলো আমাদের উপভোগ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, “’আবার এমন সুযোগ কবে আসবে, আদৌ আসবে কি না, আমরা জানি না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তাই এরপর যা কিছু অর্জন করছি, সবই উপভোগ করা এবং মূল্যায়ন করা উচিত। এখন আমাদের লক্ষ্য বিশ্রাম নেওয়া, শক্তি ফিরে পাওয়া এবং সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুত হওয়া।’

সহজ ছিল না

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের প্রথমার্ধে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দলকে এগিয়ে দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান দান এনদোয়ে। এরপর সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোল এবং লাউতারো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তের গোল আর্জেন্টিনাকে নিশ্চিত করে শেষ চারের টিকিট।

গোল করার পর লিওনেল মেসি

ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম এটি কঠিন ম্যাচ হবে। এগিয়ে যাওয়ার পরও তারা আমাদের চাপে রেখেছিল। আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি, দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখতে পারিনি। বল ছাড়া আমাদের অনেক নিচে নেমে রক্ষণ সামলাতে হয়েছে। লাল কার্ডের পর ম্যাচের চিত্র বদলেছে, কিন্তু তারপরও জয় সহজ ছিল না।’

অপেক্ষায় মেসি

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়ও আছেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন তিনি। যদিও দুই দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে রয়েছে বহু স্মরণীয় অধ্যায়, বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি একক গোল এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ সম্পর্কে আমি ভিডিও ও ছবি থেকেই জেনেছি। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনো সেই স্মৃতি বাঁচিয়ে রেখেছে। তবে আমাদের এই দল প্রতিপক্ষ যেই হোক, নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ, কারণ তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। ব্যক্তিগতভাবে এটাই হবে তাদের বিপক্ষে আমার প্রথম ম্যাচ। তাই সেটিও আমার জন্য বিশেষ। তবে আমরা এটিকে বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল হিসেবেই দেখছি এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়ছে

তিন ফেডারেশনের ১৩ দল দিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে এবার ৪৮ হয়েছে। এখানেই থামছে না ফিফা। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরো বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮ হওয়াতে অনেকেই বিশ্বকাপের মান নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু নতুন আসা দলগুলো দারুণ খেলেছে। চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বড় দলগুলোকে টেক্কা দিয়েছে। এতে করে আশাম্বিত হয়ে উঠেছে বিশ্ব ফুটবল সংস্থাটি। ২০৩০ সালে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪ করা যায় কিনা সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

আগামী বিশ্বকাপ ২০৩০ সালে। বিশ্বকাপে শতবর্ষ পূরণ হবে আগামী আসরে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজন করবে। আর বিশ্বকাপের শতবর্ষ হওয়ায় একটি করে ম্যাচ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তাব উঠেছিল গত সেপ্টেম্বরে

গত বছরের সেপ্টেম্বরের ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। সংস্থাটির সভাপতি জয়িান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, এই বিশ্বকাপের পর দেশের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে অবশ্যই পরীক্ষা করা হবে এবং এ বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, এটা বিশ্বকাপ, এটা গোটা বিশ্বের জন্য। এটা শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়।

ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার প্রতি দেশের রয়েছে। সারা বিশ্বে ফুটবল খেলা দেশগুলোর মান বাড়ছে। ছোট দেশগুলোকেও বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। অন্যথায় তাদের উন্নতি করার চেষ্টায় ভাটা পড়তে পারে। তারা হতাশ হতে পারে। এতে তাদের উন্নতির মান কমে যাবে।

শুরুতে শঙ্কা ছিল

ইনফান্তিনো বলেন, ৪৮ দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনে যে শঙ্কা ছিল তা এখন আর নেই। আয়োজন শতভাগ সফল হয়েছে। অনেকেই শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তারা এখন বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।

৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিয়া আলোন্সো। পরে লাতিন আমেরিকা ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলেজান্দ্রো ডোমিঙ্গেজও প্রস্তাব সমর্থন করেন। তবে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এর বিরোধিতা করেছেন।

৪৮ দল হওয়াতে এবারের বিশ্বকাপের মেয়াদ বেড়েছে। সেই ১১ জুন শুরু হয়েছে। অনেক হাসি কান্নাকে সঙ্গী করে প্রায় ৪০ দিনের লড়াই আগামী ১৯ জুলাই শেষ হবে। তারপর আবার চার বছরের অপেক্ষা।