Home Blog Page 143

বেলজিয়ামকে হারালে স্পেনের সামনে পড়বে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের জমকালো সোফাই স্টেডিয়ামে আজ মাঠে নামছে এই দুই দল। বেলজিয়ামের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙা, কারণ চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখনও একটি গোলও হজম করেনি।

স্পেন যদি আজ জয় পায়, তবে আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসে সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। ফুটবল বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য ম্যাচটিকে “ফাইনালের আগের ফাইনাল” বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

তবে ফ্রান্সের কথা ভাবার আগে স্পেনকে অবশ্যই বেলজিয়াম বাধা পার হতে হবে। বেলজিয়াম টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা ধীরগতির হলেও ধীরে ধীরে তারা দুর্দান্ত ফর্মে ফিরেছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে রুডি গার্সিয়ার শিষ্যরা ৪-১ গোলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।

অন্যদিকে, স্পেন হয়তো ফ্রান্সের মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে না, তবে তারা সেই চেনা পজেশন-ভিত্তিক (বল দখলে রাখার) ফুটবল খেলছে, যা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাদের চ্যাম্পিয়ন করেছিল।

বার্সেলোনার তারকা লামিন ইয়ামাল, যিনি আগামী সপ্তাহে ১৯ বছরে পা দেবেন, তিনি স্পেনের আক্রমণের মূল আকর্ষণ। তবে চোটের কারণে টুর্নামেন্টে তাকে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখিয়েছে, ৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১টি গোল।

লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে থাকা ইয়ামাল আজ ফর্মে ফিরতে পারেন। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমরা জানি ল্যামিনের সেরা রূপটা এখনও এই বিশ্বকাপে দেখা যায়নি, অন্তত যে স্তরে আমরা তাকে দেখে অভ্যস্ত।”

ইয়ামালের এই অফ-ফর্মের মাঝে স্পেনের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোলসহ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি ৪টি গোল করেছেন। স্পেন রক্ষণভাগে এতটাই শক্তিশালী যে ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৬টি শট লক্ষ্যে নিতে দিয়েছে।

ধারাবাহিক উন্নতি করছে বেলজিয়াম

গ্রুপ পর্বের শুরুতে বেলজিয়ামের প্রবীণ তারকাদের দেখে কিছুটা ক্লান্ত মনে হয়েছিল। কিন্তু শেষ ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও রোমেলু লুকাকু বদলি হিসেবে নামার পর তারা ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নেয়।

এরপর শেষ ১৬-র ম্যাচে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে। সেই ম্যাচটি অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হস্তক্ষেপের কারণে বেশ আলোচনায় ছিল, যিনি আগের রাউন্ডে লাল কার্ড পাওয়া মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তি বাতিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা মাঠে ট্রাম্পের বিখ্যাত ‘YMCA’ নাচের অনুকরণ করে তাকে কিছুটা খোঁচা দেন।

বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ যেমন লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার জন্য এই বিশ্বকাপটিই সম্ভবত শেষ সুযোগ। বেলজিয়ামের কোচ গার্সিয়া বলেন, “সবাই ভাবছে আমরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি আমরা এটা করতে পারব এবং সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেব।”

অন্যান্য ম্যাচের খবর:

ইংল্যান্ড শিবিরে দুশ্চিন্তা: চার বছর আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড এবারও নতুন সমস্যায় পড়েছে। শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ডিফেন্ডার মার্ক গুয়েহি হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে অনিশ্চিত। অন্যদিকে জ্যারেল কুয়ানসাহ লাল কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকায় কোচ থমাস টুখেল নরওয়ের তারকা আর্লিং হাল্যান্ডকে আটকানোর জন্য রক্ষণভাগ সাজাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সেমিফাইনালে ফ্রান্স: বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে তার ৮ম এবং উসমান দেম্বেলে আরেকটি গোল করেন। ম্যাচের শেষদিকে এমবাপের পায়ে বরফ দিতে দেখা গেলেও তিনি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে চোট গুরুতর নয়।

ব্রাজিল আর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারবে না” আশঙ্কা ৪১ শতাংশ ফুটবল ভক্তের

ফুটবল ইতিহাসের সফলতম দল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চরম হতাশা ও সংশয় দেখা দিয়েছে খোদ ফুটবল অনুরাগীদের মনে। সাম্প্রতিক এক বিশ্বব্যাপী জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, বিশ্বের প্রায় ৪১ শতাংশ ফুটবল দর্শক মনে করেন, সেলেসাওরা (ব্রাজিল) আর কখনোই ফুটবলের সর্বোচ্চ গৌরব ‘বিশ্বকাপ’ ঘরে তুলতে পারবে না।

ফুটবল মানেই যেখানে ব্রাজিলের সাম্বা জাদু আর হলুদ জার্সির আধিপত্য, সেখানে এই বিশাল সংখ্যক দর্শকের এমন নেতিবাচক মনোভাব ফুটবল বিশ্বে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কেন এই চরম আস্থার সংকট?

ফুটবল বিশ্লেষক এবং দর্শকদের এই গণ-হতাশার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে:

  • দুই দশকের দীর্ঘ খরা: ২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) মিশন সফল করতে পারেনি তারা।
  • ইউরোপীয় পরাশক্তিদের আধিপত্য: গত দুই দশকে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনের মতো ইউরোপীয় দলগুলোর আধুনিক ও কৌশলগত ফুটবলের সামনে বারবার থমকে গেছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোগো বোনিতো’ (নান্দনিক ফুটবল)।
  • নেতৃত্ব ও ধারাবাহিকতার অভাব: নেইমার জুনিয়রের পরবর্তী প্রজন্মে ভিনিসিয়াস জুনিয়র বা রদ্রিগোর মতো বিশ্বমানের তারকা থাকলেও, জাতীয় দলে ধারাবাহিকতার অভাব এবং বড় ম্যাচে মানসিক চাপের মুখে ভেঙে পড়ার প্রবণতা দর্শকদের আশাহত করেছে।
  • ল্যাটিন আমেরিকার অন্য শক্তির উত্থান: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ল্যাটিন আমেরিকার অন্য দলগুলোর শক্তিশালী হয়ে ওঠা ব্রাজিলের জন্য পথ আরও কঠিন করে তুলেছে।

জরিপের বিস্তারিত ও দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গবেষণা সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপে বিভিন্ন মহাদেশের ফুটবল ভক্তদের মতামত নেওয়া হয়।

“ব্রাজিল সবসময়ই প্রতিভাধর খেলোয়াড় তৈরি করে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলে শুধু প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা যায় না। তাদের ট্যাকটিক্যাল ফুটবল এবং দলীয় শৃঙ্খলার অভাব স্পষ্ট। ৪১ শতাংশ দর্শক যা ভাবছেন, তা বর্তমান বাস্তবতারই প্রতিফলন।” — আন্দ্রেস সিলভা, ফুটবল বিশ্লেষক

তবে জরিপে বাকি ৫৯ শতাংশ দর্শক এখনো ব্রাজিলের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না। তাদের মতে, ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের ডিএনএ-তেই রয়েছে জয়ী হওয়ার মানসিকতা। সাময়িক খরা চললেও, সঠিক পরিকল্পনা এবং একজন দূরদর্শী কোচের অধীনে ব্রাজিল যেকোনো সময় আবার বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতে পারে।

সেলেসাওদের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

এই জরিপের ফলাফল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এবং ফুটবলারদের জন্য একটি বড় ধাক্কা ও সতর্কবার্তা। ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এবং কোটি ভক্তের মনে আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে ব্রাজিলকে তাদের খেলার শৈলী, পাইপলাইনের উন্নয়ন এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার দিকে জরুরি নজর দিতে হবে।

সাম্বা ফুটবলের জাদুকররা কি এই ৪১ শতাংশ মানুষের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে আবারও বিশ্বমঞ্চে সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারবে? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা রইল।

ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক, এবার খেললেন ফ্রান্সেরই বিপক্ষেই

ফুটবল বিশ্ব কতশত নাটকীয়তার জন্ম দেয়, কিন্তু একই বছরের ব্যবধানে এক দেশের বয়সভিত্তিক দলের অধিনায়ক থেকে অন্য দেশের হয়ে সাবেক দলের বিপক্ষে মাঠে নামার ঘটনা সত্যিই বিরল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স বনাম মরক্কোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঠিক তেমনই এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো পুরো বিশ্ব। মাত্র কয়েক মাস আগে যে ফুটবলার ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন, তিনিই এবার মাঠে নামলেন সেই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

তিনি আর কেউ নন, ফরাসি ক্লাব লিলের তরুণ মিডফিল্ড সেনসেশন আইয়ুব বুয়াদ্দি ।

ফরাসি ফুটবলের ভবিষ্যৎ থেকে মরক্কোর ‘অ্যাটল্যাস লায়ন’

আইয়ুব বুয়াদ্দির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে হলেও তার ধমনিতে বইছে মরক্কোর রক্ত। ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৬ দল থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই তিনি ছিলেন ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই ইউরো ২০২৮-এর বাছাইপর্বে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ফরাসি ফুটবল ভক্তরা তাকে দেখছিলেন জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হিসেবে।

তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে অফিসিয়াল ম্যাচ না খেলা পর্যন্ত যেকোনো ফুটবলার তার মূল জাতীয় দল পরিবর্তন করতে পারেন। ফ্রান্সের সিনিয়র দলে ডাক পাওয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেই মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন বুয়াদ্দিকে তাদের প্রজেক্টের মূল অংশ হিসেবে প্রস্তাব দেয়। নিজের শিকড়ের টানে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের নীল জার্সি ছেড়ে মরক্কোর লাল-সবুজ জার্সি বেছে নেন এই তরুণ তুর্কি।

মাত্র ১০১ দিনের ব্যবধানে ঐতিহাসিক দ্বৈরথ

ফুটবলের ভাগ্যলিপি বোধহয় এভাবেই লেখা হয়। মরক্কো জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার মাত্র ১০১ দিনের মাথায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

গতকালকের ম্যাচে যখন দুই দল মাঠে নামে, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের জন্য এটি ছিল এক অদ্ভুত দৃশ্য। যে সতীর্থদের সাথে মাত্র কয়েক মাস আগে ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন, ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন, বুয়াদ্দিকে আজ লড়তে হয়েছে তাদেরই বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে বা অরেলিয়েন চুয়ামেনির মতো বিশ্বমানের মিডফিল্ডারদের রুখে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তারই কাঁধে।

“ফুটবলে পেশাদারিত্বই শেষ কথা। ফ্রান্সের প্রতি আমার সম্মান সবসময় থাকবে, কারণ ওখানেই আমার ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠা। তবে আজ আমি মরক্কোর হয়ে মাঠে নেমেছি এবং আমার দেশের জন্য জানপ্রাণ লড়েছি।” — ম্যাচ শেষে আইয়ুব বুয়াদ্দি

বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড়

ম্যাচটি কেবল একটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি রূপ নিয়েছিল বুয়াদ্দির ব্যক্তিগত আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মঞ্চে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকদের টেবিলে এখন একটাই আলোচনা, জাতীয়তা ও ফুটবলের এই রোমাঞ্চকর দোলাচল।

একই বছরে এক দেশের অধিনায়ক থেকে অন্য দেশের হয়ে সাবেক দেশের বিরুদ্ধে খেলা এই ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। বুয়াদ্দির এই গল্প প্রমাণ করে, আধুনিক ফুটবলে সীমান্তের চেয়েও খেলোয়াড়দের আবেগ এবং শিকড়ের টান কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

লাল কার্ডের ধাক্কা সামলাতে ‘অসম লড়াইয়ের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে সুইজারল্যান্ড

মাঠের ফুটবলে যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। একটি পেনাল্টি, একটি ইনজুরি কিংবা আকস্মিক একটি লাল কার্ড পুরো দলের চেনা ছন্দকে মুহূর্তে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে নকআউট পর্ব বা বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ১০ জন বা তার কম খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ বাঁচানো যেকোনো কোচের জন্যই সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। তবে এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিকে আর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নয় সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এক অভিনব ও কঠোর কৌশল বেছে নিয়েছেন সুইস কোচ।

সম্প্রতি বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক হোসে রামন ফার্নান্দেজের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড দলের এই ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ অনুশীলনের চিত্র।

অনুশীলনে ‘ইচ্ছাকৃত’ অসম সংখ্যার লড়াই

হোসে রামন ফার্নান্দেজের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের সাম্প্রতিক অনুশীলন সেশনগুলো সাধারণ নিয়মে চলছে না। সাধারণত অনুশীলনে ১১ বনাম ১১ জনের ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করা হলেও, সুইস ফুটবলাররা মাঠে নামছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই অসম সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

অনুশীলনে কখনো দেখা যাচ্ছে মূল একাদশের ১১ জনের বিপক্ষে খেলছেন ১০ জন। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে কখনো ৯ জন, এমনকি মাত্র ৮ জন নিয়ে ১১ জনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে সুইস ফুটবলারদের।

“ম্যাচে যদি লাল কার্ডের মতো কোনো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে যেন দল কৌশলগতভাবে ভেঙে না পড়ে এবং কম খেলোয়াড় নিয়েও মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সংগঠিত ফুটবল খেলতে পারে—সেটিই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।” — হোসে রামন ফার্নান্দেজ, বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক।

কেন এই অভিনব কৌশল?

ফুটবলে লাল কার্ড বা খেলোয়াড় কমে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে অধিকাংশ দলই এমন পরিস্থিতির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে কিংবা অতিমাত্রায় চাপে পড়ে ভুল করতে শুরু করে। সুইজারল্যান্ড এখানেই নিজেদের আলাদা করতে চায়। এই বিশেষ অনুশীলনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • মানসিক দৃঢ়তা তৈরি: হুট করে একজন খেলোয়াড় কমে গেলে দলের ভেতর যে ভীতি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে ওঠা। খেলোয়াড়রা যেন ৮ বা ৯ জন নিয়েও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।
  • কৌশলগত শৃঙ্খলা (Tactical Discipline): কম খেলোয়াড় নিয়েও কীভাবে মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো (Spaces) ভরাট করতে হবে এবং বল পজেশন ধরে রাখতে হবে, তার নিখুঁত ছক তৈরি করা।
  • কাউন্টার-অ্যাটাকের ধার বাড়ানো: ডিফেন্সে লোকবল কম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে গিয়ে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়, সেই রণকৌশল রপ্ত করা।

ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড়

হোসে রামন ফার্নান্দেজের এই তথ্যটি সামনে আসার পর ফুটবল বিশ্বে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকই সুইস কোচের এই দূরদর্শিতার প্রশংসা করছেন। আধুনিক ফুটবলে যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড এবং প্রতিটি ট্যাকটিক্স গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ম্যাচের সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই দলকে এভাবে প্রস্তুত করা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অতীতে দেখা গেছে, অনেক বড় বড় দলও কেবল একটি লাল কার্ডের ধাক্কা সামলাতে না পেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। সুইজারল্যান্ড প্রমাণ করতে চায়, মাঠের লড়াইয়ে সংখ্যায় কম হলেও কৌশলে তারা কখনো কম পড়বে না।

এখন দেখার বিষয়, অনুশীলনের এই ‘অসম যুদ্ধের’ কঠিন পাঠ সুইস ফুটবলারদের আসল ম্যাচে কতটা সুবিধা দেয়। তবে এতটুকু বলাই যায়, প্রতিপক্ষ দলগুলো সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল ১১ জনের বিরুদ্ধে নয়, এক অপরাজেয় মানসিকতার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।

বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে ২য় কোয়ার্টারে আজ স্পেনের বেলজিয়াম পরীক্ষা!

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম। ১১ জুলাই, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১:০০ টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে এই হেভিওয়েট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে বিশেষ করে যারা সারা বছর রাত জেগে ইউরোপীয় ফুটবল দেখতে অভ্যস্ত তাদের কাছে এই ম্যাচটি যেন অনেকটাই ঢাকা ডার্বি ম্যাচের মত হতে পারে। বলা যায় বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে ২য় কোয়ার্টারে আজ স্পেনের বেলজিয়াম পরীক্ষা!

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিশ্বকাপে এইচ গ্রুপে কেপ ভার্দের সাথে গোল শুন্য ড্র করলেও ২য় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে আর উরুগুয়ের সাথে ১-০ গোলের জয়ে অপরাজিত থেকে রাউন্ড শেষ ৩২ এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর পর রাউন্ড অব-১৬’র ম্যাচে  রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোরের নাটকীয় গোলে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে উঠেছে। অর্থাৎ স্পেন বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচ খেলে ৪টি জয় ও ১টি ড্র করেছে কোন হার নেই আর গোল করেছে ৯টি সবচেয়ে বড় কথা তারা এখনও কোন গোল হজম করেনি।

অন্যদিকে বেলজিয়াম জি গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মিশরের সাথে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে মিশন শুরু করলেও ২য় ম্যাচেও ইরানের সাথে ১-১ গোলের ড্র করে বসে তবে নিউজিল্যান্ডের সাথে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা ৫-১ গোলের বড় জয় দিয়ে শেষ করে। আর শেষ ৩২ এ সেনেগালের সাথে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়ের পর  রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্বাগতিক যুক্তরাস্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নিত হয়েছে। মোট ৫ ম্যাচের ৩টিতে আর ২টিতে ড্র করে, গোল করেছে ১৪টি বিপরীতে গোল হজম করেছে ৬টি। বলা যায় বিশ্বকাপের উভয় দলের শুরুটা একটু স্লো হলেও সময়ের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাল উন্নতি করছে।

মুখোমুখি লড়াইঃ এখানে অবশ্য স্পেনই এগিয়ে আছে তারা ২২ টি ম্যাচের মধ্যে ১২টি জয় লাভ করেছে অপরদিকে বেলজিয়াম ৫টিতে জয় লাভ করেছে আর ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত দুই দল ২বার মুখোমুখি হয়েছে যেখানে দুপক্ষই ১টি করে জয় পেয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর পেনাল্টি শুট আউটে স্পেনকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়েছিল বেলজিয়াম। অপরদিকে ১৯৯০ বিশ্বকাপপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল স্পেন।

 দু-দেশের শক্তিঃ

স্পেন: রদ্রিগোর মতো নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এবং তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রির চমৎকার বোঝাপড়া স্পেনকে এগিয়ে রাখবে। মজার ব্যাপর হল স্পেন বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোন গোল হজম করেনি এটা তাদের আত্নবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিবে। 

বেলজিয়াম: বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি কেভিন ডি ব্রুইনা, গোলবারের নিচে থিবো কোর্তোয়া এবং দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোমেলু লুকাকু ভরসার নাম লুকাকু যিনি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে ৮টি গোল করে ম্যারাডোনা ও রিভালদোর পাশে বসেছেন। গত ৩ ম্যাচে তারা মোট ১২টি গোল করেছে।

তবে স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে একটু এগিয়ে থাকবে কারন তাদের রয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তাছাড়া তারা বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে নেমেছে আর বেলজিয়াম এখনও বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি তাদের সর্বোচ্চ সফলতা হলো ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৩য় স্থান অর্জন। তাই ম্যাচ টেম্পারমেন্ট, আত্নবিশ্বাস এবং হার না মান মানসিকতায় স্পেন এগিয়ে থাকবে, তবে বড় দলকে বিশ্বকাপে হারানোর মানসিকতা তাদের ফুয়েল জোগাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

স্পেনের হাই ডিফেন্সিভ লাইন এবং উইং আক্রমণ বেলজিয়ামের ডিফেন্সের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে বেলজিয়ামের কাউন্টার-অ্যাটাকিং স্ট্র্যাটেজি এবং লুকাকুর ফিজিক্যাল উপস্থিতিকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে স্পেনের তরুণ কুবারসি ও অভিজ্ঞ লাপোর্তের ওপর। বিশ্বকাপে মুখোমুখ লড়াইয়ের এগিয়ে যাওয়ার ম্যাচে কে জিতবে স্পেন নাকি বেলজিয়াম তার জন্য এখন শুধু অপেক্ষা। আজ ১০ জুলাই দিবাগত রাত ১ টায় ম্যাচটি শুরু হবে।  

যা জানা গেলো কিলিয়ান এমবাপ্পের ইনজুরি নিয়ে!

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ২-০ গোলের জয় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে করেন গোল। ৬৬ মিনিটের মধ্যে এই দুই গোল করে ফ্রান্স সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জল করে। আর তখনই ঘটে এক দুর্ঘটনা। আহত হন এমবাপে।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটের সময় আহত হয়ে এমবাপে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তার এই মাঠ ছেড়ে যাওয়া ফ্রান্সের সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তার ইনজুরির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জম্ম দেয়। তবে খুব বেশি ডালপালা ছড়াতে পারেনি, তার আগেই এমবাপে নিজের ইনজুরির বিষয়টি পরিস্কার করেন। তিনি জানান, তার ইনজুরি মারাত্মক কিছু নয়, ভয়ের কিছু নেই। ভালো আছেন এবং পরের ম্যাচেই মাঠে নামতে পারবেন।

চোপ সম্পর্কে এমবাপে বলেন, আমার গোড়ালিতে আঘাত লেগেছিল। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নয়। আমি ঠিক আছি। তবে ইনজুরি অবস্থায় আমার খেলার চেয়ে শেষ কয়েক মিনিট জ্য ফিলিপ মাতেতার মাঠে থাকাটাই বেশি ভালো ছিল।

ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়ছেন কিলিয়ান এমবাপে

সব মনোযোগ সেমিফাইনালে

ফ্রান্সের অধিনায়কের এখন মনোযোগ ইনজুরিতে নয়, সেমিফাইনাল ম্যাচে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচের জয়ী দল আগামী ১৪ জুলাই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।

এদিকে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের রহস্য নিয়ে কথা বলেছেন এমবাপে। তিনি বলেন, এই ফ্রান্স দল একটা তত্ত্বে বিশ্বাসী। দলের মাঝে স্বস্তি ছড়িয়ে দেওয়ার একটা মাত্র ওষুধ রয়েছে। সেটা হচ্ছে জয়। আমরা যতক্ষণ না জয়ের দেখা পাই, ততক্ষণ লড়ে যাই। জয় না পাওয়া পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ি না, প্রতিপক্ষকেও ছাড় দিই না। জয় আমাদের একমাত্র স্বস্তি।

টানা তৃতীয় ফাইনালের হাতছানি

বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স এখন রমরমা অবস্থায়। বিশেষ করে বিশ্বকাপে। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার হাতছানি ১৯৯৮ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের সামনে। ২০১৮ সালে তারা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। ২০২২ সালে তারা ফাইনালে খেলে। অল্পের জন্য শিরোপার দেখা পায়নি। তাদের সামনে থেকে শিরোপা নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ২০২৬ সালেও তাদের সামনে ফাইনাল খেলার হাতছানি। ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র একটা ধাপ বাকি। আর ২০১৮ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে বাকি মাত্র দুই ধাপ।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা, আশাবাদী কোচ দে লা ফুয়েন্তে

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন। ম্যাচটিকে চলতি টুর্নামেন্টে নিজেদের এযাবৎকালের “সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা” হিসেবে দেখছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া বেলজিয়াম অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের হারানোর অভ্যাস আছে।

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম না করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা ফেবারিটের মতোই খেলছে। আক্রমণ, রক্ষণ ও বল দখলের দারুণ ভারসাম্যের কারণে দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তবে কোচ এখনই সামনের সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবছেন না। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স ইতিমধ্যে সেমিফাইনালে চলে গেলেও, দে লা ফুয়েন্তের পুরো মনোযোগ এখন শুধুই বেলজিয়াম ম্যাচকে ঘিরে।

স্পেনের এই অভিযানে কোচের বড় ভরসা ১৮ বছর বয়সী বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল এবং টুর্নামেন্টে ৪ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল। ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি গোল করলেও, পর্তুগালের বিপক্ষে তার রক্ষণাত্মক ও পরিণত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন কোচ। তিনি আশাবাদী, সঠিক সময়ে ইয়ামাল তার আক্রমণাত্মক জাদু দেখাবেন।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় একতাকেই স্পেনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে। রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের একটি বিখ্যাত উক্তি টেনে তিনি বলেন, “যা মৌচাকের জন্য ক্ষতিকর, তা মৌমাছির জন্যও ক্ষতিকর।” অর্থাৎ, দলের স্বার্থই সবার আগে। শুক্রবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে যে দল জিতবে, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে সেমিফাইনালে তারা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।

ফাইনালে মুখোমুখি দুই চেকিয়া মুচোভা ও নাসকোভা

0

বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামডোলে অন্য সব খেলা অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে। তবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেমে নেই। চলছে উইম্বল্ডন। অনেকটা নীরবে এগিয়ে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট। শুধু তাই নয়, প্রায় শেষের পথে এগিয়ে গেছে। একেবারেই শেষ পর্যায়ে। নারী ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চেকিয়ার দুই খেলোয়াড়- ক্যারোলিনা মুচোভা ও লিন্ডা নাসকোভা। যার অর্থ উইম্বল্ডনের নারী শিরোপা এবার চেকিয়াতেই যাচ্ছে। পাশাপাশি উইম্বল্ডন পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন।

সেমিফাইনালে ক্যারোলিনা মুচোভা খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রর কোকো গাউফের বিপক্ষে। গাউফ বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। মুচোভা জয় পান ৬-২, ১-৬ ও ৭-৬ গেমে। গত ছয় বছরে চেকিয়ার চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একটু পরেই সংখ্যা পাঁচে রূপ নেয়। পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠেন নাসকোভা।

কঠিন লড়াই

কোকো গাউফের বিপক্ষে কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছে মুচোভাকে। ১-১ সেটে সমতার পর যে কেউ জয়ের হাসি হাসতে পারতো। জয় নির্ধারণী সেট গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে গফ ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট করেন। তার জোরালো ফোরহ্যান্ড শট নেটে আছড়ে পড়ে। এর পর মুচোভ একটি লব উইনার মেরে প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট পান।ঘাসে পিছলে গিয়ে পয়েন্ট হারান তিনি। তারপরেই আরও একটা ম্যাচ পয়েন্ট পান। গফকে পরিশ্রান্ত করে তুলেছিলেন তিনি। গফকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করার। এরই মাঝে পরিশ্রান্ত গফের একটি শট নেটে আঘাত করতেই ম্যাচ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন মুচোভা।

বল ফেরাচ্ছেন লিন্ডা নাসকোভা

ম্যাচের পর মুচোভা বলেন, কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু দূর্দান্ত এক ম্যাচ ছিল। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে উত্থান পতন দেখেছি। ম্যাচ পয়েন্ট পেয়ে আবার হারিয়েছি। চিন্তা ভাবনা করারই সময় ছিল না। শেষ পর্যন্ত চাপ উপেক্ষা করে সফল হয়েছি। এখন বিষয়টা বিশ্বাস হচ্ছে না। অসম্ভব এক জয় পেয়েছি।

বিশ্বের ৯ নম্বর নারী খেলোয়াড় মুচোভার এটি হবে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। এর আগে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন। তবে সাফল্যের হাসি হাসতে পারেননি। ইগা শিয়ানটেকের কাছে হেরে গিয়েছিলেন।

দুর্ভাগ্য গফের

দুর্ভাগ্য গফের। মুচোভার বিপক্ষে তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জয় ছিল তার। এদিন কাছাকাছি এসেও পারলেন না।

চেকিয়ার অন্য খেলোয়াড় নোসকোভা জয় পেয়েছেন হেসেখেলে। ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে হারান মার্তা কস্তিয়ুককে।

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের স্বপ্নে বিভোর মরক্কো

মাঠে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে মরক্কো, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে আরেকটি সমমানের বড় লড়াইয়ে নেমেছে দেশটি। আর তা হলো – ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফৌজি লেকজার নেতৃত্বাধীন রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে, তারা ইতিমধ্যে ফিফা কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের লক্ষ্য স্পেনের চেয়ে ক্যাসাব্লাঙ্কাকে ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে রাখা, অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্পেনকেই এই মেগা ম্যাচের মূল দাবিদার মনে করা হচ্ছিল।

আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সমর্থনের কারণে মরক্কোর এই প্রচারণায় দারুণ গতি এসেছে। তবে ফিফা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানানোয়, বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের এই জমজমাট রেস এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত।

আফ্রিকান ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ

ক্যাসাব্লাঙ্কা যদি শেষ পর্যন্ত ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটির আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তবে তা হবে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

  • আফ্রিকায় ‘গৌরবময়’ প্রথম ফাইনাল: এর আগে কখনো আফ্রিকান মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফলভাবে পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও ফাইনাল ম্যাচটি আফ্রিকার ফুটবল আধিপত্যের প্রতীকী গৌরব এনে দিতে পারেনি, যা মরক্কো দিতে চাইছে।
  • মরক্কোর ফুটবলের উত্থান: এই বিডটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মরক্কোর ফুটবল বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখানোর পর, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তারা প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না।

স্টেডিয়ামের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক মেগা প্রজেক্ট

মরক্কোর এই দাবি কেবল ক্যাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান ২’ স্টেডিয়ামের ওপর ভিত্তি করে নয়, যা ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে।

বরং, এই বিশ্বকাপ প্রকল্পকে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সেরা করতে মরক্কো পরিবহন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর, হোটেল এবং ক্রীড়া অবকাঠামো খাতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজন করতে পারলে তা উত্তর আফ্রিকার অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আনবে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে মরক্কোকে মহাদেশের অন্যতম প্রধান ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করবে।

হাল ছাড়তে নারাজ স্পেন

অন্যদিকে, শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্পেনও। তাদের মতে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কিংবা ভবিষ্যতের স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এর মতো আইকনিক ভেন্যুগুলোই বিশ্ব ফুটবলের এই মহোৎসবের ফাইনাল আয়োজনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।

রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, স্পেন ছাড়া অন্য কোথাও বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে, এমনটা তিনি ভাবতেই পারেন না। স্পেনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল ফিফার হাতে থাকলেও, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। একদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো যখন মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখছে, ঠিক তখনই তারা আরেকটি উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন বুনছে, যেন ঠিক চার বছর পর, গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে থাকে ক্যাসাব্লাঙ্কার সবুজ মাঠে।

নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা এখনো খুব কম: হালান্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ে মোটেও নিয়মিত নয়। দীর্ঘ দুই যুগ বা ছয় আসর পর এবার তারা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। লম্বা বিরতির পর সুযোগ পেয়ে রূপকথার মত এক যাত্রা উপহার দিচ্ছে দেশটি। তারা এরই মধ্যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। নরওয়ের এই রূপকথার চিত্রনাট্য তৈরির নায়ক একজন-আর্লিং হালান্ড। দলটির অধিনায়ক হালান্ড অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

মাটিতে পা রাখছেন হালান্ড

শনিবার মায়ামিতে নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। রূপকথা রচনা করে চললেও ম্যাচের আগে মাটিতে পা রেখে চলেছেন হালান্ড। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে তারা এখনো টিকে আছে ঠিকই তবে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

হালান্ড এরপর প্রতিপক্ষের প্রতি সমীহ রেখে যোগ করেন, বিশ্বকাপ জয়ের মতো কয়েকটি দল এখানে রয়েছে। ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে অন্যতম। আমাদের ওপর আপনাদের (সাংবাদিকদের) কোনো চাপ সৃষ্টি না করা উচিত নয়, বরং তা ইংল্যান্ডের ওপরই করা উচিত।

হালান্ড আরও বলেন, নরওয়ে যতই ভালো ফুটবল খেলুক, বিশ্বকাপের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের গভীরতায় ইংল্যান্ডই এগিয়ে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বিশেষ কিছু

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি হালান্ডের জন্য বিশেষ কিছু। কেননা ইংল্যান্ডে তার জম্ম। তাছাড়া ক্লাব ফুটবলে তিনি ইংলিশ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। খেলেন বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। সে সম্পর্কে হালান্ড বলেন, এটি অবশ্যই বিশেষ এক ম্যাচ। আমার জন্য আরও বিশেষ। কারণ আমি ইংল্যান্ডে খেলি। আমার জম্মও ইংল্যান্ডে। সেখানে আমার অনেক সতীর্থ রয়েছে, বন্ধু রয়েছে। তাই ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে।

আর্লিং হালান্ড

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি মনে করে হালান্ড বলেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলাটাই আমাদের মতো দলের জন্য অবিশ্বাস্য বিষয় ছিল। তাদের হারিয়ে আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবো। এখন আমাদের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা। এটা সত্যিই বিশেষ এক অনুভূতি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় দেশবাসী দারুণ উপভোগ করেছে। সে সম্পর্কে হালান্ড বলেন, নরওয়ের মানুষ যেভাবে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় উপভোগ করেছে তা দেখলে বোঝা যায় আমাদের জন্য এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল অবিশ্বাস্য। কেননা সবকিছুতেই তারা আমাদের থেকে এগিয়ে ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এ জয় ছিল অসাধারণ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে নরওয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে।