স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক হারের পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি হারারেতে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে। সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প দেখছে না টাইগাররা।
প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্যটি সহজ মনে হলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনেও উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট।
তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। নাহিদ রানা বলেন, শুরুতে বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিংয়ে দল প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি। তার মতে, বড় একটি জুটি গড়ে উঠলে এবং পরপর উইকেট না হারালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, সবাই নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’ নিজের ব্যাটিং প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন রানা। তিনি জানান, স্কোয়াডে থাকা প্রত্যেক ক্রিকেটারের যেকোনো সময় ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত, কারণ ম্যাচের পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।’
বোলিং প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি আরও আগে ভাঙতে পারলে বাংলাদেশ কম রানে প্রতিপক্ষকে থামাতে পারত। তিনি স্বীকার করেন, ওই সময়ে বোলারদের কিছুটা ঢিলেঢালা বোলিং হয়েছে।
এরপরও তিনি দলকে জেতানোর লক্ষ্যেই সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান। দ্বিতীয় ওয়ানডেকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী এই পেসার বলেন, প্রতিটি জয় দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়। প্রথম টেস্টে না খেলার কারণ ছিল ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, আর সামনের ম্যাচগুলোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।’
জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ৩টি ম্যাচ খেলে ৩টিতেই পরাজিত! আপনি হয়তো ভাবছেন ১টি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেললো তাহলে ৩টি ম্যাচ কিভাবে হল, তাই না? দেখুন টেস্ট ক্রিকেটে তো একটি দল ২টি ইনিংস পায় সেই দুটি ইনিংসে কি বাংলাদেশ আপ টু দ্য ম্যার্ক ব্যাটিং করতে পেরেছে? উত্তর না, টেস্ট ম্যাচে কি জয় পেয়েছে উত্তর না, আপনি যদি পারফর্ম্যান্সের বিবেচনায় ধরেন তাহলে তো ১ টেস্টে ২টি ইনিংস খেলে পরাজিত হয়েছেন তাই না? আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তো ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে অলআউট হল তাহলে ব্যাপরটা কি দাঁড়ালো? টেস্টে ২ ইনিংসের ২ ম্যাচ আর প্রথম ওয়ানডে এই হল ৩ ম্যাচ, কি মিলেছে তো? তাই ব্যাপরটা আমরা এভাবেও হিসেবে ধরে নিতে পারি যে, জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ১ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলে ৩টিতেই পরাজিত!
জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধুত্ব অনেক দিনের এত ক্রিকেট ম্যাচ জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা হয়েছে যে কথিত আছে বাংলাদেশের যখন র্যাঙ্কিং এ উন্নতি দরকার হত তখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতো ফলাফল ও হাতে নাতে পেয়ে যেত। সেই জিম্বাবুয়ে বেশ কয়েক বছর টেস্ট খেলা বাদ দিয়ে শুধু ওয়ানডে ও টি-২০ খেলেছে এখন আবার টেস্টে ফিরে এসেছে। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে এমন ভাবে পরাজিত করলো ইনিংস ও ৮৫ রানে তাতে মনে হল এই বাংলাদেশ যেন ২০০৩-২০০৪ সালের টেস্ট খেলছে। আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে যেভাবে ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে নিজেরা আবার ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে পরাজিত হল তা যেন ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে রাজ্যের বিস্ময়! নাহিদ রানা, তাসকিন যেভাবে বাংলাদেশকে জয়ের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন নাহিদ ৬ উইকেট এবং তাসকিন ২ উইকেট নিয়ে সেই সুযোগ বাংলাদেশ হেলায় হারিয়ে সিরিজ জয়ের সঙ্কায় পড়ে আজ ২য় ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে। তারপরও সব শেষ হয়ে যায়নি কারণ আজ জিতলে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের সুযোগ পাবে। আবার সামনে টি-২০ সিরিজ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের জয়ের ধারায় ফেরা দরকার আর তা হতে পারে আজকের ম্যাচ।
বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ৮২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ৫১টি আর জিম্বাবুয়ে ৩১টিতে জয় লাভ করেছে। আর দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ৪৪টি ম্যাচের ৩৩টি জয় ও ১১টি পরাজয়, জিম্বাবুয়েতে গিয়ে বাংলালেশ ৩৫টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি জয় আর ১৮টিতে পরাজিত হয়েছে। দু-দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯টি ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ১২টি আর জিম্বাবুয়ে ৭টি সিরিজ জয় লাভ করেছে। অপরদিকে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ৯টি সিরিজের মধ্যে জিম্বাবুয়ে অবশ্য ৬টি সিরিজ জিতে এইখানে এগিয়ে রয়েছে আর বাংলাদেশ ৩টি সিরিজ জিতেছে। দু-দেশের মধ্যকার চলমান সিরিজ শুরুর আগে পেসার তাসকিন বলেছিলেন যে, জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিম্বাবুয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ তাদের মাটিতে বিশেষ করে হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়েকে হারানো কঠিন, তাহলে কি তাসকিনের কথাকে বাংলাদেশ গুরুত্ব দেয়নি? জানিনা থিম ট্যাং এই সফরকে কিভাবে নিয়েছে? তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখে সকালে ব্যাটিং করেছে। ভাবটা এমন যে ওহ্ জিম্বাবুয়ে? ঠিক আছে ম্যাচ জিতিয়ে দিব! ব্যাপারটা কিন্তু এত সহজ নয়। দেখা যাক বাংলাদেশ যদি আজ জিততে পারে তাহলে সঞ্জিবনী শক্তি নিয়ে পরের ম্যাচ গুলোতে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের জন্য শুভ কামনা রইল। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে।
প্রায় এক মাস আগে ১১ জুন বাংলাদেশ সময় রাতে বেজেছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম বাঁশি। শুরু হয়েছিল ফুটবল ঘিরে এক উম্মাদনা। থামেনি এখনো, চলবে আরও কিছুদিন। তবে একটা দিন বিরতি ছিল। একদিন বিরতির পর আজ আবার শুরু হচ্ছে মহাযজ্ঞের বাকি অংশ। কোয়ার্টার ফাইনাল। তারপর সেমিফাইনাল। সবশেষে সেই কাঙ্খিত লড়াই, ফাইনাল।
কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই একেবারেই শেষের শুরু। সব মিলে আর মাত্র আটটা ম্যাচ। তারপর আবার চার বছরের বিরতি। আজ থেকে শুরু হওয়া কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা থেকে মাত্র তিন ধাপ দূরে দলগুলো। বিশ্বকাপ উঁচু করে ধরতে আর মাত্র তিনটি জয় দরকার।
১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ
গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট- সেই শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত একদিনের জন্য থামেনি বিশ্বকাপের চাকা। একটি শেষ হতেই আর একটি শুরু। টেলিভিশন দর্শকদের জন্য সাময়িক সময়ের বিরতি। উপায়ও ছিল না। বিশ্বকাপ এখন আর আগের মতো ১৬, ২৪ বা ৩২ দলে সীমাবদ্ধ নেই। বাড়তে বাড়তে ৪৮ দলে এসে থেমেছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে বিদু্যৎ গতিতে, ছাড়িয়ে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচ।
কলম্বিয়ার কান্না, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের
বিশ্বকাপ শুরু হতেই সময়ের হিসেব গিয়েছিল বদলে। দিন বা রাত নয়, সময়ের হিসাব চলছিল ম্যাচ ধরে। কোনো ম্যাচে ছিল গোলের বন্যা, কোনোটিতে গোল খরা। কোনটিতে জয়ের আনন্দ আবার কোনোটিতে বিদায়ের কান্না। কোনো ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকার টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি। আবার কোনো ম্যাচে একেবারে শেষ মুহুর্তে নিভু নিভু প্রদীপ তীব্র আলোর ঝলকানি। তার ঠিক বিপরীত দিকও ছিল। আশার আলো দপ করে নিয়ে যাওয়া।
ভুলের সুযোগ নেই
শুরুতে ভুলের সুযোগ ছিল। ভুল হলে শোধরানোরও সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ বত্রিশের লড়াই থেকে সেই সুযোগ আর নেই। কোয়ার্টার ফাইনালেও একই অবস্থা। ভুল মানেই আফসোস। ভুল মানেই বিদায়। অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই ফাইনাল। ফাইনালে যেমন জিতলে শিরোপা, হারলে হতাশা। এখানে জয় মানেই শিরোপা নয়, তবে শিরোপা জয়ের আশা বেঁচে থাকা, শিরোপার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। জয় স্বপ্নকে নিয়ে সেমিফাইনালে। আর হার শেষ করে দেবে চার বছর বা তার থেকে বেশি সময়ের প্রস্তুতিকে। শেষ হয়ে যাবে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি। স্বপ্নযাত্রার অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন। করেছেন তিন গোল। কিন্তু তাকে নিয়ে হঠাৎ দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই মরক্কোর। ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না মরক্কো। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বুধবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একটা স্বস্তির বিষয় রয়েছে। সাইবারির চোট খুব একটা গুরুতর নয়। ফলে বিশ্বকাপের বাকি অংশ তার খেলার সম্ভাবনা থাকছে।
কানাডার বিপক্ষে ইনজুরিতে
কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২২ মিনিটের মাথায় অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ম্যাচ শেষে করা পরীক্ষার পর সোমবার এমআরআই রিপোর্টে জানা যায়, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছে। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।
ওয়াহবি বলেন, সাইবারি ছাড়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সবাই প্রস্তুত। এই ম্যাচটি সাইবারির জন্য দ্রুত চলে এসেছে। তবে আশা করছি সে পরবর্তীতে খেলতে পারবে এবং শতভাগ ফিট হয়ে ফিরে আসবে।
সাফল্যের কারিগর ছিলেন সাইবারি
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পান তিনি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন সাইবারি।
নকআউট পর্বেও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন সাইবারি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেননি, তবে টাইব্রেকারে মরক্কোর পক্ষে শেষ শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে শেষ ষোলোতে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কারও এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন সাইবারি। ১ জুলাই ৫ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন ছেড়ে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে আশরাফ হাকিমির পর মরক্কোর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামের ফুটবলার হয়ে উঠেছেন তিনি।
সাইবারির পরিবর্তে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন সুফিয়ান রহিমি। ফ্রান্সের বিপক্ষেও আক্রমণের দায়িত্ব তার কাঁধেই উঠতে পারে। তবে একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বড় সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ কোচ ওয়াহবি। তার বিশ্বাস পুরো স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, অনেকদূর যেতে হলে পুরো দলকেই প্রয়োজন। যারা প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না, তারাও জানে শেষ দিকে নেমে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের আছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি আছে মাত্র দুটি দলের। প্রথমে ভিতোরিও পোজোর ইতালি, এরপর পেলে-গারিঞ্চার ব্রাজিল। সেই তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ এখন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইতোমধ্যেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর মাত্র তিনটি জয় পেলেই চতুর্থ বিশ্বকাপের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এই কাজটি কতটা কঠিন। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। এরপর ১৯৩৮ সালে ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আজ্জুরিরা।
ইতালির সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। চার বছর পর ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৪ বছর। বিশ্বফুটবলে বহু পরাশক্তি এসেছে, অনেক দল ফাইনাল খেলেছে, কিন্তু কেউই শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল। কিন্তু লুসাইল স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। এর আগে ১৯৯০ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাও ১৯৮৬ সালের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পেয়েছিল। তবে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।
এবার সেই ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ মেসিদের সামনে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা যদি আরও তিনটি ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে ইতালি ও ব্রাজিলের পাশে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজাত এক ক্লাবে।
বিশ্বকাপ ৪৮ দল থেকে নেমে এসেছে ৮ দলে। চরম নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে শেষ ষোলর শেষ লড়াই। বিশ্বকাপে স্মার্ট ফুটবল খেলতে থাকা ফ্রান্স রাউন্ড অব ৩২’তে সুইডেনকে ৩-০ এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়ের সাথে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। অপরদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ৩২’তে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ (নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতা) ব্যবধানে এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে। শক্তি ও র্যাঙ্কিং এর বিচারে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল হবে কৌশলের লড়াই।
টেকনিক্যাল তুলনাঃ
তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগে এগিয়ে থাকবে ফ্রান্স, অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দ্রুত ট্রানজিশনে এগিয়ে মরক্কো। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ ফ্রান্সের জন্য টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ফ্রান্স বনাম মরক্কোর খেলাকে যদি ৬টি বিভাগে ভাগ করে দেখবো কে কোন বিভাগে এগিয়ে রয়েছে।
১. আক্রমন ভাগঃ
আক্রমন ভাগে যদি ফ্রান্স ৫ তারকা পায় তাহলে মরক্কো পাাবে ৪ তারকা তাহলে আক্রমন ভাগে ফ্রান্স এগিয়ে থাকছে।
২. মাঝ মাঠেঃ
মাঝ মাঠে ফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আবার মরক্কোও পাবে ৪ তারকা তাহলে এই বিভাগে উভয় দল সমান অবস্থানে থাকবে।
৩. রক্ষন ভাগঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা তাহলে রক্ষণভাগে মরক্কো এগিয়ে থাকবে।
৪.কাউন্টার অ্যাটাকঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা অতএব কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কো এগিয়ে থাকছে।
৫. স্কোয়াড গভীরতাঃ এ খানে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে মরক্কোর ৪ তারকার তুলনায়।
৬. বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাঃ এই বিভাগে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে তার বিপরীতে মরক্কো ৪ তারকা তার মানে এখানেও ফ্রান্স এগিয়ে থাকবে।
উপরের ৬ বিভাগের মধ্যে ফ্রান্সকে দেখতে পাচ্ছি ১, ৫ এবং ৬ নম্বর এই ৩টি বিভাগে এগিয়ে রয়েছে অপরদিকে মরক্কো ৩ এবং ৪ নম্বর বিভাগে এগিয়ে থাকছে। অন্যদিকে ২ নম্বর বিভাগে উভয় দলই সমান অবস্থানে রয়েছে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখতে হবে।
ফ্রান্সের শক্তিঃ কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের কারণে ফ্রান্সের উইং আক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। আবার যেমন আক্রমনে বৈচিত্র-উইং, কাট-ইন, থ্রু বল এবং লংশট বেশ চমৎকার। আবার সাইড বেঞ্চ অনেক শক্তিশালী যা ম্যাচের শেষ ভাগেও আক্রমনের গতি ধরে রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ধারাবাহিক জয়ে তারা আত্নবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে যা ম্যাচে টনিক হিসেবে কাজ করবে।
মরক্কোর শক্তিঃ মরক্কোকে বলা হয়বিশ্বের অন্যতম সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ইউনিট। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত রক্ষণে ফিরে যেতে পারে। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির ওভারল্যাপ উইং থেকে আক্রমণ বড় ভুকিমা রাখেতে পারে, তাছাড়া মিডফিল্ডে বল দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে পারে, যার প্রমান মরক্কো দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে।
মূল দ্বৈরথঃএমবাপ্পেবনামহাকিমির মধ্যে সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াইটা হতে পারে। ফ্রান্সের উইং আক্রমণ বনাম মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাগ। মরক্কো যদি মাঝমাঠে ফ্রান্সের গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সম্ভাব্য কৌশলঃ
ফ্রান্সের ফরমেশনঃ ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১। তাছাড়া দ্রুত উইং পরিবর্তন এবং এমবাপ্পেকে স্পেসে বল দেওয়া এবং শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং ফ্রান্সের আক্রমনের অনন্য দিক।
মরক্কোর ফরমেশনঃ ৪-১-৪-১ এবং ৪-৩-৩ তবে ১ম ফরমেশনের সাথে ফ্রান্সের ২য় ফরমেশন মিলে যেতে পারে। তাছাড়া মরক্কোনিচু ব্লকে ডিফেন্ড করে দ্রুত কাউন্টারে যেতে পারে আবার সেট পিস থেকে গোলের সুযোগের অপেক্ষাতেও থাকে।
কাগজে–কলমে কে এগিয়ে?
ফ্রান্সতাদের আক্রমণের গভীরতা, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের মানে একটু এগিয়ে থাকবে তবে মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত ট্রানজিশনের কারণে একেবারেই একপেশে সুযোগ পাবে না ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল যে ফ্রান্সের প্রথম বড় পরীক্ষা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর যদি এটলাস লায়ন্সরা সুযোগের সৎব্যাবহার করে এগিয়ে যা তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মরক্কো যদি প্রথমে গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। আবার যদি ফ্রান্স আগে এগিয়ে যায়, তাদের আক্রমণভাগের মান বিবেচনায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সের কাছেও চলে যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় ১০ জুলাই রাত ২টায় ফুটবল প্রেমীরা একটা ক্লাসিক্যাল লড়াই দেখতে যাচ্ছে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে।
বিশ্বকাপে মিসরের গোল বাতিল নিয়ে মরিনহোর ক্ষোভ, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি’। মিসরের বাতিল হওয়া গোল, ভিএআর বিতর্ক এবং হোসে মরিনহোর মন্তব্য ঘিরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আলোচনা এখনও থামেনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে তীব্র বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কে সরব হয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহো।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকো দুর্দান্ত এক গোল করে মিসরকে সমতায় ফেরানোর আশা জাগান। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি গোলটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের বিল্ডআপে মারওয়ান আত্তিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সংঘর্ষকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপরই গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মরিনহো বলেন, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি। যদি ফাউলই হয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়ার পর আবার ফিরে গিয়ে সেটি বাতিল করা ফুটবলের জন্য ভালো বার্তা নয়।”
শুধু এই একটি সিদ্ধান্ত নয়, পুরো ম্যাচে ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মরিনহো। তাঁর দাবি, আর্জেন্টিনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত খুঁটিয়ে দেখা হলেও মিসরের ক্ষেত্রে একই ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, ‘আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে শুধু মাঠের ১১ জন ফুটবলার নয়, বাঁশি ও ভিএআরকেও হারাতে হয়।’
তবে মরিনহোর সঙ্গে একমত নন সবাই। ব্রাজিলের সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি ও বিশ্লেষক পিসি অলিভেইরার মতে, গোলের আগে মারওয়ান আত্তিয়ার ফাউল ছিল স্পষ্ট। তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং গোল বাতিল-দুটিই ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে মিসরের বাতিল হওয়া গোল, ভিএআর বিতর্ক এবং মরিনহোর কঠোর মন্তব্যই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তার চেয়ে বেশী আলোচনা-সমালোচনা হল ফাউল দেয়া ও না দেয়ার নিয়ে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে মিসর তীব্র আপত্তি তুলেছে রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে। মিসর কোচ হোসাম হাসানের দাবি ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকো যে গোলটি করেছিরেন তা অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, এবং আর্জেন্টিনা জয় সূচক গোল করার আগে ফাউল হলেও তা আমলে নেয়নি রেফারি। তবে এই দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঘাম ঝরানো আর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মেসির হাসি, সালাহর বিদায়!
ম্যাচ শেষে মিসর কোচ বলেছেন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিসরের প্রতি অবিছার করা হয়েছে। আবার রেফারিকে ‘জালিম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মিসর ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো যার একটি গোল বাতিল করেছিল ভিএআর দেখে।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষনঃ মিসরের গোল বাতিল আর আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এক যুগের বেশি সময় রেফারিং করা ও ভিএআর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস।
রেফরি ডেভিসের ব্যাখ্যাঃ
৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো একটি গোল করেন সেই গোলে মিসর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন। ভিএআরের মতে, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন। ঘটনাটি বক্সের বেশ বাইরে মিসরের অর্ধে ঘটেছিল বলে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু নিয়ম হলে একই আক্রমণ পর্বে যদি কোনো ফাউলের সরাসরি পরিণতিতে গোল হয়, তাহলে সেই গোল বাতিল করতে হয়। রেফারিকে যখন একসঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা রাখার দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত (গোল) বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে রেফারি ফাউল দেয়নি: খেলার শেষের দিকে মিসর ২টি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন করে যার একটি ঘটে যোগ করা সময়ের ২য় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনা আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ছিল।
প্রথম ঘটনা: আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি।
২য় ঘটনা: খেলার শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন তিনি যখন আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে যান তখন হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যঃ
প্রথম ঘটনায় দেখা যায় মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের সমান গতি । তাই দুটি ঘটনা এক নয়।
সারসংক্ষেপঃ ১. মিশরের বাতিল হওয়া VAR গোল খেলার ৬২ মিনিটে।
২. মিশরের দাবিকৃত পেনাল্টি VAR-এ না দেখা। খেলার শেষের দিকে মোহাম্মদ সালাহর সাথে।
এই ২টি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ম্যাচের পর বিশ্বজুড়ে সমর্থক, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক হতে দেখা যায়।
দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ড্র হলেও প্রথম ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের পঞ্চম দিনে লাঞ্চ বিরতির পর ৯ উইকেটে ২৫১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসের ৫০ রানের লিড যোগ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০২ রান। তবে জয়ের ঝুঁকি না নিয়ে স্বাগতিকরা নিরাপদ ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেয়। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ ওভারে ১০৯ রান যোগ করলে ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়। বৃষ্টির কারণে মাঝখানে কিছু সময় খেলাও বন্ধ ছিল।
ক্যাম্পবেল ১১৩ বলে ৫১ এবং কিং ১২৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে কোনো উইকেট না হারিয়েই ড্র নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ৯২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪ রান করার পর আউট হলেও দিনেশ চান্দিমাল দারুণ ব্যাটিং করেন। ১০৭ বলে ৭১ রানের ইনিংসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। অধিনায়ক ধানাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৪ এবং সোনাল দিনুশা ২৮ রান করে দ্রুত লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে মিলান রাথ্নায়াকা ২০ রানে পৌঁছানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা।
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ব্রায়ান লারার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। এরপর দুই দলের মধ্যকার সাতটি সিরিজের তিনটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা, আর চারটি সিরিজ ড্র হয়।
এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও কোনো টেস্ট সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। এরপর টানা ১০ সিরিজের মধ্যে ছয়টিতে পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল দলটির।
প্রথম টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রেভস পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।