অনেকগুলো শর্তে শুটার কলির বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হলো। নানা নাটকীয়তা ও সমালোচনার মুখে শুটার কামরুন নাহার কলির ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। অবশ্য কলির এই ফেরা আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জেরও। কারণ, শুটিং ক্যাম্পে ফেরার জন্য কলিকে মানতে হবে ফেডারেশনের একগুচ্ছ শর্ত।
বুধবার ২২ এপ্রিল শুটিং ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের জরুরি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর আজ বৃহস্পতিবার কলিকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে একাধিক শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেডারেশনের চিঠিতে বলা আছে, ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যম (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক বা অনলাইন) বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনবিরোধী বা উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত, কোচ বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে বিতর্কিত বা অবমাননাকর কোনো পোস্ট করা যাবে না।
এ ছাড়া একই সাথে যেকোনো প্রকার মিডিয়া সাক্ষাৎকার বা টক শোতে অংশ নেওয়ার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে ফেডারেশন থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। তবে এখানেই শেষ নয়, মিডিয়াতে কোনো বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে ফেডারেশন কর্তৃক নির্ধারিত মিডিয়া সেলের গাইডলাইনও অনুসরণ করতে হবে কলিকে।
আগামী তিন মাস বিশেষ পর্যবেক্ষণেও থাকবেন এই শুটার। এ সময়ে যেকোনো ছোটখাটো শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারও হতে পারেন তিনি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন দেশের শীর্ষ এই নারী শুটার।
উল্লেখ্য’ গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন দেশের তারকা শুটার কামরুন নাহার কলি। এমনকি ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে কথা বলেন তিনি। কলির সঙ্গে আরও কয়েকজন শুটারও সরব ছিলেন। তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শাস্তি পেয়েছেন কলি একাই।
তার আগে জানুয়ারিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তখন এক বছরের জন্য কামরুন নাহার কলিকে শুটিং থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুটিং ফেডারেশন। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের রোষানলের শিকার হয়েছেন বলে এই বহিষ্কারে তাঁর কোনো আফসোস নেই। বরং দেশে নতুন সরকার এলে ইতিবাচক কিছু হবে বলে আশাবাদী কলি।
কলির বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কোড অব কন্ডাক্টের ৭টি ধারায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁকে এ শাস্তি দিয়েছে ফেডারেশন। গত ২৫ জানুয়ারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানমের সঙ্গে দেখা করতে যান কলি।
