হেসেখেলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬তে স্পেন

হেসেখেলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬তে স্পেন

হেসেখেলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬তে স্পেন

উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে আরও একবার স্প্যানিশ ফুটবলের চিরচেনা ‘টিকিটাকা’ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের মহোৎসব দেখা গেল। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে হেসেখেলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬তে স্পেন জায়গা করে নিল । স্পেনের হয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল এবং অন্য গোলটি এসেছে রাইট-ব্যাক পেড্রো পোরোর মাথা থেকে। পুরো ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে কোনো সুযোগই দেয়নি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে স্পেনের তরুণ তুর্কিদের দাপট ও ডেডলক ভাঙা

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় স্পেন। মাঠের দুই প্রান্ত (ফ্ল্যাঙ্ক) এবং মাঝমাঠ ব্যবহার করে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডাররা। লামিনে ইয়ামাল (১৮ বছর ৩৫৪ দিন) এবং পাউ কুবার্সিকে (১৯ বছর ১৬১ দিন) নিয়ে মাঠে নেমে স্পেন এক অনন্য ইতিহাস গড়ে। ১৯৫৮ সালের পর স্পেনই প্রথম দল যারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে দুই টিনেজারকে নিয়ে শুরুর একাদশ সাজিয়েছে।

২৪তম মিনিটে যখন প্রথম ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ দেওয়া হয়, ততক্ষণে অস্ট্রিয়া কোনোমতে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পেরেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই কুকুরেয়া বল জালে জড়ালেও গোলরক্ষককে ফাউল করায় রেফারি তা বাতিল করেন। তবে স্পেনের আক্রমণের ঢেউ বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি অস্ট্রিয়া।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। সতীর্থদের নিখুঁত পাসিং ও চমৎকার বোঝাপড়া থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পান মিকেল ওয়ারসাবাল। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড।

অস্ট্রিয়ার কৌশল ব্যর্থ এবং পোরোর ‘হেড মাস্টার’ রূপ

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় অস্ট্রিয়া। মধ্যবিরতিতেই কোচ রালফ রাংনিক জোড়া পরিবর্তন আনেন। জাভার শ্লাগার এবং নিকোলাস সাইওয়াল্ডকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় ফলোরিয়ান গ্রিলিচ ও কার্নি চুকউয়েমেকাকে।

ম্যাচের পরবর্তী সময়ে আর্নাতোভিচ ও কালাইজিচের মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের নামিয়েও স্পেনের রক্ষণদূর্গ ভাঙা সম্ভব হয়নি। অস্ট্রিয়া মোট ৪টি পরিবর্তন করলেও স্পেন কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

অস্ট্রিয়ার ম্যাচে ফেরার সব আশায় জল ঢেলে দেন স্পেনের রাইট-ব্যাক পেড্রো পোরো। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে কুকুরেয়া বল বাড়িয়ে দেওয়ার পর বাঁ প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রস করেন অ্যালে বায়েনা। সেই বল বাতাসে ভাসতেই সঠিক সময়ে দারুণ এক দৌড়ে এসে জোরালো হেডে বল জালে জড়ান পোরো।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০তম ম্যাচে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের দেখা পেলেন এই ডিফেন্ডার, যা স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ সময়ে ওয়ারজাবালের জোড়া গোল ও ক্লিন শিটের রেকর্ড

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত স্পেনের আক্রমণ থামেনি। ৮৫তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল ডি-বক্সের ভেতর চটজলদি ঘুরে চমৎকার শট নিলেও অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।

ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করছেন মিকেল ওয়ারজাবাল

তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর রক্ষা হয়নি। বাঁ প্রান্ত থেকে কুকুরেয়ার মাপা নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে আলতো শটে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং চলতি টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন মিকেল ওয়ারজাবাল।

৩-০ গোলের এই জয়ে স্পেন কেবল মাঠেই উৎসব করেনি, একই সাথে গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড। দে লা ফুয়েন্তের দল বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার (ক্লিন শিট) কৃতিত্ব দেখাল, যা তারা সর্বশেষ অর্জন করেছিল ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মহাকাব্যে। পুরো ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে কোনো কার্যকরী সুযোগ তৈরি করতে না দিয়ে, হেসেখেলেই ম্যাচটি নিজেদের পকেটে পুরে নিল স্প্যানিশ ‘লা রোখা’রা।

Exit mobile version