কোকেন সেবনের দায়ে পাওয়া এক মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টেনিস তারকা নিক কিরগিওসের। ফলে ৩ সেপ্টেম্বর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফেরার জন্য তিনি যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি স্প্যানিশ মায়োর্কা ওপেনে পাওয়া ৬ হাজার ৫৭০ ইউরো প্রাইজমানিও হারাতে হয়েছে সাবেক বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৩ নম্বর খেলোয়াড়কে।
৩১ বছর বয়সী কিরগিওসকে গত ৪ আগস্ট সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মায়োর্কা ওপেনে অংশ নেওয়ার সময় দেওয়া নমুনায় পাওয়া যায় বেঞ্জয়লেকগোনিন-কোকেন সেবনের ফলে শরীরে তৈরি হওয়া একটি বিপাকজাত পদার্থ। তদন্তে আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সিকে (আইটিআইএ) কিরগিওস জানান, ২০ জুন ভোরে মাগালুফের একটি নাইটক্লাবে তিনি কোকেন সেবন করেছিলেন।
এর দুই দিন পর মায়োর্কা ওপেনে নিজের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলেন তিনি। স্বদেশি অ্যাডাম ওয়ালটনের কাছে সরাসরি সেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন কিরগিওস।
তদন্তের পর আইটিআইএ একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিরগিওসের কোকেন সেবনকে ‘অফ-কম্পিটিশন’ অর্থাৎ প্রতিযোগিতার বাইরের সময়ে করা হয়েছে বলে মেনে নেয়। ফলে সর্বোচ্চ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে তার শাস্তি নির্ধারিত হয় এক মাস। চিকিৎসা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শাস্তি কমানোর সুযোগও পান তিনি। কিরগিওসের সেই চিকিৎসা কর্মসূচি শুরু হয় ২৮ আগস্ট।
কোকেন বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা)-র নিষিদ্ধ তালিকায় স্টিমুল্যান্ট ও ‘সাবস্ট্যান্স অব অ্যাবিউজ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। কিরগিওসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ টেনিসের ডোপিং নীতিমালা নিয়ে তিনি আগেও সরব ছিলেন। জ্যানিক সিনার ও ইগা শিয়নটেকের ডোপিং-সংক্রান্ত মামলায় শাস্তিকে তিনি অতীতে ‘অত্যন্ত নরম’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। টেনিসের ইন্টিগ্রিটি ব্যবস্থাকেও তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর নিজের অবস্থানের বিষয়ে কিরগিওসও কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ২৮ দিনের জন্য সরে গিয়ে নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরের চোট তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও স্বীকার করেন।
হাঁটু ও কবজির অস্ত্রোপচারের কারণে দীর্ঘ সময় কোর্টের বাইরে থাকা কিরগিওসের ক্যারিয়ার এখন কার্যত পুনরুদ্ধারের লড়াই। চলতি মৌসুমে মাত্র চারটি একক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০২৩ সালের শুরু থেকে খেলতে পেরেছেন মাত্র আটটি ম্যাচ, যার মধ্যে জয় মাত্র দুটি। সর্বশেষ উইম্বলডনে আলেক্সান্ডার বুবলিকের সঙ্গে পুরুষদের দ্বৈতে খেলেছিলেন; প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেন তারা।
বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯১৮ নম্বরে নেমে গেছেন কিরগিওস। অথচ ২০২২ সালে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। সেই ফাইনালে নোভাক জোকোভিচের কাছে চার সেটে হেরে রানার্সআপ হন। ক্যারিয়ারে সাতটি এটিপি একক শিরোপা রয়েছে তার। একই বছর থানাসি কোকিনাকিসকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ দ্বৈতের শিরোপাও জিতেছিলেন।
কোর্টের বাইরের বিতর্কেও কিরগিওস দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। র্যাকেট ভাঙা, অশ্লীল শব্দ ব্যবহার ও আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কের কারণে একাধিকবার বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে সাবেক বান্ধবীকে দুই বছর আগে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছিলেন, যদিও সে ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ড হয়নি।


