বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে আবেগাপ্লুত সুইডিস তারকা । রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরছে সুইডেন। বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। নাটকীয় এই জয়ের পর উচ্ছ্বাস আর আবেগে ভাসছে পুরো সুইডিশ শিবির। আর সেই জয়ের নায়কদলের একজন গুস্তাফ লাগেরবিয়েলকে জানালেন, জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে তুলতে পারার অনুভূতি তার ফুটবল জীবনের সেরা মুহূর্ত।
পোল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচে বেঞ্জামিন নিগ্রেনের ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সুইডেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লাগেরবিয়েলকে। এরপর শেষ মুহূর্তে আর্সেনাল স্ট্রাইকার ভিক্টর গাইওকেরেসের জয়সূচক গোলই নিশ্চিত করে সুইডেনের বিশ্বকাপ যাত্রা। পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল উত্তেজনা, আর শেষ বাঁশির পর ড্রেসিংরুমে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের ঢেউ।
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাগেরবিয়েলকে বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তার ভাষায়, ভিক্টর যখন জয়সূচক গোলটি করেন, সেটিই ছিল তার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আবেগের মুহূর্ত। ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। সুইডেনের মতো একটি দলের জন্য এমন প্রত্যাবর্তন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও স্পষ্ট করে দেন এই ডিফেন্ডার।
তিনি আরও বলেন, বাছাইপর্বের শুরুটা তাদের ভালো হয়নি। প্রথম রাউন্ডে দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে সুইডেন যেভাবে খেলেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তার মতে, এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দলের ঐক্য ও মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
ম্যাচ শেষে সুইডেনের ড্রেসিংরুমে প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজের উপস্থিতিও বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে। পুরো দেশই ওই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল, সেটিও মনে করিয়ে দেন লাগেরবিয়েলকে। সুইডেনের জন্য এটি শুধু একটি কোয়ালিফিকেশন নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফেরানোর বড় ঘোষণা।
১৯৯৪ সালের পর আবারও আমেরিকান ভূখণ্ডে বিশ্বকাপ খেলবে সুইডেন। সেবার তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। এবারও তাদের সামনে বড় লক্ষ্য, অন্তত গ্রুপ পর্ব পার হয়ে আরও দূর এগোনো। পোল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়ে সেই স্বপ্ন এখন আরও বাস্তব দেখাচ্ছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















