টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে পাকিস্তান। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৬৪ রানে জিতলেই সেমিতে উঠতো তারা। কিন্তু আট উইকেটে ২১২ রান তুলে লঙ্কানদের ১৪৮ রানে থামাতে পারেনি। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মাত্র ৫ রানে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে জিতেও সুপার এইট থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। সেমিতে পা রেখেছে নিউজিল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে আজ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে ১৭৬ রানের বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়েন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। চলতি আসরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গড়া নিউজিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের রেকর্ড ১৭৫ রানের জুটিকে টপকে যান দুজনে।

এমন এক জুটি ভাঙে ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে। ফখর ৪২ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারেই সাহিবজাদা সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আউট হন। তিনি ৬০ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১০০ রান করেন। এই সেঞ্চুরির পথে তিনি টি-২০ বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক ৩৮৩ রান করার রেকর্ড গড়েন। পেছনে ফেলেন ২০১৪ বিশ্বকাপে ৩১৯ রান করে এতোদিন রেকর্ডটি ধরে রাখা বিরাট কোহলিকে।
শেষদিকে ধসের পরও পাকিস্তানের রেকর্ড
এরপরই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন। একটানা উইকেট খুইয়ে ২০ ওভারে আট উইকেটে ২১২ রান তোলে তারা। সর্বশেষ ২৬ বলে মাত্র ৩৬ রান করতেই আটটি উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। পরবর্তী আট ব্যাটারের কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। এরপরও বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় রান পেয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে এটাই পাকিস্তানের সার্বকভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০২১ সালে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় উইকেটে ২৩২ রান তাদের সেরা। শ্রীলঙ্কার বোলাররা প্রথম ১৫ ওভারে তুলোধুনো হলেও শেষ চার ওভার দুই বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন। দিলশান মাদুশঙ্কা চার ওভারে ৩৩ রানে ৩টি এবং দাসুন শানাকা চার ওভারে ৪২ রানে ২টি উইকেট নেন।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৩৩ রানেই দুই উইকেট হারায়। কামিল মিশারা ১৫ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ২৬ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়েন চারিথ আসালঙ্কা ও পবন রত্নায়েকে। আসালঙ্কা ১৮ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৫ রানে বিদায় নেন।
শানাকার অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডব
১২ ওভারে ১০১ রানেই পাঁচ উইকেট খুইয়ে ফেলে লঙ্কানরা। তখনও সেমিতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে থামাতে পারলেই সেটা সম্ভব হবে। কিন্তু পবন ও শানাকা ষষ্ঠ উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেন।

এমনকি পবন ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৮ রানে সাজঘরে ফেরার পর শানাকা তাণ্ডব চালিয়ে শ্রীলঙ্কার জন্য অসম্ভব হয়ে ওঠা জয়টাকেও হাতের মুঠোয় এনে দেন। শেষ ছয় ওভারে ৮৭ রান করেছে শ্রীলঙ্কা শুধু শানাকার টর্নেডো ব্যাটিংয়ের কল্যাণে। তিনি ৩১ বলে বলে ২টি চার ও ৮টি ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ ওভারে ২৮ রানের দরকার ছিল। শাহীনকে প্রথম বলে চার ও টানা তিন বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ২২ রান তুলে নেন শানাকা। কিন্তু শেষ দুই বলে রান নিতে পারেননি। ফলে ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ২০৭ রানে থামে শ্রীলঙ্কা। আবরার আহমেদ চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান- ২১২/৮; ২০ ওভার (সাহিবজাদা ১০০, ফখর ৮৪; মাদুশঙ্কা ৩/৩৩, শানাকা ২/৪২)।
শ্রীলঙ্কা- ২০৭/৬; ২০ ওভার (শানাকা ৭৬*, পবন ৫৮, মিশারা ২৬, আসালঙ্কা ২৫; আবরার ৩/২৩)।
ফল : পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী।]
ম্যাচসেরা : সাহিবজাদা ফারহান।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















