চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপের তৃতীয় রাউন্ডে এক ব্লকবাস্টার ম্যাচের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই হেভিওয়েট পরাশক্তি ফ্রান্স ও নরওয়ে। দুই দলেই রয়েছে একঝাঁক বিশ্বসেরা তারকা, তাই মাঠে যেমন দারুণ ফুটবলীয় দ্বৈরথ দেখা যাবে, তেমনি এই ম্যাচে গোলবন্যা দেখারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ৭টি গোল করে ৩টি হজম করেছে নরওয়ে। অন্যদিকে ফ্রান্স করেছে ৬ গোল, বিপরীতে গোল খেয়েছে মাত্র ১টি। বল দখলের লড়াইয়েও দুই দল প্রায় সমানে সমান (নরওয়ে ৫১.৫% এবং ফ্রান্স ৫৪.৫%)। আক্রমণভাগে গতি ও নিজেদের চেনা ছন্দ নিয়ে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দলই। ৬৬,৮২৯ আসন বিশিষ্ট জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি পরিচালনা করবেন বিখ্যাত রেফারি মাইকেল অলিভার।
সাম্প্রতিক ফর্ম ও পরিসংখ্যানের লড়াই
উড়ন্ত ফর্মে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স
টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ফ্রান্স। শেষ ৬টি ম্যাচের প্রতিটিতেই তারা প্রথমে গোল করেছে এবং শেষ ৭ ম্যাচের ৬টিতেই প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে ছিল। চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সোফাস্কোর রেটিং ৭.২। মাঠের ফুটবলে ৮৮.৭% নিখুঁত পাসিং এবং মোট ৩০টি শট নিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে তটস্থ করে রেখেছে ফরাসীরা। তবে ডিফেন্সও কম যায়নি, দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র দুটি অন-টার্গেট শট নেওয়ার সুযোগ দিয়ে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে উপামেকানো-সালিবারা। পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সের শেষ ১০টি ম্যাচের প্রতিটিতেই ২.৫ এর বেশি গোল হয়েছে।
নরওয়ের ইস্পাতকঠিন আক্রমণভাগ
নরওয়ে গত ৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকলেও, শেষ ৪ ম্যাচের একটিতেও ‘ক্লিন শিট’ রাখতে পারেনি (কোনো গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করা)। ফলে রক্ষণভাগের দুর্বলতা থাকলেও আক্রমণে তারা মারাত্মক। শেষ দুই ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২৫টি শটের মধ্যে ১২টি অন-টার্গেট শট নিয়েছে। তাদের সোফাস্কোর রেটিং ৬.৮৭৫। নরওয়ের অন্যতম শক্তির জায়গা হলো শূন্যে লড়াই বা এরিয়াল ডুয়েল, যেখানে তারা ৫৭.৮% জয় পেয়েছে। ফ্রান্সের গতিময় ফরোয়ার্ড লাইনের বিপক্ষে নরওয়ের ডিফেন্ডারদের এই এরিয়াল ক্ষমতা বেশ কাজে দেবে। নরওয়ের শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই উভয় দল গোল করেছে।
সম্ভাব্য কৌশল ও একাদশ
যদিও অফিসিয়াল একাদশ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে ডেটা ও রণকৌশল বিশ্লেষণ করে দুই দলের সম্ভাব্য ফর্মেশন নিচে দেওয়া হলো:
নরওয়ে (সম্ভাব্য ফর্মেশন: ৪-৪-২)
নরওয়ে এই ম্যাচে প্রথাগত ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলতে পারে। যেখানে আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং তাঁর সঙ্গী আলেকজান্ডার সরলথ।
মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগের সাপ্লাই লাইনের চাবিকাঠি থাকবে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের হাতে। নরওয়ের ৭টি গোলের মধ্যে ৬টিই এসেছে ডি-বক্সের ভেতর থেকে। এছাড়া ক্রিস্টোফার আয়ার এবং লিও ওস্টিগার্ডের উপস্থিতি নরওয়েকে বাতাসে ভাসানো বলে বাড়তি সুবিধা দেবে।
- সম্ভাব্য কৌশল: সরাসরি কাউন্টার অ্যাটাক, ওডেগার্ডের পাসিং এবং উইং দিয়ে নিখুঁত ক্রস।
ফ্রান্স (সম্ভাব্য ফর্মেশন: ৪-২-৩-১)
অন্যদিকে ফ্রান্স মাঠে নামতে পারে ৪-২-৩-১ ফর্মেশন নিয়ে, যেখানে গতি এবং ক্রিয়েটিভিটির এক দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। আক্রমণের মূল কাণ্ডারি হিসেবে থাকবেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তাঁকে দুই প্রান্ত থেকে সাহায্য করবেন ওসমানে ডেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা। ফাইনাল থার্ড বা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের আশেপাশে বল হোল্ডিং ও ক্রাফটিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন মাইকেল অলিসে। ডিফেন্সে দায়োত উপামেকানো এবং উইলিয়াম সালিবা দেয়াল হয়ে দাঁড়াবেন।
- সম্ভাব্য কৌশল: প্রতিপক্ষের অর্ধে দীর্ঘক্ষণ বল ধরে রাখা (ফ্রান্স প্রতিপক্ষের হাফে ৮৫% পাস কমপ্লিট করেছে), হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলা অথবা প্রয়োজনে নিচে নেমে এসে কমপ্যাক্ট ব্লক তৈরি করা।
ম্যাচ প্রেডিকশন: একদিকে এমবাপের গতি ও ফ্রান্সের দলগত ভারসাম্য, অন্যদিকে হালান্দ ও ওডেগার্ডের নরওয়েজিয়ান পাওয়ার- সব মিলিয়ে ফক্সবোরোর এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর লড়াই।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















