বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মানেই স্বাগতিক দেশের হোটেল ব্যবসায়ীদের জন্য এক উৎসবের মৌসুম। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার দর্শক, সাংবাদিক, খেলোয়াড় আর কর্মকর্তাদের আবাসনের চাহিদায় হোটেলগুলো হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ। ছোট গেস্টহাউস থেকে পাঁচ তারকা হোটেল- সবখানেই বাড়ে চাপ। কিন্তু পর্যটকদের অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে।

অনেক হোটেলের কক্ষ আগেভাগে সংরক্ষণ করে ফেলেন বিদেশি পর্যটকরা। এ সময় কক্ষভাড়া, খাবার ও অতিরিক্ত সেবার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন ব্যবসায়ীরা। শুধু আয় নয়, ভালো সেবার মাধ্যমে হোটেলগুলোর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল যতই এগিয়ে আসছে ততই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাদের শঙ্কা বিশ্বকাপ ঘিরে তারা যে স্বপ্ন বুনছিলেন তা হয়তো বাস্তবে রূপ নেবে না। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক কোনো শহরে হোটেল বুকিংয়ের পরিমাণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

এএইচএলএ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম হোটেল সমিতি। যাদের অধীনে রয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি হোটেল। সমস্ত ফ্রাঞ্চাইজড হোটেলের ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধিত্ব করে সংগঠনটি।

হোটেলে আসছে দর্শকেরা

ফিফাকে দায়ী করছে এএইচএলএ

প্রতিবেদনে এএইচএলএ এ জন্য বিশ্বকাপের আয়োজক ফিফাকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ ফিফা নিজেদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি কক্ষ ব্লক-বুকিং করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছে। সংস্থাটি শুধু অভিযোগ করে বসে থাকেনি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে। ব্যাখ্যায় তারা বলেছে, ফিফার বুকিংয়ের কারণে কৃত্রিমভাবে কক্ষ ভাড়া বেড়ে গিয়েছিল। ফিফা বিপুল সংখ্যক কক্ষ ছেড়ে দেওয়ায় তা আর কেউ ভাড়া নেয়নি। ফলে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফিফা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে হোটেলগুলো বলছে, ম্যাচের টিকিটের উচ্চমূল্য, স্থানীয় পরিবহন ও করের খরচ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করেছে। ফলে হোটেলগুলোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ ব্যর্থ হতে পারে।

ফিফা যা বলছে

এএইচএলএ জানিয়েছে, ফিফা বোস্টন, ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলস, ফিলাডেলফিয়া আর সিয়াটলে বিপুল সংখ্যক কক্ষ সংরক্ষণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ৭০ ভাগ বুকিং বাতিল করে। ফিফা অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা হোটেল চেইনগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি অনুসরণ করেছে। ফিফার একজন মুখপাত্র বলেন, হোটেল অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধভাবে সম্মত সময়সীমার অনুযায়ী কক্ষ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই আকারের একটি অনুষ্ঠানের জন্য এটা স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া। তাছাড়া অনেকক্ষেত্রে হোটেলগুলোর অনুরোধ ভালোভাবে মেটানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমার আগেই কক্ষ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version