ফুটবল আর শাকিরা- এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বমঞ্চ মাতাতে ফিরেছেন কলাম্বিয়ার এই পপ তারকা। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রত্যাশা মতোই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। গানটি প্রকাশের পরপরই ফুটবলপ্রেমীদের মনে চলে গেছে সেই ২০১০ সালে। সে আসরের থিম সংও গেয়েছিলেন এই তারকা গায়িকা।
দক্ষিণ আফ্রিকা তপ্ত রোদে ওয়াকা ওয়াকা সুরে শাকিরার সঙ্গে নেচেছিল পুরো বিশ্ব। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের আফ্রিকার মাটিতে পা রেখেছিল ফুটবলের মহাযজ্ঞ। ওয়াকা ওয়াকা, দিস টাইম ফর আফ্রিকা- শুধু একটি গান ছিল না, ছিল একটি বৈশ্বিক উম্মাদনা। এই এক গানেই পুরো বিশ্বকে এক করেছিলেন শাকিরা। তার সেই চিরচেনা বেলি ড্যান্স আর আফ্রিকান তালের মিশেলে তৈরি গানটি আজও ফুটবল ইতিহারেস সর্বকালের সেরা থিম সং হিসেবে বিবেচিত।
কুইন অব ওয়ার্ল্ড কাপ
২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গানে শাকিরা আবারও প্রমাণ করেছেন তাকে কেন ‘কুইন অব ওয়ার্ল্ড কাপ’ বলা হয়। এবারের গানটিতে যেমন আধুনিক ইলেক্ট্রনিক মিউজিকের ব্যবহার হয়েছে তেমনি রয়েছে লাতিন আমেরিকার সেই সিগনেচার রিদম। গানের রিলিক্সে বারবার উঠে এসেছে একতা, সংগ্রাম আর বিজয়ের গল্প। তবে গানের সুরের ভেতরে সূক্ষ্মভাবে ২০১০ সালের সেই আইকনিক তালের একটি ছোঁয়া রাখা হয়েছে, যা পুরনো ভক্তদের নষ্টালজিক করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে
বিশ্বকাপের থিম সং মানে একটি উৎসবের আমেজ। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যে উম্মাদনার শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মাটিতে তার এক নতুন রূপ দেখতে পাওয়ার অপেক্ষায় বিশ্ব। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শাকিরার অন্তর্ভূক্তি এই বিশ্বকাপের গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়
বিশ্বকাপের থিম সং প্রকাশ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার প্রশংসা করেছেন। আবেগাপ্লুত হয়ে কেউ কেউ লিখেছেন, শাকিরা আর বিশ্বকাপ মানেই এক অদ্ভূত জাদুর ছোঁয়া।’
অন্য একজন লিখেছেন, এটা শুনতে এতটাই ভালো লাগছে যে, আমাদের এখনই শাকিরাকে আজীবন পেনশন দিয়ে দেওয়া উচিত। যাতে করে তিনি বিশ্বকাপের সব গান তৈরি করতে পারেন।
অন্য একজন লিখেছেন,শাকিরা ছাড়া অন্য কারো বিশ্বকাপের গান তৈরি করা উচিত নয়। এই বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
২০১০ সালের ওয়াকা ওয়াকা গানের আগে তিনি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও ছিলেন। সে সময় সমাপনী অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও তার সুরেলা কণ্ঠের উপস্থিতি ছিল। তিনি গেয়েছিলেন লা লা লা গানটি।
