২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও মরক্কো। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ফুটবল ঘরানার এই লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেতে মরিয়া দুই দলই। একদিকে জেসন মার্শের অধীনে কানাডা খেলছে ডিরেক্ট বা সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে মরক্কোর শক্তি বল পজিশন, নিখুঁত পাসিং এবং শক্তিশালী ডান প্রান্ত। নকআউট পর্বের ম্যাচ হওয়ায় ছোট্ট একটি ভুল বা নিখুঁত মুহূর্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।
কাগজে-কলমে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও এই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চমকগুলো প্রমাণ করেছে, নকআউটে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। ম্যাচটিতে কানাডা ৪-৪-২ এবং মরক্কো ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে মাঠে নামতে পারে। মরক্কো শিবিরে একমাত্র দুশ্চিন্তা ডিফেন্ডার চাদি রিয়াদের পেশীর ইনজুরি, যার খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। অপরদিকে কানাডা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে।
পরিসংখ্যানের আলোয় কানাডার আক্রমণ
চলতি টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে ৯ গোল দিয়ে মাত্র ৩টি গোল হজম করেছে কানাডা। প্রতিপক্ষকে তারা মাত্র ২২টি শট নিতে দিয়েছে, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৮টি। গড়ে ৫৬.৭৫% বল পজিশন রাখা কানাডিয়ানরা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩৯টি কর্নার আদায় করেছে। দলটির মূল চিন্তা তাদের ফিনিশিং; এখন পর্যন্ত তৈরি করা ১৫টি বড় সুযোগের মধ্যে ১১টিই তারা মিস করেছে।
- জোনাথান ডেভিড: ১৫ শটে ৩ গোল নিয়ে দলের প্রধান গোলদাতা।
- কাইল লারিন: নামের পাশে রয়েছে ২ গোল।
- স্টিফেন ইউস্তাকিও: মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। ৯০.৬৫% নিখুঁত পাসিং রেট এবং ৯টি ‘কী-পাস’ (Key Pass) দিয়ে আক্রমণ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন।
মরক্কোর ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ
আটলাস লায়ন্সরা (মরক্কো) মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে ভালোবাসে। টুর্নামেন্টে তাদের গড় বল পজিশন ৬১.৭৫% এবং পাসের নির্ভুলতা চোখ ধাঁধানো ৮৯.১৭%। আশরাফ হাকিমি ডান প্রান্তে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, যিনি ইতিমধ্যেই ১৫টি ‘কী-পাস’ বাড়িয়েছেন। মরক্কো কাউন্টার-অ্যাটাকেও বেশ বিপজ্জনক।
- ইসমাইল সাইবারি: ১০ শটে ৩ গোল করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার (৩০% কনভার্সন রেট)। তার গতি (ঘণ্টায় ৩৫.৫৪ কিমি) প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।
- নিল এল আইনাউই: মাঝমাঠে নিখুঁত পাসের (৯৩.০৩% একিউরেসি) মাধ্যমে ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
হেড-টু-হেড ও সাম্প্রতিক ট্রেন্ড
অতীতের মুখোমুখি লড়াইয়ে মরক্কো স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কানাডাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা, আর ২০১৬ সালের প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে। কানাডা এখনো মরক্কোর বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি। এছাড়া মরক্কো টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামছে।
ম্যাচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ড:
- কানাডার শেষ ৭টি ম্যাচের ৫টিতেই এবং মরক্কোর শেষ ৫টি ম্যাচের ৪টিতেই ২.৫-এর কম গোল হয়েছে। অর্থাৎ, রক্ষণাত্মক ও টাইট ম্যাচের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
- দুই দলেরই কার্ড দেখার প্রবণতা বেশ কম (ম্যাচে ৪.৫-এর কম কার্ড)।
দুই দলের ‘প্লেয়ার টু ওয়াচ’
| খেলোয়াড় | দল | পজিশন | রেটিং (Sofascore) | মূল বৈচিত্র্য |
| স্টিফেন ইউস্তাকিও | কানাডা | মিডফিল্ডার | ৭.৭৭৫ | ১ গোল, ৯টি কী-পাস, ৯৫টি ফাইনাল-থার্ড পাস এবং ৬৬.৭% ডুয়েল জয়ের হার। |
| ইসমায়েল সাইবারি | মরক্কো | মিডফিল্ডার | ৭.৩২৫ | ৩ গোল, ৪টি কী-পাস, টুর্নামেন্টে ৪১.২৭ কিমি দূরত্ব দৌড়ে কাভার করেছেন। |
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা একটি হাই-ভোল্টেজ ট্যাকটিক্যাল ‘দাবার চাল’ দেখার অপেক্ষা করতেই পারেন, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে গতির ঝড় তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে দুই দলই।
