এডিন জেকো
স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোল ইতালির বিপক্ষে ইউরোপিয়ান প্লে অফ ম্যাচে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয় বসনিয়াকে। সে সঙ্গে এডিন জেকোকে সুযোগ করে দিয়েছে রেকর্ডের পাতায় স্থান করে নেওয়ার। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ইতালিকে কাঁদানো কে এই এডিন জেকো ।
ইতালির বিপক্ষে জীবন মরণ ম্যাচে গোল পাননি জেকো। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কঠিন পথে চল্লিশ বছর বয়সী জেকো ছিলেন দলের প্রাণ ভোমরা। দলের অন্যতম চালিকা শক্তি। বলা যায় দলকে একাই এ পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছেন। বিশ্বকাপে কাপে বসনিয়ার খেলা নিশ্চিত হতে একটা রেকর্ড বুকে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ এসেছে জেকোর সামনে।
রেকর্ডবুকে স্থান
চল্লিশ বা তার থেকে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডবুকে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ জেকোর সামনে। এই ক্লাবে মাত্র একজন রয়েছেন। তিনি ক্যামেরুনের রজার মিলা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৫ দিন বয়সে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। খেলেছিলেন রাশিয়ার বিপক্ষেও। এবার তার সঙ্গে যোগ দিতে যাচ্ছেন ডেকো।
চল্লিশের বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলার খেলোয়াড় আরও রয়েছেন। তবে তাদের সবার জায়গা ছিল গোলবারের নিচে। আক্রমণভাগে খেলেছেন শুধু রজার মিলা।তাদের সঙ্গে আরও দুইজন যোগ হতে পারেন এবার। তারা হলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ আর পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বাছাই পর্বে প্রাণ ভোমরা
বাছাই পর্বের একের পর এক ম্যাচে মূল চালিকা শক্তি ছিলেন জেকো। প্লে অফের আগ পর্যন্ত দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে জেকো ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাঁচ গোল করেছিলেন। সব মিলিয়ে বাছাই পর্বে তার গোলের সংখ্যা ছয়।
ওয়েলসের বিপক্ষে গোল
প্লে অফ থেকে ছিটকে পড়ার অবস্থা হয়েছিল বসনিয়ার। ওয়েলসের কাছে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল বসনিয়া। সেই ম্যাচে দলকে উদ্ধার করেন এই চল্লিশার্ধো জেকো। ৮৬ মিনিটে তিনি সমতাসূচক গোল করে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। তারপর টাইব্রেকারে ওয়েলশকে বিদায় করে বসনিয়ে শেষ ধাপে পা রেখেছিল। তারপর ইতিহাস বসনিয়ার। শেষ ম্যাচে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার জায়গা করে নেয়। ২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল। সে বিশ্বকাপেও দলে ছিলেন জেকো। তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। একটা গোলও করেছিলেন। বসনিয়ায় তিন ম্যাচ খেলে একটাতে জয় পেয়েছিল। শেষ ম্যাচে ইরানকে হারিয়েছিল ৩-১ গোলে। সেই স্কোরশিটে নাম ছিল জেকোর।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















