১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পর্দা উঠবে ২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি প্রকাশ করেছে এমন কয়েকজন বোলারের তালিকা, যারা নিজেদের গতি আর স্পিনের মায়াজালে ব্যাটারদের জীবন বিষাদময় করে তুলতে পারেন।
বিধ্বংসী গতি থেকে শুরু করে মায়াবী স্পিন, বিশ্বকাপ মাতাতে প্রস্তুত প্রতিটি দলের এমন প্রধান বোলারদের নিয়ে আইসিসির বিশেষ প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশ – রাবেয়া খান
বাছাইপর্বের প্রতিটি ম্যাচ জিতে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ নারী দল। আর বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘লেগ স্পিনার’ রাবেয়া খান। বাছাইপর্বে মাত্র ১৭.৫৫ গড়ে তিনি নিয়েছেন ৯টি উইকেট, যার মধ্যে নামিবিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে ৩ উইকেট ছিল তার সেরা পারফরম্যান্স। ২১ বছর বয়সী রাবেয়া ইতিমধ্যে দেশের হয়ে ৫০টি উইকেট ও ৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া – অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড
টেস্ট ও ওয়ানডেতে ব্যাটার হিসেবে আলো ছড়ালেও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বল হাতেও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। গত বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনি। মাত্র ১১.৪ গড়ে নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। যার মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ রানে ৪ উইকেট ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা স্পেল।
ইংল্যান্ড – চার্লি ডিন
ইংল্যান্ড দলের অফ-স্পিন অলরাউন্ডার এবং সহ-অধিনায়ক চার্লি ডিন এখন দলটির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকা তিন ইংলিশ বোলারের একজন তিনি। গত বিশ্বকাপের পর থেকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি উইকেট শিকার করেছেন ডিন।
ভারত – দীপ্তি শর্মা
বিশ্বের চার নম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার এবং অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা ভারতের অন্যতম ভরসার নাম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলা এই অফ-স্পিনার ১৯.৪২ গড়ে ১৬০টি উইকেট নিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
আয়ারল্যান্ড – আরলিন কেলি
২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ৪ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন মিডিয়াম পেসার আরলিন কেলি। এবার আয়ারল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তুলে আনার (কোয়ালিফাই করানোর) পেছনেও বড় অবদান তার। বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ রানে ৪ উইকেটসহ মোট ১৩টি উইকেট নেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে তার বোলিং গড় মাত্র ১৩.৯৭।
নেদারল্যান্ডস – আইরিস জুইলিং
২৪ বছর বয়সী আইরিস জুইলিং নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ডাচ নারী হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র ২ উইকেট দূরে আছেন তিনি। বাছাইপর্বে ৭ উইকেট নিয়ে নেদারল্যান্ডসকে তাদের ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন এই মিডিয়াম পেসার।
নিউজিল্যান্ড – অ্যামেলিয়া কার
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার একাধারে সেরা ব্যাটার, অলরাউন্ডার ও বোলার। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা (প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট) হয়েছিলেন এই লেগ-স্পিনার। সেবার সর্বোচ্চ ১৫টি উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ট্রফি জেতাতে অবদান রাখেন তিনি। ৯৬ ম্যাচে ১০৪ উইকেট নেওয়া কার এই বিশ্বকাপেই ১০০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
পাকিস্তান – সাদিয়া ইকবাল
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর নারী টি-টোয়েন্টি বোলার পাকিস্তানের সাদিয়া ইকবাল। এই বাঁহাতি স্পিনার ৫৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৭৩টি উইকেট। গত বিশ্বকাপের পর থেকে তার বোলিং গড় মাত্র ১৩.৫৭।
স্কটল্যান্ড – ক্যাথরিন ব্রাইস
স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে গেছেন অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস। বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে জেতান তিনি। স্কটল্যান্ডের হয়ে ৬০ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এবং রান সংগ্রাহকের তালিকাতেও আছেন দ্বিতীয়স্থানে।
দক্ষিণ আফ্রিকা – শবনম ইসমাইল
২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার শবনম ইসমাইল। তবে প্রোটিয়া সমর্থকদের চমকে দিয়ে গত মে মাসে অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ (১২৩টি) টি-টোয়েন্টি উইকেট শিকারী এই পেসার আবার মাঠে কাঁপন ধরাতে প্রস্তুত।
শ্রীলঙ্কা – কাভিশা দিলহারি
ইনোকা রানাউইরা বা উদেষিকা প্রবোধনীর মতো অভিজ্ঞ বোলাররা এবারের দলে না থাকায় লঙ্কান বোলিং লাইনের মূল দায়িত্ব এখন কাভিশা দিলহারির কাঁধে। গত বিশ্বকাপের পর থেকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ রানে ৩ উইকেট ছিল তার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা পারফরম্যান্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ – অ্যাফি ফ্লেচার
২০০৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ৩৯ বছর বয়সী লেগ-স্পিনার অ্যাফি ফ্লেচার এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনো তরুণীদের টেক্কা দিচ্ছেন। ১০০-র বেশি ম্যাচ খেলা ফ্লেচার সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনিকে আউট করে টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
