আসন্ন আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। দলগত সংহতি এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রেখে এবারের আসরে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে উন্মুখ হয়ে আছে টাইগ্রেসরা।
অধিনায়ক হিসেবে তৃতীয়বারের মতো এবং খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার রোমাঞ্চ প্রকাশ করে জ্যোতি বলেন, “২০১৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলি, তখন ভাবিনি একদিন দলকে নেতৃত্ব দেব। এত দূর আসাটা আমার জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনই এক বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।”
অতীত খরা কাটিয়ে নতুন দিগন্ত
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের জয়ের খরা কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক জয়কে দলের জন্য একটি বড় মোড় হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তিনি বিশ্বাস করেন, বিগত বিশ্বকাপের সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই এবারের আসরে আরও বড় কিছু করা সম্ভব।
কঠিন গ্রুপ ও নতুন প্রতিপক্ষ
এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের গ্রুপটি বেশ কঠিন। গ্রুপে এমন কিছু দল রয়েছে যারা নিয়মিত সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলে থাকে। তবে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে বলে মনে করেন জ্যোতি।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আসরের নতুন দল নেদারল্যান্ডসের। কোয়ালিফায়ার বা বাছাইপর্বে ডাচদের হারানোর অভিজ্ঞতা এবং টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ জেতার মানসিকতা বাংলাদেশ দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে দলগত ফলাফল আশানুরূপ না হলেও, ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়রা ফর্মে আছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ সিরিজে স্বর্ণা আক্তার ও শারমিন আক্তারের ব্যাটিং এবং সুলতানা খাতুনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং তারই প্রমাণ।
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ দল এবারই প্রথম সেখানে খেলতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে এডিনবার্গে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, যা কন্ডিশনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রাইজমানি বৃদ্ধি ও নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ
এবারের বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্যোতি। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশাল প্রভাব ফেলবে। একই সাথে ক্রিকেটের প্রসারে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ফরম্যাটের উত্তেজনা ও তীব্রতা দর্শকদের আকর্ষণ করছে, যা বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের জোয়ার এনেছে।”
সব মিলিয়ে, অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে এবং তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা আসর উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















