বিশ্বকাপে খেলবেন তো লামিনে ইয়ামাল ? এই প্রশ্ন এখন স্পেনের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের! ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে স্পেনের ফুটবল ভক্তদের সবচেয়ে বড় উত্তেজনার নাম ছিল লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই বিস্ময় বালককে ঘিরে ধারণা ছিল, তিনি টুর্নামেন্টটিকে নিজের মঞ্চে পরিণত করবেন এবং বিশ্ব ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করবেন। কিন্তু বাস্তবতা এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ঘেরা। চোটের কারণে তার অংশ গ্রহণ ও পারফরম্যান্স নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।
ইউরো ২০২৪-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইয়ামালকে স্পেনের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেন এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে তার অগ্রযাত্রা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে চোটের কারণে।
অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ ফিটনেস
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে এপ্রিলের ২২ তারিখে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে। পেনাল্টি থেকে গোল করার কিছুক্ষণ পরই তিনি হঠাৎ মাঠে পড়ে যান এবং স্পষ্টভাবে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। পরে জানা যায়, এটি ছিল বাম হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট, যা শুরুতে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, সুস্থ হতে প্রায় আট সপ্তাহ লাগতে পারে, এবং পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়াও নিশ্চিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে বার্সেলোনা প্রথমে তাকে মৌসুমের বাকি ম্যাচ গুলো থেকে বিশ্রামে রাখে। ক্লাব ও কোচ হান্সি ফ্লিক তখন আশাবাদী ছিলেন যে ইয়ামাল বিশ্বকাপে ফিরতে পারবেন। তবে তার ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি। এর আগে মৌসুমের শুরুতেও পিউবালজিয়া বা গ্রোয়িনের সমস্যায় পাঁচ ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
দ্রুত দিক পরিবর্তন ও গতি নির্ভর খেলোয়াড়দের মধ্যে এই ধরনের ইনজুরি বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে তরুণ বয়সে পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ করা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আবারও একই সমস্যা বাড়ে বলে অভিযোগ ওঠে, যা ক্লাব ও জাতীয় দলের মধ্যে উত্তেজনারও সৃষ্টি করে। এরপর তাকে নভেম্বরের জাতীয় দলে থেকেও বাদ দেওয়া হয়।
তবে মে মাসের শেষ দিকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বার্সেলোনার অনুশীলন মাঠে তাকে আবার বল নিয়ে অনুশীলন করতে দেখা যায়, যেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্কিল দেখান। যদিও এটি আশাব্যঞ্জক, তবুও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার পূর্ণ শক্তিতে ফেরা এখনো নিশ্চিত নয়। স্পেন তাই এক দ্বিধায়-তাদের সবচেয়ে বড় তরুণ তারকা কি বিশ্বকাপকে আলোকিত করবেন, নাকি চোটই তাকে দর্শকে পরিণত করবে?
