চলতি ফিফা বিশ্বকাপের মাঝেই সিদ্ধান্ত জানাবেন রোনালদো ? গত কয়েকদিন ধরে ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন গুলোর একটি এটি। সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রোনালদোর পরিবারের একটি মন্তব্য। তার বড় বোন কাতিয়া আভাইরো দাবি করেছেন, চলমান বিশ্বকাপই হতে পারে পর্তুগিজ মহা তারকার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ টুর্নামেন্ট। তবে রোনালদো নিজে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখনই অবসর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
৪১ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফিটনেস আর গোল করার ক্ষুধা ধরে রাখা রোনালদো এবার খেলছেন নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি আসরে অংশ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে কেবল তার এবং লিওনেল মেসির। তবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড এখনো একমাত্র রোনালদোর দখলেই। বয়স বাড়লেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনও যে দলের অন্যতম ভরসা, সেটির প্রমাণ মিলেছে চলমান বিশ্বকাপেও।
রেকর্ড গড়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন রোনালদো।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে গোল করে এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন রোনালদো। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নামা এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার নতুন দুটি রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। ফলে অবসরের গুঞ্জনের মাঝেও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন রোনালদোর বড় বোন কাতিয়া আভাইরো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা নাও যেতে পারে রোনালদোকে। কাতিয়া বলেন,
আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে সে বিদায় জানিয়ে দিতে পারে। আজ নয়, তবে আমার বিশ্বাস এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে এটাই সম্ভবত তার শেষ অধ্যায়।
পরিবারের এমন মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই ধরে নিতে শুরু করেন, ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পরই হয়তো নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন রোনালদো।
তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অবসর প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হন পর্তুগিজ অধিনায়ক। জবাবে তিনি বলেন,
আমি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই না। টুর্নামেন্টের পরে সিদ্ধান্ত নেব, এখন নয়। রোনালদোর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত তার পুরো মনোযোগ বিশ্বকাপেই। শেষ ষোলো পেরিয়ে আরও দূর যাওয়ার লক্ষ্যেই এগোতে চান তিনি। তাই টুর্নামেন্ট চলাকালে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি নন।
আত্মবিশ্বাসই রোনালদোর বড় শক্তি।
মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে খেলাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তখন তার বয়স হবে ৪৫ বছর। যদিও বিষয়টি কঠিন, তবু নিজের ফিটনেস ও মানসিকতার ওপর আস্থা রেখে সম্ভাবনাটি খোলা রেখেছেন তিনি।
পর্তুগালের প্রধান কোচ রবের্তো মার্তিনেসও সম্প্রতি একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার মতে, রোনালদোর মতো নিবেদিত প্রাণ ও ফিট একজন ফুটবলারকে নিয়ে আগে থেকে কোনো সীমা টেনে দেওয়া ঠিক হবে না। ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে দেখা গেলে সেটি বিস্ময়ের কিছু হবে না বলেই মনে করেন এই স্প্যানিশ কোচ।
এদিকে ক্লাব ফুটবলেও রোনালদোর ভবিষ্যৎ আপাতত নিশ্চিত। সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে আগামী মৌসুম পর্যন্ত। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব পর্যায়ে আরও কিছু সময় তাকে খেলতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এখন তাই ফুটবলপ্রেমীদের নজর বিশ্বকাপে রোনালদোর পরবর্তী ম্যাচের দিকে। পর্তুগাল কত দূর যেতে পারে, আর টুর্নামেন্ট শেষে রোনালদো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন-সেটিই এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















