২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। এই ১৭ বছরের ইতিহাসে আগের ৯ টি আসরে ১২টি দেশ অংশ নিলেও শিরোপার স্বাদ পেয়েছে মাত্র চারটি পরাশক্তি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া একাই জিতেছে রেকর্ড ৬ বার। বাকি তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী আসরে এই আধিপত্য ভাঙতে লড়বে বাকি অন্য দলগুলোও।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে, আবার ভেঙে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন নারী ক্রিকেটাররা। দেখে নেওয়া যাক নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরার সেরা কিছু রেকর্ড:
এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট (অ্যামেলিয়া কের – ১৫টি)
২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম শিরোপা জয়ের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কের। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি একাই শিকার করেন ১৫টি উইকেট, যা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে যেকোনো বোলারের জন্য সর্বোচ্চ। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৪৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি (১৩ উইকেট) যৌথভাবে ছিল ইংল্যান্ডের আনিয়া শ্রাবসোল (২০১৪) এবং অস্ট্রেলিয়ার মেগান শুটের (২০২০) দখলে।
বেশি বয়সী জয়ী অধিনায়ক (সোফি ডিভাইন – ৩৫ বছর ৪৯ দিন)
২০২৪ সালে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন। অধিনায়ক হিসেবে এটিই ছিল তার শেষ ম্যাচ। তবে আপকামিং আসরে ভারতের হরমনপ্রীত কৌর কিংবা শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু যদি শিরোপা জিততে পারেন, তবে ভেঙে যেতে পারে ডিভাইনের এই রেকর্ড।
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (মেগ ল্যানিং – ১২৬* রান)
২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং খেলেছিলেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ইনিংস। মাত্র ৬৫ বলে ৪টি ছক্কা ও ১৮টি চারের সাহায্যে ১২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। (উল্লেখ্য, এটি টি-টোয়েন্টিতে ল্যানিংয়ের সর্বোচ্চ রান নয়, ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ১৩৩* রানের আরেকটি ইনিংস খেলেছিলেন)।
সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার (এলিস পেরি – ৪৭টি ম্যাচ)
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এলিস পেরি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড ৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুজি বেটসের চেয়ে তিনি ৫ ম্যাচ এগিয়ে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে প্রতিটি আসরে খেলার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছেন তিনি। পেরি এবং তার সতীর্থ অ্যালিসা হিলি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৬টি বিশ্বকাপ জিতেছেন, যদিও হিলি চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।
বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ উইকেট (মেগান শুট – ৪৮টি)
২০১৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা অস্ট্রেলিয়ার মেগান শুট মাত্র ২৯ ম্যাচে শিকার করেছেন রেকর্ড ৪৮টি উইকেট, যার বোলিং গড় মাত্র ১১.৭২। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শাবনিম ইসমাইল ও ইংল্যান্ডের আনিয়া শ্রাবসোলকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান (সুজি বেটস – ১২১৬ রান)
নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪২টি ম্যাচ খেলে করেছেন সর্বোচ্চ ১২১৬ রান। তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা উইন্ডিজের স্ট্যাফানি টেলরের চেয়ে ২০০-রও বেশি রানে এগিয়ে আছেন। ২০২৪ সালের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের জয়ে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন বেটস।
ছক্কার রানি (ডিয়ান্ড্রা ডটিন – ৩১টি)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটার ডিয়ান্ড্রা ডটিন, যিনি ‘ওয়ার্ল্ড বস’ নামেও পরিচিত, বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে তিনি একাই ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। সাবেক এই জ্যাভলিন ও শটপুট অ্যাথলেট আসন্ন বিশ্বকাপেও মাঠে নামতে প্রস্তুত।
দলীয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্কোর
- সর্বোচ্চ রান: ২০২৩ সালে কেপটাউনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে, যা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একমাত্র ২০০ ঊর্ধ্ব স্কোর। সেই ম্যাচে তারা ১১৪ রানের রেকর্ড ব্যবধানে জয় পায়।
- সর্বনিম্ন রান: ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর।
সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড় (লরা উলভার্ট – ৪৩.৩০)
কমপক্ষে ১০টি ইনিংস খেলেছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্ট ৪৩.৩০ গড় নিয়ে সবার ওপরে আছেন। ১৭ ইনিংসে তিনি করেছেন ৫৬৩ রান। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি (গড় ৪১.৭৭)।
স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড (২০২০ ফাইনাল – ৮৬,১৭৪ জন)
২০২০ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ৮৬,১৭৪ জন দর্শক। এটি নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে তো বটেই, পুরুষ বা নারী যেকোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড। ২০২৬ সালের আসন্ন আসরটি টিকিট বিক্রির দিক থেকে এই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















