বিশ্বকাপে লিড যেন আর্জেন্টিনার জন্য আশীর্বাদ নয়

দলের গোল হজমের পর হতাশ আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি

দলের গোল হজমের পর হতাশ আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি

প্রথম গোলটি ম্যাচের দরজা খুলে দেয়-ফুটবল খেলায় এমন এক কথা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য কথাটি যেন উল্টো পথে হাঁটছে। আগে গোল যেন দলের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষে র জালে বল জড়িয়ে উল্লাস মেতে ওঠার পরও স্বস্তি আসছে না আলবিসেলেস্তেদের শিবিরে। বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গত বিশ্বকাপে একের পর এক এমন ঘটনা এ বিশ্বকাপে পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এই দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। কাতার বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও তারা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল। এবারের বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে দেখা গেল একই চিত্র।

কাতার বিশ্বকাপ

কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে লিওনেল মেসি পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পরে ম্যাচটি তারা জটিল করে তোলে। বিরতির পর পাঁচ মিনিটের এক ঝড়ে সৌদি আরব দুইবার আর্জেন্টিনার জালে ফেলে জয় তুলে নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে যা অন্যতম অঘটন হিসেবে পরিচিত।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারলান্ডসের বিপক্ষে একই চিত্র। ৭৩ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র। অবশেষে টাইব্রেকারে ভর করে জিততে হয় তাদের।

এরপর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল। ৮০ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সুবাদে ম্যাচে সমতা। অতিরিক্ত সময়ে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এবারও গোল ধরে রাখতে ব্যর্থ। আবার সমতা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে নাটকে আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

বারবার এগিয়ে যাওয়ার পর কেন প্রতিপক্ষকে ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা। সে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। এবারের বিশ্বকাপে তো কেপ ভার্দের বিপক্ষে বড় বাঁচা বেঁচে গেছে। আর্জেন্টিনার এমন ঘটনা শুধু গত বিশ্বকাপ আর এবারের বিশ্বকাপে নয়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ

১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার নেতৃত্ব বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছিল। হোসে লুইস ব্রাউন ও জর্জ ভালদানোর গোলের সুবাদে জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে এক পর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। হঠাৎ ম্যাচের লাগাম তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে ৭৪ ও ৮১ মিনিটে গোল করে জার্মানি খেলায় সমতা ফিরিয়েছিল। সে যাত্রায়ও রক্ষা পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিটে বুরুচাগার গোলে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করেছিল।

Exit mobile version