আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন বিধ্বংসী ও কিপটে বোলিংয়ের প্রদর্শনী খুব কমই দেখেছে বিশ্ব। মাত্র ২ রান খরচায় প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট উপড়ে নিয়ে রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিলেন নাবিল মাস্টার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকান উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে মালির বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক স্পেল করে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন বতসোয়ানার ডানহাতি পেসার।
ভেঙে গেল হার্শা ভারদ্বাজের রেকর্ড
গত রোববারের ম্যাচে বতসোয়ানার হয়ে বল হাতে মালি শিবিরের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান ৩৪ বছর বয়সী নাবিল মাস্টার। ম্যাচে মাত্র ২.৪ ওভার (১৬ বল) বল করার সুযোগ পান তিনি। আর তাতেই খরচ করেন মাত্র ২ রান, যার বিপরীতে শিকার করেন ৬টি উইকেট!
পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ৬ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (ইকোনমিক্যাল) বোলিংয়ের বিশ্বরেকর্ড। নাবিল মাস্টার ভেঙে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের হার্শা ভারদ্বাজের রেকর্ড। ২০২৪ সালে ৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ভারদ্বাজ।
এক ওভারে ৩ উইকেট, পরের ওভারে ৪ বলে ৩!
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা মালির ব্যাটাররা হয়তো ধারণাও করতে পারেনি তাদের জন্য কী ভয়ানক এক সকাল অপেক্ষা করছে। নিজের করা প্রথম ওভারে অবশ্য বেশ সমীহ আদায় করেছিলেন নাবিল, দিয়েছিলেন মাত্র ১ রান।
আসল ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয় ম্যাচের অষ্টম ওভারে। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে কোনো রান না দিয়েই (মেডেন ওভার) তুলে নেন ৩টি উইকেট। এরপর দশম ওভারে আবারও বল হাতে ফিরে প্রথম চার বলেই বাকি ৩ উইকেট শিকার করে মালির ব্যাটিং লাইনের লেজ কেটে দেন তিনি। নাবিলের এই আগুনে স্পেলের তোড়ে পড়ে মাত্র ২৪ রানেই গুটিয়ে যায় মালির ইনিংস।
বতসোয়ানার প্রথম ও ইতিহাসের চতুর্থ সেরা
২৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বতসোয়ানার ব্যাটারদের বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয়নি। মাত্র ২.২ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে (১০ উইকেটের বিশাল জয়) জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বতসোয়ানা।
ম্যাচ বতসোয়ানা জিতলেও, পুরো লাইমলাইট কেড়ে নেন নাবিল মাস্টার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সংস্করণে বতসোয়ানার কোনো বোলারের এটাই প্রথম ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সামগ্রিক সেরা বোলিং ফিগারের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন এই পেসার।
৭ বছর পর ফিরে রূপকথার গল্প
নাবিল মাস্টারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গল্পটাও বেশ অদ্ভুত আর অনুপ্রেরণাদায়ী। ২০১৯ সালে বতসোয়ানার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তার। কিন্তু অভিষেকের পর দীর্ঘ সাত বছর জাতীয় দলের রাডারের বাইরে ছিটকে যান তিনি।
চলতি টুর্নামেন্ট দিয়েই দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও জাতীয় দলে ডাক পান এই পেসার। ফেরার প্রথম ম্যাচেই ২ উইকেট নিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছিলেন। আর ঠিক তার পরের ম্যাচেই বল হাতে মালিকে ধ্বংস করে গড়ে ফেললেন বিশ্বরেকর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে পড়া একজন ক্রিকেটারের এমন রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তন ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















