উয়েফা নেশনস লিগে চমক দেখালো ফ্রান্স। ৭৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেলজিয়ামের হাতে। কিন্তু শেষ ১৩ মিনিটে বদলে গেল পুরো চিত্র। একের পর এক আক্রমণে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে চার গোল করল ফ্রান্স। বদলি হিসেবে নামা দেজিয়ে দুয়ে, রায়ান চেরকি ও মাইকেল ওলিসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে
স্তাদ দ্য ফ্রান্সে এই জয়টি জিদানের অধীনে ঘরের মাঠে ফ্রান্সের প্রথম জয়। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে ফরাসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য ফ্রান্সকে চাপে রেখেছিল বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকু শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিলেন। মার্কারকে ঘুরিয়ে নেওয়ার পর তাঁর শট অবশ্য অভিষিক্ত গোলরক্ষক গিয়োম রেস্তেস ধরে ফেলেন। এরপর ডোদি লুকেবাকিওর ক্রস থেকে নিকোলা রাসকিনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
জিদানের সামনে সুযোগ নষ্ট
৩৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ ভাবে উঠে ওসমান দেম্বেলে বল বাড়ান এস্তেবান লেপলের দিকে। কিন্তু ১৪ গজ দূর থেকে তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। এক মিনিট পরই সেই সুযোগের মাশুল দিতে হয় ফ্রান্সকে। রোমিও লাভিয়ার লম্বা পাস থেকে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বেরিয়ে যান লুকেবাকিও। গোলরক্ষককে একা পেয়ে দারুণ ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান বেনফিকার এই উইঙ্গার। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
বিরতির পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ম্যানু কোনের শট লাভিয়ার কাঁধে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর দেম্বেলের বাঁকানো শট অল্পের জন্য চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।

৬০ মিনিটের মধ্যে জিদান বুঝে যান, ম্যাচের গতি বদলাতে হবে। তিনি মাঠে নামান রায়ান চেরকি ও মাইকেল ওলিসিকে। বদলির পরপরই সুযোগ তৈরি করেন দুজন। চেরকির পাস থেকে অলিসির শট অবশ্য সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষক মার্টেন ভান্দেভুর্টের হাতে।এরপর ভান্দেভুর্টকে আরও একবার কঠিন পরীক্ষা নেন চেরকি। তাঁর বাঁকানো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় আঙুলের ডগায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। পরে ব্র্যাডলি বারকোলার শটও ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়।
অবশেষে ফ্রান্সের প্রথম গোল
অবশেষে ৭৭ মিনিটে ফ্রান্সের অপেক্ষার অবসান। বক্সের প্রান্তে পিঠ দিয়ে বল নিয়েছিলেন আরেক বদলি দেজিয়ে দুয়ে। মুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্টের কোণে। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে ফ্রান্স।
সমতা ফেরার পর যেন বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। মাত্র তিন মিনিট পরেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ওলিসি বল নিয়ে বাইলাইনে পৌঁছে সেটি পেছনে বাড়িয়ে দেন চেরকির দিকে। সুযোগ পেয়ে জোরালো শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান চেরকি। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
৮৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ওলিসি। রাসকিনকে শরীর দিয়ে আটকে রেখে ডান পায়ে শট নেন তিনি। বল ভান্দেভুর্টকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। শেষ মুহূর্তে আবারও জুটি বাঁধেন দুয়ে ও অলিসি। স্টপেজ টাইমে দুয়ের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওলিসি।




