বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে টাইগারদের। ইতোমধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। এবার সুযোগ অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস গড়া। হোম আব ক্রিকেট গ্রাউন্ড মিরপুর শেরে বাংলায় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে রোববার সকাল ১১টায়।
নিয়ম রক্ষার ম্যাচে অনিশ্চিত নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডে মাথায় চোট পান। চোট কাটিয়ে তিনি আজ একাদশে ফিরবেন কিনা সকালে সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
অবশ্য বাড়তি সতর্ক হিসেবে স্কোয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে চলমান এই সিরিজ। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে স্বাগতিকরা।
সিরিজ নিশ্চিত হলেও শেষ ম্যাচে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বরং জয় দিয়েই সিরিজ শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এই সিরিজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ধারালো বোলিংয়ে বারবার বিপাকে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।
চলতি বছরে মাত্র আট ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছেন ৫৪ উইকেট, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্য যেকোনো দলের তুলনায় অনেক বেশি। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার মনে করেন,
সময় বদলেছে এবং এখন বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণই প্রতিপক্ষের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একসময় প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির বোলারদের নিয়ে চিন্তায় থাকতে হতো বাংলাদেশের ব্যাটারদের। এখন সেই পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। সৌম্য বলেন,
‘আগে আমরা ভাবতাম কোন বোলারকে সামলাব, কাকে আক্রমণ করব। এখন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের পেসারদের নিয়েই চিন্তা করছে। তারা চাপে পড়ে ভুল করছে এবং উইকেট হারাচ্ছে। এটা দেখতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি দলের জন্যও দারুণ অনুভূতির।’
তিনি আরও বলেন,
বাংলাদেশের বর্তমান পেস বোলিং ইউনিট বিশ্বের অন্যতম সেরা। যেকোনো কন্ডিশন ও যেকোনো দেশে এই আক্রমণ প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম। তবে এই পেসারদের দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্য ধরে রাখতে প্রয়োজন যথাযথ পরিচর্যা ও পরিকল্পনা।
অন্যদিকে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান মারনাস লাবুশেন স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের পেস আক্রমণ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাবুশেন বলেন,
‘বাংলাদেশকে আমরা কখনোই হালকাভাবে নিইনি। তাদের পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করছে এবং এখানকার পেস ও বাউন্স থাকা উইকেট থেকে ভালো সুবিধা নিচ্ছে। আমরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি।’
যাদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে বাংলাদেশ
ওয়ানডে ক্রিকেটে এর আগে একাধিকবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া নিউজিল্যান্ডকে ২০১৩ সালে একবার ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এবার সেই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার নাম যোগ করার সুযোগ এসেছে টাইগারদের সামনে। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ আজ জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষায়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















