নাঈমকে পুলিশের নির্যাতনের ঘটনায় ক্রিকেটারদের ক্ষোভ । চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)।

ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমনের ক্ষোভ
জাতীয় দলের ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমনও ক্ষোভ জানিয়ে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন। অনেক ক্রিকেটার ফেসবুকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে কোয়াব বলছে, ‘আমরা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নাঈম হাসানের ওপর শারীরিক নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। গতকাল (১২ জুন) রাতে সাভারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে লালখান বাজারের কাছে পুলিশ তাকে থামায়।
শুরু থেকেই পুলিশ বৈরী আচরণ করে এবং তিনি কথা বলার চেষ্টা করলে তার গলা চেপে ধরে। বহু দর্শক পুলিশকে তাকে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। এরপর নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। নাঈম সাহায্যের জন্য ফোন করলেই কেবল তারা সরে যায়।
সকল ক্রিকেটার নাঈমের পাশে আছে বলেও জানায় কোয়াব, ‘দেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য এমন ঘটনা অগ্রহণ যোগ্য। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতোমধ্যে নাঈমের সাথে কথা বলেছে এবং তাকে জানিয়েছে যে দেশের সকল ক্রিকেটার তার সাথে আছে।
এদিকে, স্পিনার নাঈমের সঙ্গে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন জাতীয় দলের ওপেনার পারভেজ ইমন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জিম্মি করে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।
তিনি আরও লেখেন, ‘একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় দেশের গৌরব ও সম্পদ। তার সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয় বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপরও আঘাত। যে-ই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নাঈমের ঘটনায় ক্ষুব্ধ লিটন চাইলেন দ্রুত ন্যায়বিচার
নাঈমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিটন দাস লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন অসাধারণ মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণ যোগ্য। তাকে এমন দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত। দেশের কোনো নাগরিকই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার তো নয়ই, যিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত এবং যত দ্রুত সম্ভব ন্যায়বিচার আশা করছি।
আরেক সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














