দীর্ঘ বিরতির পর শুরুর একাদশে ফিরেই গোল করলেন জামাল মুসিয়ালা। তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই গ্লিমটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্ব শুরু করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। মুসিয়ালার পাশাপাশি গোল পেয়েছেন হ্যারি কেন, আলফোনসো ডেভিস ও মাইকেল ওলিসে।
গত আগস্টে আরবি লাইপজিগ ও হাইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চার দিনের ব্যবধানে দুবার মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন মুসিয়ালা। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ‘চিকিৎসাযোগ্য অনুপস্থিতি-খিঁচুনি’ বা ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ ধরা পড়েছে। এরপর কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর গত শনিবার শালকের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে বদলি হিসেবে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। এবার বায়ার্নের শুরুর একাদশে ফিরে গোলও পেলেন।
অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা পায়নি বায়ার্ন। লুইস দিয়াজের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। হ্যারি কেনের বাঁকানো শটও সহজেই সামলে নেন গ্লিমটের গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিন। মাঝপথে দিয়াজ পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৩৬ মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল বায়ার্ন। জশুয়া কিমিখের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। একই আক্রমণে আরও সুযোগ তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে তা কাজে লাগানো যায়নি। বিরতির ঠিক আগে মুসিয়ালাও দুর্দান্ত এক দৌড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু হাইকিন তা ঠেকিয়ে দেন। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র ৭৭ সেকেন্ডের মধ্যে কর্নার থেকে আসা বল ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান মুসিয়ালা। এর মধ্য দিয়ে বায়ার্নের ১৩৫ মিনিটের বেশি সময়ের গোলখরা কাটে। এরপর গোলবন্যা যেন সময়ের অপেক্ষা। প্রথমার্ধেই চোটের কারণে হাইকিনকে তুলে নিতে হয়েছিল গ্লিমটকে। তাঁর বদলি জুলিয়ান ফায়ে লুন্ড মাঠে নামার পরপরই গোল হজম করেন। ৬১ মিনিটে ওলিসের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন কেন। টানা আটটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলটি ছিল ইউরোপীয় ফুটবলে বায়ার্নের ৯০০তম গোলও।
৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরতি বলে দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে গোল করেন ডেভিস। ছয় মিনিট পর ওলিসে নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠান ওপরের কোণে।
শেষ দিকে ওলিসেকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ওডিন বিয়র্তুফট। যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন ওলিসে। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই বায়ার্নের জয় পূর্ণতা পায় ৫-০ ব্যবধানে। বড় জয়ের রাতে সবচেয়ে স্বস্তির খবর অবশ্য মুসিয়ালার গোল করে ফেরাটা। তাঁর প্রত্যাবর্তন বায়ার্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানেও এনে দিল দারুণ এক শুরু।


