ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাজুক অবস্থায় চেলসির। সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটি মঙ্গলবার রাতে সমর্থকদের লজ্জায় ডুবিয়েছে। অ্যাওয়েতে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিওনের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩-০ গোলে হেরেছে। এই হারের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাই পর্বে খেলার যে স্বপ্ন সমর্থকরা দেখছিল তা শেষ হয়ে গেছে।
প্রিমিয়ার লিগে চেলসির পয়েন্ট হারানো অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ৩৪ ম্যাচে দলটি মাত্র ১৩টিতে জয় পেয়েছে। হেরেছে ১২ ম্যাচে, ৯ ম্যাচে ড্র করেছে। ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দলটি সপ্তম স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তাদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২২ পয়েন্ট। অন্যদিকে ব্রাইটন ৩৪ ম্যাচ থেকে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে।
ষষ্ঠ স্থানে ব্রাইটন
প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে আর্সেনাল ৩৩ ম্যাচ থেকে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে। ৩২ ম্যাচ থেকে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের অনুসরণ করে চলেছে। সর্বশেষ ম্যাচে আর্সেনালকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি লিগ লড়াই জমিয়ে তুলেছে। শীর্ষে থাকলেও আর্সেনাল শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছে। কেননা পরবর্তী ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি জয় পেলেই আর্সেনালকে টপকে উপরে চলে যাবে। উভয় দলের পয়েন্ট যেমন সমান হবে তেমনি সমান হবে জয়, পরাজয় আর ড্র। আর্সেনাল ৩৩ ম্যাচে ২১টিতে জয় পেয়েছে। ড্র সাত ম্যাচে, হার পাঁচটিতে।
শিরোপা জয়ের তো সম্ভাবনা নেই। সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ আগেই হারিয়েছে চেলসি। সুযোগ ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার। সেই সুযোগটাও হয়তো এবার হারালো চেলসি। ম্যাচের শুরুতেই তাদেরকে চমকে দেয় ব্রাইটন। দর্শক সারিতে নিজেদের আসন নিতে না নিতেই চেলসি সমর্থকদের থমকে দেয় ব্রাইটন। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিক দল।
শেষ সময়ে ব্রাইটনের গোল
ফ্রেডি কাডিগলু গোল করে ব্রাইটনকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি স্বাগিতক দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলটি আবার নিজ সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। জ্যাক হিনশেলউড ৫৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন। ব্রাইটন শেষ গোলটি পায় খেলার একেবারে শেষ মুহুর্তে। যখন রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা তখন স্কোরশিটে নাম লেখান ড্যানি ওয়েলবেক।
টানা পাঁচ ম্যাচে গোলশূন্য চেলসি
এবারের ম্যাচে হারের মাঝ দিয়ে চেলসি প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে হারের মুখ দেখলো। শুধু তাই নয়, এই পাঁচ ম্যাচে একবারো তারা প্রতিপক্ষের জালে বল ফেলতে পারেনি। ১৯১২ সালের পর এই প্রথম দলটি টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না করার ব্যর্থতার দেখা পেল।
