নিউ জার্সির তীব্র গরমের মাঝেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ সি’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও মরক্কো। মাঠের লড়াইয়ে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোর গতি আর আগ্রাসী ফুটবলের সামনে প্রথমার্ধে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ২১ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পরেও সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করলো ব্রাজিল ।
শুরুর দাপট অ্যাটলাস লায়ন্সদের, ২১ মিনিটেই গোল হজম
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। বল দখলে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ তৈরিতে ধার বেশি ছিল মরক্কোর। খেলার সপ্তম মিনিটেই বড় বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। মাজরাউইয়ের একটি বিপজ্জনক ক্রস থেকে নিল এল আয়নাউই শট নিলেও তা চমৎকারভাবে ব্লক করেন ব্রুনো গিমারায়েস। সেই একই আক্রমণ থেকে আশরাফ হাকিমির একটি নিচু শট ব্রাজিলের গোলপোস্টের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
১৪ মিনিটে ব্রাজিল তাদের প্রথম বড় সুযোগটি পায়। বাম প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত ক্রসে ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেয়েছিলেন ইগর থিয়াগো, কিন্তু বলের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন তিনি। ১৯ মিনিটে আবারও আক্রমণ সাজায় ব্রাজিল; রাফিনিয়ার পাস থেকে ভিনিসিয়ুস গোলমুখে বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও সঠিক সময়ে হাকিমি ট্যাকল করে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ২১ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি ব্রাজিলের। মাঝমাঠ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ ব্রাজিলের দুই সেন্টার ব্যাক মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলের রক্ষণ ভেঙে একটি অসাধারণ থ্রু পাস বাড়ান। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে লব করে বল জালে জড়ান ইসমাইল সাইবারি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো।
ভিনির ৫০তম ম্যাচে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানো
গোল হজম করার পর ব্রাজিল নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তবে ২৯ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করেছিল মরক্কো। হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে এল আয়নাউইয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩১ মিনিটে হাকিমি নিজেই ডান দিক থেকে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এর ঠিক এক মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৩২ মিনিটে আসে ব্রাজিলের সেই কাঙ্ক্ষিত জবাব। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস ধরে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢোকেন (কাট ইন) ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের এক দর্শনীয় বাঁকানো (কার্লিং) শটে মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান ভিনি।
কার্ডের মহড়া ও প্রথমার্ধের শেষ নাটকীয়তা
সমতায় ফেরার পরও মরক্কো তাদের আক্রমণের ধার কমায়নি। তাদের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ব্রাহিম দিয়াজকে থামাতে গিয়ে ৩৭ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর ৪৩ মিনিটে ব্রাহিমকে আবারও ফাউল করায় ডিফেন্ডার রজার ইবানেজকে কার্ড দেখান রেফারি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৩ মিনিট) লুকাস পাকেতার একটি চমৎকার ভলি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক বুনু। এরপর কর্নার থেকে মারকিনিওসের ফ্লিক করা বলও জালের দেখা পায়নি। ৪৫+৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ফাউলের দাবি করলেও রেফারি তাতে সাড়া না দিয়ে প্রথমার্ধের সমাপ্তি টানেন।
পরিসংখ্যান ও দ্বিতীয় আবহের অপেক্ষা
ম্যাচের প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান মরক্কোর সাহসী ফুটবলের প্রমাণ দেয়। খেলার প্রথম ৩০ মিনিটেই ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তারা ১২টি শট নেয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য একটি বিরল দৃশ্য। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের শিরোপা খরায় ভোগা ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচটি যে মোটেও সহজ হবে না, তা প্রথমার্ধেই স্পষ্ট।
মরক্কোর সুশৃঙ্খল আক্রমণ বনাম ব্রাজিলের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এই লড়াইয়ে দ্বিতীয় অর্ধ আরও বেশি রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














