ম্যাচের ঘড়িতে তখন যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) চতুর্থ মিনিট। গ্যালারি জুড়ে সুইস সমর্থকদের জয়োল্লাস আর টিভির সামনে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে। ঠিক তখনই ঘটল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। ডি-বক্সের ভেতর ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে নিখুঁত এক হেডে সুইজারল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দিলেন কাতারের খাউকি। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল কাতার শিবির। নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতারের ঐতিহাসিক ড্র এর মধ্যে মাঠ ছাড়ল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতারের এই ড্র ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। নিজেদের যোগ্যতায় ৪৮ দলের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কাতার যে সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়, শেষ মুহূর্তের এই গোল তারই প্রমাণ।
প্রথমার্ধে সুইসদের দাপট ও পেনাল্টি ভাগ্য
ম্যাচের শুরু থেকেই শক্তির বিচারে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার পার্থক্যটা ছিল স্পষ্ট। বলের দখল কিংবা আক্রমণ কোনো বিভাগেই কাতার সুইসদের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারছিল না। ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি সুইজারল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে শুরু থেকেই হিমশিম খেতে হয় কাতারের রক্ষণভাগকে।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে কাতারি গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদার এক মারাত্মক ভুলে পেনাল্টি পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। ব্রিল এম্বোলোর একটি হেড থেকে বল নিচে নেমে এলে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ছুটে যান সুইস তারকা রেমো ফ্রয়লার। কিন্তু তিনি বলে টোকা দেওয়ার মুহূর্তেই কাতার গোলরক্ষক তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজালে কাতার দলের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং রেফারিকে ঘিরে ধরেন। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পরীক্ষার পরও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে।
সময় অপচয় করার অপরাধে কাতারি গোলরক্ষককে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপর ম্যাচের ১৭ মিনিটে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিং শটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ব্রিল এম্বোলো। এই ব্যবধান ধরে রেখেই প্রথমার্ধ শেষ করে সুইসরা।
যোগ্যতার প্রমাণ দিল কাতার
২০২২ সালে ঘরের মাঠে ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিল কাতার। তবে স্বাগতিক কোটায় খেলা সেই আসরে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু এবার কাতার বিশ্বকাপে খেলছে কঠোর বাছাইপর্ব পার হয়ে, সম্পূর্ণ নিজেদের যোগ্যতায়।
ঐতিহাসিকভাবে ১৩তম বিশ্বকাপ খেলতে আসা পরাশক্তি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতার আজ যে লড়াই দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। ১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা এবং ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক দল সুইজারল্যান্ডের স্রোতের মতো আক্রমণের সামনে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে কাতার। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর তারা কেবল ব্যবধানই বাড়াতে দেয়নি, বরং ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল শোধ করে নিজেদের ফুটবলীয় উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে।
শেষ বাঁশিতে উল্লাস
সুইজারল্যান্ড যখন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই খাউকির সেই অবিশ্বাস্য হেড কাতারকে এনে দেয় মূল্যবান ১ পয়েন্ট। এই ড্রয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের সমীকরণ আরও জমজমাট হয়ে উঠল, আর কাতার মাঠ ছাড়ল গ্রুপ পর্বের অন্যতম বড় এক অঘটন ঘটিয়ে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















