বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়

বিশ্ব ফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন এখন স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লামিনে ইয়ামালরা। অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোহারা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্পেন, আর একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে নিজেদের নাম লিখিয়ে নিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, ছোট ছোট পাস আর সংগঠিত আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে তারা। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামস বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি স্পেন।

অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচজুড়েই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা অন্য কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেননি। স্পেনের উচ্চ প্রেসিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে ম্যাচের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। স্পেন ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যায়, আর আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণ আরও নিচে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, আয়মেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবার্সির প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ করে দেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনা বড় ধাক্কা খায়। প্রথমে আপত্তি জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর পাউ কুবার্সির ওপর কঠোর ট্যাকলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও কোনোভাবে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

অতিরিক্ত সময়েও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। শেষ পর্যন্ত ১০৬তম মিনিটে আসে প্রতীক্ষিত গোল। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর উঁচু ক্রসে নিকো উইলিয়ামস দারুণ হেডে বল বাড়িয়ে দেন। সেই সুযোগে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ছাদে। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া সেই গোলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে স্পেন।

গোল হজমের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা চালালেও সমতায় ফিরতে পারেনি। বদলি খেলোয়াড় জুলিয়ানো সিমেওনের একটি শট অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির উত্তরসূরিরাও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল। লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমোদের নিয়ে গড়া নতুন স্পেন আবারও দেখিয়ে দিল যে, বল দখলভিত্তিক, ধৈর্যশীল এবং ছন্দময় ফুটবল এখনও বিশ্বজয়ের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

অন্যদিকে, লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ উপস্থিতি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর এবার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফাইনালেই। আর্জেন্টিনার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার একাধিক অসাধারণ সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের এক গোলেই নির্ধারিত হলো ফাইনালের ভাগ্য। স্পেনের জন্য এটি নতুন এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা, আর আর্জেন্টিনার জন্য অপূর্ণ থেকে গেল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles