লা লিগায় গত সপ্তাহে হঠাৎ হোঁচট খেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল বেতিসের কাছে হারের পর প্রশ্ন উঠেছিল দলটির ছন্দ নিয়েই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগায় ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ের পর শনিবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যেন সব সংশয়কে গোলের বন্যায় ধুয়ে দিল হোসে মরিনহোর দল। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে যথারীতি কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফরাসি তারকার জোড়া গোলে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে লা লিগায় জয়ের ধারায় ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপ্পে নিজে করেছেন দুটি গোল, সতীর্থ আলভারো কারেরাসের গোলেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। জুড বেলিংহামের গোলটি রিয়ালের জয়কে আরও বড় করেছে। রায়োর হয়ে ব্যবধান কমিয়েছিলেন সার্জিও কামেয়ো।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের আক্রমণ ছিল ধারালো। ১৪ মিনিটেই গোলের দরজা খুলে দেন এমবাপ্পে। রিয়ালের আলভারো কারেরাসকে ফ্লোরিয়ান লেজ্যুনে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা। স্পটকিক থেকে এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার শটে এগিয়ে যায় রিয়াল।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই রিয়াল ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে সমন্বয়ের পর জুড বেলিংহাম নিখুঁত ফিনিশিংয়ে করেন ৩-০। ম্যাচ তখন রিয়ালের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। একের পর এক আক্রমণে রায়োর রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে তারা। এমনকি বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। রায়ো আক্রমণে ওঠে এবং রিয়ালের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে। ৫১ মিনিটে সেই চাপেরই ফল-সার্জিও কামেয়োর গোলে ব্যবধান কমে আসে ৩-১। হঠাৎ করেই ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। রিয়ালের রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়, আর মরিনহোর মুখেও তখন স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগই বেশি।

রায়ো এরপর আরও সুযোগ তৈরি করে। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রিয়ালকে বিপদ থেকে বাঁচান। অন্যদিকে রায়োর গোলরক্ষকও দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে স্বাগতিকদের চতুর্থ গোল আটকে রাখেন। ফলে শেষ দিকে ম্যাচটি একসময় ৩-১ ব্যবধানেই ঝুলে ছিল।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন সেই এমবাপ্পেই। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরদা গুলেরের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। রায়োর শেষ প্রতিরোধটুকুও সেখানেই শেষ হয়ে যায়। ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
এই ম্যাচটি এমবাপ্পের জন্য ছিল ব্যক্তিগত ভাবেও বিশেষ। চলতি মৌসুমে ছয় ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। লা লিগায়ও ছয় গোল নিয়ে তিনি এখন গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে। অর্থাৎ মৌসুমের শুরুতেই গোলের দৌড়ে বাকিদের পেছনে ফেলতে শুরু করেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর লা লিগায় এক ম্যাচে একাধিক গোল করার ক্ষেত্রেও এমবাপ্পে নিজের আধিপত্য আরও বাড়িয়েছেন। রায়োর বিপক্ষে জোড়া গোলটি ছিল স্প্যানিশ লিগে রিয়ালের হয়ে তাঁর ১৫তম বহু-গোলের ম্যাচ। এই তালিকায় তাঁর সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার রাফিনিয়া, যার এমন ম্যাচ ১১টি।
এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্মের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে ব্যালন ডি’অর নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসও। পুরস্কার ঘোষণার আগে তিনি প্রকাশ্যেই নিজের দাবির কথা জানিয়েছেন-গত মৌসুমে তাঁর চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স আর কোনো খেলোয়াড় করতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। রায়োর বিপক্ষে দুই গোল যেন সেই দাবির পক্ষে মাঠ থেকেই আরেকটি যুক্তি হয়ে এল।




