বিশ্বকাপ শেষ হলেও বিতর্ক থামছে না। নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু গোল্ডেন বল। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আট গোল করেছেন। চারটি গোলে সহায়তা ছিল তার। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলে পাঁচবার হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সে কারণে ফাইনালে স্পেনের কাছে হারলেও অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের গোল্ডেন বল পেতে যাচ্ছেন মেসি। কিন্তু গোল্ডেন বল দেওয়া হয়েছে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে। আর তাতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল পুরস্কারের জন্য রদ্রির নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারি থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মেসির নামে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করে। তা দেখে কেঁদে ফেলেন মেসি। তাদের এই জয়ধ্বনি যে ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ তা ছিল স্পষ্ট।
এবারের বিশ্বকাপ মেসি খেলবেন কিনা তা নিয়ে একটা সময়ে জল্পনা কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু মেসি এই বিশ্বকাপের জন্য গত একটা বছর ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। ম্যাচের পর ম্যাচ দলকে জিতিয়েছেন। সামনে থেকে দিয়েছেন নেতৃত্ব। ২০২২ সালেও পাঁচ ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন মেসি। এবারও পেয়েছেন। ২০২২ সালে সাতটি গোল করেছিলেন। এবার করেছেন আটটি। ফলে মেসির জন্য যে সব সমর্থক গলা ফাটাচ্ছেন তাদের পক্ষে যুক্তি রয়েছে।

যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না ইব্রাহিমোভিচ
মেসির পক্ষে যুক্তি যারা দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক খেলোয়াড় জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও আনহেল দি মারিয়া। ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, গোল্ডেন বল জয়ের জন্য মেসিকে আর কী করতে হতো? আমি বুঝতে পারছি না কোনো যুক্তিতে এই পুরস্কার রদ্রিকে দেওয়া হলো। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া হারলেও লুকা মদরিচকে সোনার বল দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এবার মেসি কেন পেল না?
দি মারিয়ার আঙ্গুল ফিফার দিকে
মেসির সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া সরাসরি ফিফার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি প্রায় দুই দশক মেসির সঙ্গে খেলেছি। আমার বলতে দ্বিধা নেই, ফিফা সবচেয়ে অপমানজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সোনার বল মেসিরই প্রাপ্য।
রদ্রির পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। স্পেনের বিশ্বজয়ের প্রধান কারিগর তিনি। আটটি ম্যাচেই শুরু থেকেই দলের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পাস খেলেছেন তিনি। রক্ষণে যেমন সহায়তা করেছেন, তেমনি তার পাসে তৈরি হয়েছে আক্রমণ। তিনি গোল করেননি, অ্যাসিস্টও করেননি, এমনকি তিনি উঠে যাওয়ার পর এসেছে জয়সূচক গোল। তাতেও তার কৃতিত্ব কমে যায় না।


