মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে শেষ হলো আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। ট্রফির খুব কাছ থেকে খালি হাতে ফেরার বেদনা আর চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, পরাজয়কে সসম্মানে মেনে নিয়ে প্রতিপক্ষকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
পুরো ম্যাচজুড়েই স্প্যানিশদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বল দখল থেকে শুরু করে পাসিং ও আক্রমণ, প্রতিটি বিভাগেই আর্জেন্টিনাকে স্পষ্ট ব্যবধানে পিছিয়ে রাখে ‘লা রোহা’রা। পরিসংখ্যানেও তার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে; গোলে শটের দিক থেকে স্পেন ২০-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং ৮৪৫টি সফল পাস দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে।
ম্যাচ শেষে রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝোলানোর সময় নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আবেগে আপ্লুত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং তা মেনে নিচ্ছি। আমি দুঃখিত, তবে আমি জানি যে আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।”
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় ডুবে গেলেও টুর্নামেন্টে সতীর্থদের প্রচেষ্টা এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে মেসি যোগ করেন,
“এই হার মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি তা ভুলে যাব। আমি আমার দেশের মানুষ, সতীর্থ ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও পরাজয়কে এভাবে সাদরে মেনে নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আবারও নিজের অনন্য মহানুভবতা প্রমাণ করলেন মেসি। বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই কান্না কেবল এক পরাজয়ের কষ্ট নয়, বরং এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের বিদায়ী আবেগ হয়ে রইল।


