অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা গোলটিই লিখে দিল ইতিহাস। স্পেন এখন বিশ্বসেরা। তবে ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসের আমেজ মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনায়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হলেও রেফারিকে টানতে হলো রেড কার্ডের চরম সিদ্ধান্ত।
স্পেনের ১-০ গোলের জয়ে শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হারের চরম হতাশায় ডুবে থাকা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পাশে তখন স্পেন শিবিরের উল্লাস। এই উদ্যাপনের সময় মাঠের মধ্যভাগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সাথে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার। পরিস্থিতি দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যখন উত্তেজিত হয়ে পারেদেস সরাসরি গার্সিয়াকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
সতীর্থকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে শান্ত থাকতে পারেননি ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পাবলো গাভি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পারেদেসকে সরিয়ে নিতে দ্রুত এগিয়ে আসেন গাভি। কিন্তু এই হস্তক্ষেপে পারেদেস আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গাভিকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও আঘাত করতে উদ্যত হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
দুই দলের অন্যান্য খেলোয়াড় ও কোচ লিওনেল স্কালোনি দ্রুত মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আলাদা করেন। ততক্ষণে পুরো মাঠে এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস আচরণের জন্য ম্যাচ রেফারি লিয়োয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
বিশ্বকাপের এমন এক ঐতিহাসিক ফাইনালের শেষে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে এবং ম্যাচ-পরবর্তী নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


