নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল, আর তাতেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি মাঠের ভেতরের এক রোমান্টিক মুহূর্ত নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্প্যানিশ ফুটবলের উঠতি তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়ার উদ্ভাসিত যৌথ উদযাপন এখন অনুরাগী ও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠে নেমে আসেন ২১ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার ইনেস গার্সিয়া। ইয়ামালের সঙ্গে জয় উদযাপনের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তিনি লেখেন, “তুমি পেরেছ! অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।” মুহূর্তের মধ্যেই এই ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
গ্যালারি থেকে সোশাল মিডিয়া: ইয়ামালের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনেস
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই গ্যালারিতে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল স্পেনের সেভিল নিবাসী এই ইনফ্লুয়েন্সারের। ইয়ামালের পরিবারের সঙ্গেই প্রায় প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করেছেন তিনি।
- सऊदी আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইয়ামাল যখন প্রথম গোল করেন, তখন ইনেস সোশাল মিডিয়ায় তাকে “বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়” হিসেবে বর্ণনা করেন।
- ফাইনালের আগে নিজের জনপ্রিয় ‘গেট রেডি উইথ মি’ (GRWM) ভিডিওতে ইনেস জানান, ফাইনালের উত্তেজনার কারণে আগের রাতে তিনি মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছিলেন।
ভার্চ্যুয়াল বিশ্ব থেকেই শুরু প্রেমের গল্প
ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২০ লাখ এবং টিকটকে ১৯ লাখের বেশি অনুসারী থাকা ইনেস মূলত ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও বিউটি কনটেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি স্প্যানিশ সাময়িকী Hola-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রূপকথার মতো কোনো গল্প নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদেই তাদের প্রথম পরিচয়।
২০২৬ সালের এপ্রিলে গ্রিস ভ্রমণের সময় প্রথমবারের মতো এই জুটিকে জনসম্মুখে একসঙ্গে দেখা গেলেও ইনেসের দাবি—আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার অনেক আগেই তাদের এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।
আলোচিত ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন লামিনে ইয়ামাল। তবে মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।
- ইউরো ২০২৪ চলাকালে অ্যালেক্স পাদিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়।
- এরপর আনা গেগনোসো, ফাতি ভাসকেজ ও ক্লাউদিয়া বাভেলের সাথে তার নাম জড়ালেও সেগুলোর কোনো স্পষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়নি।
- ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন র্যাপার নিকি নিকোলের সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের এক সম্পর্কের পর অবশেষে ইনেস গার্সিয়ার সঙ্গেই স্থায়িত্ব খুঁজে পেলেন এই তরুণ তুর্কি।
বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ফুটবল জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জনের রাতে ব্যক্তিগত জীবনের সমস্ত আলোচনা পেছনের সারিতে ফেলে ইয়ামাল ও ইনেসের জোড়া উদযাপনই এখন ভক্তদের কাছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।


