পাকিস্তানের সাদা বলের দলের পাশাপাশি টেস্ট দলের স্থায়ী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব নিতে আগ্রহী মাইক হেসন। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে কাজ করার মতো যথেষ্ট প্রতিভা পাকিস্তানের দলে আছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে লাল বলের ক্রিকেটেও পাকিস্তানকে সাফল্যের পথে ফেরানো সম্ভব।
ইংল্যান্ড সফরের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে সরিয়ে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে সাতজন ক্রিকেটারকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
কোচ বদলেও ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ
এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পান হেসন। বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যাশলি নাফকে, যিনি সাদা বলের দলের সঙ্গেও কাজ করছেন। তবে কোচ পরিবর্তনেও পাকিস্তানের ভাগ্য বদলায়নি। বার্মিংহ্যামে শনিবার ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাই হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো তাদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেসন জানিয়েছেন, পাকিস্তানের টেস্ট দলের স্থায়ী দায়িত্ব পেলে তিনি আগ্রহের সঙ্গেই কাজ করবেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোয় প্রতিভার কোনো ঘাটতি দেখছেন না তিনি।
হেসন বলেন,
অবশ্যই আমি টেস্ট দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। টেস্ট ক্রিকেট আমি ভালোবাসি। পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিভা আছে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে এক-দুই ম্যাচেই এর পরিবর্তন দেখা যাবে না। এখানে এমন কিছু দক্ষতা আছে, যেগুলো নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব নিতে আমি অবশ্যই আগ্রহী।
এর আগে ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার দৌড়েও ছিলেন হেসন। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর উত্তরসূরি খুঁজতে হেসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই আলোচনা খুব বেশি দূর এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত স্টিভেন ফ্লেমিংকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড।
এরপর পাকিস্তানের সাদা বলের দলের সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার বিষয়ে নিজের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন হেসন। তবে টেস্ট দলের স্থায়ী কোচ হওয়ার বিষয়টি এখনই তাঁর হাতে নেই। কারণ, এ বিষয়ে পিসিবি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
হেসন বলেন,
এই পর্যায়ে আমি কোনো চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ভাবিনি। দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পরই এশিয়ান গেমস আছে। এই মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটই আমার মূল মনোযোগ। সময় এলে টেস্ট দল নিয়ে সামনে কী করা যায়, সে বিষয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হবে। নির্বাচকদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলব।
পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ নভেম্বরে। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। সেই সিরিজের আগেই টেস্ট দলের কোচিং কাঠামো নিয়ে পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




