বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর মতে, লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতির স্বীকৃতিই মিলেছে এই সিদ্ধান্তে। যদিও চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) অংশ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজটির গুরুত্বও কম নয়।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে নিয়ে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা।
গতকাল মিরপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শান্ত বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে অনেক দলই নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাত। এবার সেই চিত্র বদলেছে।
‘আমি বলব, এটা আমাদের দলের জন্য বড় অর্জন। তারা পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছে। এতে করে নিজেদেরও যাচাই করার দারুণ সুযোগ পাব আমরা। তাদের স্কোয়াড দেখলেই বোঝা যায়, তারা আমাদের মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না,’ বলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিটি টেস্টই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই অস্ট্রেলিয়ার সেরা দল নিয়ে নামার সিদ্ধান্তে খুব একটা বিস্ময়ের সুযোগ নেই।
বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও খুব উজ্জ্বল নয়। শেষ পাঁচটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ ড্র করলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
অবশ্য ঘরের মাঠে টেস্টে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চারে উঠে আসে শান্তর দল। যদিও এই চক্রে এখনো বেশির ভাগ ম্যাচ বাকি রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা পেসার নাহিদ রানার চোট। জিম্বাবুয়ে টেস্টে পাওয়া সাইড স্ট্রেইনের কারণে তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ফিজিও, ট্রেনার ও টিম ম্যানেজমেন্ট যৌথভাবে নেন এবং তাঁরাই বিষয়টি দেখছেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রানা বর্তমানে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন না। তবে চিকিৎসকদের চূড়ান্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নির্বাচক কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, দ্বিতীয় টেস্টের আগে ফিট হলেও তাঁকে দলে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
রানার বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে ইবাদত হোসেনকে। পারিবারিক কারণে শুরুতে সফর থেকে সরে দাঁড়ালেও বর্তমানে ইতালিতে আছেন এই পেসার। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা–সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
আগামী ৩১ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। ডারউইনে প্রথম টেস্টের আগে ৬ আগস্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট, ম্যাকেতে।


