সকালের সেশনটা ছিল পুরোপুরি পাকিস্তানের। কিন্তু দিনের শেষ হাসি হাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে কেভেম হজের দায়িত্বশীল অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকায় প্রথম দিনে মাত্র ৬৭ ওভার মাঠে গড়ায়। আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
দিন শেষে কেভেম হজের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার শাই হোপ। তিনি ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ২৮ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের জুটিই প্রথম দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে এটিই ছিল প্রথম টেস্ট ম্যাচ। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার ও ম্যাচ কর্মকর্তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ও আম্পায়াররা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন।
সকালের সেশনে বল হাতে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লাইন ও লেংথে একের পর এক বল করে স্বাগতিক ব্যাটারদের রীতিমতো বন্দি করে রাখেন অভিজ্ঞ এই পেসার। প্রথম স্পেলে করা সাত ওভারের মধ্যে পাঁচটিই ছিল মেডেন। রান তুলতে হিমশিম খাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪.১ ওভারে তোলে মাত্র ২৩ রান।
চাপ কাটাতে গিয়ে প্রথম উইকেট হারায় তারা। শরীরের খুব কাছের বল কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্পেই বল লাগিয়ে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং। আব্বাসের নিখুঁত বোলিংয়েরই পুরস্কার ছিল এই উইকেট।

এরপরই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যাহ্ন বিরতি ঘোষণা করা হয়। বৃষ্টি শেষে আর্দ্র উইকেটে পেসারদের জন্য বাড়তি সহায়তা মিললেও নতুন উদ্যমে ব্যাটিং শুরু করেন কেভেম হজ ও ট্যাগেনারিন চন্দরপল। আব্বাসের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম দুই ওভার থেকেই ১৪ রান তুলে পাকিস্তানের চাপ কিছুটা কমিয়ে দেন হজ। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতি এনে দেন।
তবে অধিনায়ক বাবর আজম দ্রুত বোলিং পরিবর্তনের সুফল পান। স্পিনার আলি উসমানকে এক ওভারের পর সরিয়ে আক্রমণে আনেন আমির জামাল। প্রথম ওভারেই সফল হন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সালমান আগার হাতে ক্যাচ তুলে দেন চন্দরপল।
এরপর কিছুটা ছন্দ হারান জামাল। পাকিস্তান আবার ভরসা রাখে আব্বাসের ওপর। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান স্টাম্পের একেবারে কাছে উঠে আসেন, যাতে জনগু সহজে ক্রিজ ছেড়ে বের হতে না পারেন। সেই কৌশলই কাজে দেয়। সোজা বলটি খেলতে ব্যর্থ হন জনগু। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও পাকিস্তানের রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বল ট্র্যাকিংয়ে তিনটি লাল সংকেত দেখানোর পর এলবিডব্লিউ হন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ১৯৪/৩ (৬৭ ওভার)। (কেভেম হজ ৮৩, শাই হোপ ৩৯, চন্দরপল ২১, আমির জাঙ্গু ২১; মোহাম্মদ আব্বাস ২/৪৪)।


