১৯ বছরেই কোটি কোটি ডলারের মালিক ইয়ামাল

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই উইঙ্গার শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, অল্প বয়সেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও আলোচনায়। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, পারিবারিক ত্যাগ আর কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ গল্প।

ইয়ামালের উত্থান এতটাই দ্রুত হয়েছে যে তাকে ধরে রাখতে আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয় বার্সেলোনা। আগে বছরে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার আয় করলেও ২০২৫ সালের মে মাসে ক্লাবটির সঙ্গে ছয় বছরের নতুন চুক্তি করেন তিনি। সেই চুক্তিতে কর কাটার আগে তার বার্ষিক বেতন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

বার্সেলোনার এই সিদ্ধান্তও ছিল প্রত্যাশিত। ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে প্রথম দলে অভিষেক হয়েছিল তার। এরপর স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউরো) সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েন।

ক্লাবের বেতনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেও বড় অঙ্কের আয় করছেন ইয়ামাল। ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গে ১০ বছরের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছেন তিনি। এ ছাড়া বিটস বাই ড্রে, ওপ্পো, পাওয়ারেড, কোনামি ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকেও নিয়মিত আয় করছেন এই তরুণ তারকা।

ইয়ামালের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ তিনি কোটি কোটি ডলারের মালিক হলেও শৈশব ছিল বেশ কষ্টের। বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো থেকে আসা একজন ভবন রংমিস্ত্রি।

আর মা শেইলা এবানা ছিলেন নিরক্ষীয় গিনির বংশোদ্ভূত একজন ওয়েট্রেস। সংসার চালাতে পরিবারের সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে দাদি ফাতিমার অবদানের কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন ইয়ামাল।

এক পডকাস্টে তিনি জানান, তার দাদি মরক্কো থেকে বাসে লুকিয়ে স্পেনে পৌঁছেছিলেন। পরে একসঙ্গে তিনটি কাজ করে ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের স্পেনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন।

ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বার্সেলোনার শ্রমজীবী মানুষের এলাকায় বড় হয়েছেন তিনি। অর্থকষ্টের মধ্যেও পরিবার তাকে স্বপ্ন দেখাতে ছাড়েনি। সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়েই আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles