হামজা চৌধুরীর পর এবার বাংলাদেশের ফুটবলে আসছেন-ফারহান আলী ওয়াহিদ

লাল সবুজের প্রবাসী ফুটবলার

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম-এর বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই তরুণ ইতোমধ্যে পেশাদার ফুটবলে পা রেখেছেন। ২০২৫ সালে ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে জল অনেকদুর গড়িয়েছে তাই বলা যায় হামজা চৌধুরীর পর এবার বাংলাদেশের ফুটবলে আসছেন-ফারহান আলী ওয়াহিদ।

ফারহানের বাবা-মা:

ফারহান আলী ওয়াহিদের বাবা-মা দুজনেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে ফারহানের জন্ম ইংল্যান্ডে হয়েছে। তাঁর বাবা হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ। ফারহানের ছোট ভাই রায়ান আলী ওয়াহিদও ফুটবলার এবং ইংল্যান্ডে খেলছেন। তবে তাঁর বাবা-মায়ের জন্মস্থান বাংলাদেশে, পেশা বা পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল।

কোন ক্লাবে খেলেন?

ফারহান বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম এফসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ক্লাবটির বয়সভিত্তিক ফুটবল কাঠামোতর ফুলহাম অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলেছেন এবং ২০২৫ সালে ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর প্রথম পেশাদার চুক্তি সম্পন্ন হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই নরউইচ সিটির বিপক্ষে ফুলহামের একটি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি প্রথম ফুলহাম সিনিয়র দলের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন যদিও তার দল ০-২ গোলে হেরেছে তিনি নিজে কোন গোল বা অ্যাসিস্ট করেননি তবে তার একটি বাঁকানো শট সবার দৃষ্টি কেড়েছে যা তাঁর সিনিয়র ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ মনে করা হচ্ছে।

পজিশন খেলার ধরন:

ফারহান মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। বাম উইংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা ডান পায়ের খেলোয়াড় তিনি। তাঁর খেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গতি, ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা বিশেষ করে ওয়ান টু ওয়ানে তার ভয়ডরহীন ফুটবল চমৎকার এছাড়া তার গতির সাথে টেকনিকের দক্ষতার দারুন সমন্বয় তাকে অনেকের থেকে আলাদা করেছে।

ফারহানকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের শুরুটা হয় চলতি বছরের মে মাসের দিকে বাফুফের সহসভাপতি জনাব ফাহাদ করিমের আগ্রহে। বর্তমানে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন পাসপোর্ট এর কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিক ঠাক চললে আগামী সেপ্টেম্বর ফিফা উইন্ডো অথবা নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ১৫তম সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টে সেই টুর্নামেন্টেই আমরা দেখতে পারি ফারহান আলী ওয়াহিদকে বাংলাদেশর জার্সিতে।  

বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই আক্রমণভাগে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। সেই জায়গায় ইংল্যান্ডের আলো বাতাসে এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠা একজন তরুণ উইঙ্গার ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারেন। বিশেষ করে ফারহান যদি ফুলহামের সিনিয়র দলে তার জায়গাটা পাকাপোক্ত করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের আক্রমনের প্রাণ ভোমরা হয়ে উটতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

শেষ কথায় বলা যায়: ফারহান আলী ওয়াহিদের গল্প বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালে পেশাদার চুক্তি এবং ২০২৬ সালে প্রথম দলের প্রাক-মৌসুম ম্যাচে মাঠে নামা—দুটি ঘটনাই তাঁর ক্যারিয়ারের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাঠে নামার প্রতিক্ষায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles