গ্যালারিতে থাকবে উন্মাদনা আর মাঠে থাকবে কৌশলগত লড়াই। একটা প্রীতি ম্যাচের আমেজ এমন শান্ত স্নিগ্ধতাই দাবি করে। কিন্তু কখনো কখনো প্রীতি ম্যাচে এই আবহাওয়াটা থাকে অনুপস্থিত। তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে মেটজ ও ফরচুনা সিটার্ডের মধ্যকার লড়াইয়ে। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে শুরু হলেও সেই সৌহার্দ্যের পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। আর তাতেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর এক ঘটনা।
ঘটনার সূত্রপাত্র ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে। সে সময়ে ফরচুনার প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফরোয়ার্ড লেকিনসিও জিফিককে প্রতিপক্ষের এক ফুটবলার পেছন থেকে বিশ্রীভাবে জার্সি টেনে ধরলে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে দুই দল। শুরু হয়ে যায় সংঘাত। সংঘাতের রোষানলে প্রীতি ম্যাচটি তার গাম্ভীর্য হারিয়ে উত্তপ্ত এক থিয়েটারে পরিণত হয়।
দুই দলের খেলোয়াড়রা যখন সংঘাতে জড়ায় তখন রেফারি তাদের থামিয়ে থাকেন। মেটজ ও ফরচুনা সিটার্ডের মধ্যকার লড়াইয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিও সেই ভূমিকায় নেমেছিলেন। কিন্তু ঘটনা ঘটে উল্টো।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে শান্তির বার্তা নিয়ে দুই দলের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রধান রেফারি মাথিল্ড ডেমন। কিন্তু উন্মাদনার সেই ঝড়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠলেন প্রধান শিকার। খেলোয়াড়দের অন্ধ ধাক্কাধাক্কিতে ভারসাম্য হারিয়ে ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়েন তিনি; মাথায় প্রচণ্ড চোট পেয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে থাকেন মাঠে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর কনকাশন নিয়ে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেফারির এই বিদায়ে মাঠে নেমে আসে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা। প্রশ্ন আসে- ম্যাচ কি বাতিল হয়ে যাবে? কিন্তু তা হয়নি। ফুটবলের নাটকীয়তা সেখানেই থেমে থাকেনি। প্রথমার্ধের সহকারী রেফারিদের একজন বাঁশি হাতে মূল পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কিন্তু সহকারী রেফারির খালি স্থানটি পূরণে এগিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা-গ্যালারি থেকে নেমে আসেন এক সাধারণ দর্শক! কোনো পেশাদারিত্বের তকমা না থাকলেও হাতে লাইন্সম্যানের পতাকা হাতে নিয়ে নিপুণভাবে অফসাইডের দায়িত্ব সামলান তিনি।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঝড়ের পর মেটজ ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে রইল অনভিপ্রেত সংঘাত আর মাঠের রূপকথাতুল্য পরিবর্তনের জন্য। ড্যানি বুইসের শীর্ষ শিষ্যদের সামনে এখন পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে ডাচ লিগ ‘এরিডিভিসি’ অভিযাত্রার চ্যালেঞ্জ; তবে সেই লড়াইয়ের আগে মেসের বিপক্ষের এই অগ্নিপরীক্ষা তাদের প্রাক-মৌসুম স্মৃতিতে এক কালির দাগ এঁকে দিল।


