মাত্র আট বল। সেই অল্প সময়েই চারটি ছক্কা ও একটি চারে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) এমন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে প্রায় ৪০০ স্ট্রাইক রেট ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। তবে নিজের এই আগ্রাসী ইনিংসের পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, সবকিছুই নির্ভর করেছে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর।
মঙ্গলবার রাতে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হৃদয়। সেখানে নিজের ইনিংস, দলের চাহিদা, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার দুনিথ ভেল্লালাগের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি।নিজের প্রায় ৪০০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হৃদয় বলেন, নির্দিষ্ট কোনো স্ট্রাইক রেট ধরে ব্যাটিং করতে তিনি নামেননি। পরিস্থিতিই তাকে সে অনুযায়ী খেলতে বাধ্য করেছে।
‘আলহামদুলিল্লাহ। এটা পুরোপুরি ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কোনো দিন স্ট্রাইক রেট ১২০ হবে, কোনো দিন ১৪০ বা ১৫০। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছি, তখন হাতে ছিল খুব অল্প বল। দলের বার্তাও পরিষ্কার ছিল-যতটা সম্ভব রান যোগ করতে হবে। আমিও সেটাই করার চেষ্টা করেছি,’ বলেন হৃদয়।
অল্প বল হাতে পেয়েও কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল দলের প্রয়োজনে যত বেশি সম্ভব বাউন্ডারি আদায় করা।হৃদয়ের ভাষায়, ‘আমি যখন নেমেছি, তখন হয়তো ৮-১০টি বল বাকি ছিল। তখন নিজের কাছেও বার্তা পরিষ্কার ছিল, দলের জন্য যতটা সম্ভব রান করতে হবে। আমি পরিষ্কার মানসিকতা নিয়ে নেমেছিলাম এবং চেষ্টা করেছি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে।’
ইনিংসের সময় কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী শটও খেলেছেন হৃদয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতিই তাকে প্রতিটি বল আক্রমণ করতে বাধ্য করেছে।
‘রান তো করতেই হতো। পরিস্থিতি এমন ছিল যে প্রায় প্রতিটি বলই মারতে হতো। আমি সেই চেষ্টাই করেছি,’ বলেন তিনি।নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে।’
একই দলে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে খেলার সুযোগ নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হৃদয়। তার ভাষায়, ‘খুবই ভালো লাগছে।’ সাকিবের সঙ্গে নিয়মিত ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হয় কি না-এমন প্রশ্নে হাসিমুখে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, হচ্ছে।’
শ্রীলঙ্কার তরুণ অলরাউন্ডার দুনিথ ভেল্লালাগের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথাও জানান হৃদয়। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেই আমাদের পরিচয়। তখন থেকেই বন্ধুত্ব। মাঝেমধ্যে কথা হয়। এখানে এলে কিংবা বিপিএলে একসঙ্গে খেলতে গেলে দেখা-সাক্ষাৎ হয়।’
মাত্র আট বলের ইনিংস হলেও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, সাহস আর ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার পরিপক্বতা। ম্যাচ-পরবর্তী তার বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই বার্তা-ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নয়, দলের প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।


