২০২৭ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আগামী বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। প্রায় এক মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতা চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টুর্নামেন্টের সময়সূচি চূড়ান্ত করলেও, এখনো আসরের আয়োজক দেশ বা ভেন্যু নির্ধারণ করেনি।
আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আইসিসি নতুন যে প্রতিযোগিতা কাঠামো ঘোষণা করেছে, তাতে বাছাইপর্বের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে। এবার ১০ দলের বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি ১৪ দলের বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেবে। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দলগুলোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন তখনই শেষ হবে না।
এই তিন দলকে খেলতে হবে নতুন সংযোজিত সুপার সিরিজ পর্বে। সেখানে তারা মূল বিশ্বকাপে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই পর্বের সেরা দলটি শেষ পর্যন্ত ১২ দলের মূল গ্রুপ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে। ফলে এবার বিশ্বকাপে ওঠার পথ আগের তুলনায় আরও জটিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি ভেন্যুতে বসবে বৈশ্বিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসর।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবে মোট ১০টি দল। এর মধ্যে থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে বাদ দিয়ে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে থাকা দুটি পূর্ণ সদস্য দেশ। এছাড়া আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২-এর শীর্ষ চার দল এবং বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফ থেকে উঠে আসা চারটি দলও খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
প্লে-অফ পর্বেও থাকছে কঠিন লড়াই। সেখানে অংশ নেবে লিগ-২-এর নিচের চারটি দল এবং চ্যালেঞ্জ লিগ থেকে উঠে আসা চারটি দল। মোট আট দলের এই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা চারটি দল জায়গা করে নেবে মূল বাছাইপর্বে। যদিও প্লে-অফের ফরম্যাট এখনো চূড়ান্ত করেনি আইসিসি।
চ্যালেঞ্জ লিগে অংশ নেবে ১২টি দল। তাদের দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি দল তিনটি করে রাউন্ড-রবিন টুর্নামেন্ট খেলবে। দুই গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট চারটি দল খেলবে বাছাই প্লে-অফে।
এদিকে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বর্তমানে তারা ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। নির্ধারিত কাট-অফ তারিখের আগে ক্যারিবীয়দের হাতে রয়েছে ভারতের বিপক্ষে মাত্র দু’টি ওয়ানডে ম্যাচ। সেই সিরিজের ফলের পাশাপাশি আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের ফলও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যদি আয়ারল্যান্ড আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই জিতে যায়, তাহলে ক্যারিবীয়দের শীর্ষ আটে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আফগানিস্তান সিরিজ জিতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে হবে।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপেও বাছাইপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হারারেতে সুপার ওভারে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা হারিয়েছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই তিক্ত স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ক্যারিবীয়দের। এবারও তাদের সামনে একই ধরনের কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
সব মিলিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট বিশ্ব ক্রিকেটে যোগ করেছে নতুন উত্তেজনা। একই সঙ্গে ছোট দলগুলোর জন্য তৈরি হয়েছে বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ, আর ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর জন্য বেড়েছে বিশ্বকাপে জায়গা ধরে রাখার চাপ।


