ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রদ্রিকে দলে ফেরানোর চেষ্টা জোরদার করেছে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ক্লাবটি রদ্রিকে পেতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বার্সেলোনার প্রস্তাব করা প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজে এখনো সম্মতি দেয়নি ইংলিশ ক্লাবটি। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোলেও, বর্তমান প্রস্তাবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
রদ্রিকে ঘিরে দলবদলের বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বার্সেলোনা দীর্ঘদিন ধরেই স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহী। এবার সেই আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছে কাতালান ক্লাবটি। দুই ক্লাবের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং রদ্রির সম্ভাব্য দলবদলের বিভিন্ন দিক নিয়ে দর-কষাকষি চলছে।
তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। বার্সেলোনার পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয়। ইংলিশ ক্লাবটি আরও উন্নত আর্থিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বার্সেলোনাকে এখন নতুন করে প্রস্তাব সাজাতে হতে পারে।
রদ্রির ব্যক্তিগত ইচ্ছা অবশ্য আলোচনাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার বার্সেলোনায় যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তাঁর পছন্দের বিষয়টি ম্যানচেস্টার সিটিরও অজানা নয়। ফলে ক্লাব দু’টির মধ্যে আলোচনায় রদ্রির ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সিটি এখনই কম দামে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে ছেড়ে দিতে চাইছে না।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির সম্পর্কও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সিটির মাঝমাঠের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি। তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, খেলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং রক্ষণে অবদান পেপ গার্দিওলার কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই তাঁকে ছাড়তে হলে সিটি আর্থিকভাবে লাভজনক একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার দিক থেকে রদ্রিকে দলে ফেরানোর আগ্রহের পেছনে রয়েছে মাঝমাঠে একজন অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনের সঙ্গে রদ্রির খেলার ধরনও বেশ মানানসই বলে মনে করা হয়। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন কাতালান ক্লাবটির মাঝমাঠকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
রদ্রিকে নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে আলোচনা চললেও ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও থামিয়ে রাখেনি ম্যানচেস্টার সিটি। বরং একই সময়ে নতুন এক তরুণ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোর পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে গার্দিওলার দল। ফরাসি ক্লাব লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে দলে নেওয়ার জন্য চুক্তির শেষ ধাপের আলোচনা চলছে।
মরক্কান বংশোদ্ভূত এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিলের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু ক্লাব পর্যায়ের আলোচনাই নয়, বুয়াদ্দির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে সিটি। খেলোয়াড়টির জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।
বুয়াদ্দিকে ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তরুণ এই মিডফিল্ডারকে দলে এনে ধীরে ধীরে বড় দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে সিটি। বিশেষ করে রদ্রিকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে একজন সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফলে একই সময়ে দুই ধরনের দলবদল পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। একদিকে রদ্রিকে ধরে রাখার চেষ্টা এবং বার্সেলোনার প্রস্তাব নিয়ে দর-কষাকষি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য বুয়াদ্দির মতো তরুণ প্রতিভাকে দলে আনার উদ্যোগ। এতে বোঝা যাচ্ছে, রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিটি কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বার্সেলোনার জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদের প্রস্তাবে রাজি করানো। প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় কাতালান ক্লাবকে আরও ভালো আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ফিরতে হতে পারে। তবে রদ্রির নিজের পছন্দ যদি বার্সেলোনার পক্ষেই থাকে, তাহলে সেটি দলবদলের আলোচনায় বার্সাকে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে রদ্রিকে ঘিরে বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। বার্সেলোনা চাইছে নিজেদের পছন্দের মিডফিল্ডারকে ঘরে ফেরাতে, আর সিটি চাইছে উপযুক্ত আর্থিক সমঝোতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে না। এরই মধ্যে বুয়াদ্দিকে দলে আনার অগ্রগতি সিটির বিকল্প পরিকল্পনাকেও স্পষ্ট করছে।
এখন দেখার বিষয়, রদ্রির ইচ্ছা, বার্সেলোনার নতুন প্রস্তাব এবং ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অবস্থান! এই তিনটি বিষয় শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ তৈরি করে। রদ্রি কি ফিরবেন পুরোনো ঠিকানা বার্সেলোনায়, নাকি ম্যানচেস্টার সিটিতেই থেকে যাবেন? দলবদলের বাজারে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।


