ওয়ানডে ক্রিকেটের কথা
৫ জানুয়ারি ১৯৭১ সাল, ৫৫ বছর আগের গল্প! ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজের ৩য় টেস্ট বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের মাথায় হাত কারণ ওই টেস্ট ম্যাচ থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথা ৮০ হাজার ডলার। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে অনুরোধ করলো একটি বাড়তি টেস্টে খেলার জন্য ইংল্যান্ড রাজি হলোনা। কিন্তু ক্ষতি পুরণের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেমে যাওয়ার পাত্র নয়। তাই ফন্দি করে প্রস্তাব দিল একদিনের একটি ম্যাচ আয়োজন করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস ইংল্যান্ড রাজি হলে খেলা হল মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্র্রাউন্ডে। যে ম্যাচটা দেখতেই মাঠে হাজির হয়েছিল ৪৬ হাজার মানুষ। শুরু হল ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা। সেই ম্যাচ টা ৪০ ওভারের হলেও তখন ওভার ছিল ৮ বলের। এভাবেই ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল আর আজ ১ থেকে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের ৫০০০তম ম্যাচ খেললো স্কটল্যান্ড-কানাডা।
১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। ৫৫ বছর পর আজ হচ্ছে পাঁচ হাজারতম ওয়ানডে ম্যাচ। চলুন একটু চোখ বুলিয়ে দেখে নিই আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১ থেকে ৫০০০তম ম্যাচগুলো কেমন ছিল…
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ৫ জানুয়ারি ১৯৭১ মেলবোর্ন: ১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের ওই সফরটাতে কোনো ওয়ানডে খেলার পরিকল্পনা ছিল না। কারণ তখনো তো ওয়ানডের প্রচলন ছিলই ছিলনা ক্রিকেটে। দুই দলের তৃতীয় টেস্টটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর প্রায় ৮০ হাজার ডলার ক্ষতির মুখে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ৪০ ওভারে ম্যাচ হলেও তখন কিন্তু প্রতি ওভারে হতো ৮ বল! সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৯০ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ৩৪.৬ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই ওই রান তাড়া করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের পর ডন ব্র্যাডম্যান দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনারা ইতিহাসের সাক্ষী হলেন…

১০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ ২৫ মে ১৯৯৫, ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নটিংহাম: ১০০০ ওয়ানডে ম্যাচ হতে প্রায় ২৪ বছর সময় লেগেছিল, আর এরই মধ্যে ওয়ানডের নিয়ম কানুন বদলেছে অনেক। ৮ বলের ৪০ ওভার, ৬ বলের ৫৫ কিংবা ৬০ ওভার-এমন অনেক কিছু শেষ করে এখন ৬ বলে ৫০ ওভারের ওয়ানডের থিতু হওয়ার পথে।নটিংহামের এই ম্যাচটা যদিও ছিল ৫৫ ওভারের, তত দিনে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শুরু হলেও ইংল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হতো এই নিয়মে। এক হাজারতম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৯৯ রান করেছিল ক্যারিবীয়রা।
২০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ ১০ এপ্রিল ২০০৩ জিম্বাবুয়ে-পাকিস্তান, শারজা:
এক হাজার থেকে দুই হাজারে ওয়ানডে ক্রিকেট যেতে সময় লেগেছে ৮ বছরের কম সময়। এত দিনে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়ে যায় এই সংস্করণ। ওয়ানডেতে দুই হাজারতম ম্যচটা হয়েছিল শারজা কাপের ফাইনালে, খেলেছিল জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল পাকিস্তান।
৩০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ ২২ জুন, ২০১০, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া, সাউদাম্পটন:
এই ম্যাচ টা ছিল সবচেয়ে কম সময়ে এক হাজার ওয়ানডে হওয়ার রেকর্ড প্রথম ম্যাচের পর এই ঐতিহাসিক ৩০০০তম ম্যাচে এসেও দেখা এই দু-দলের মধ্যে। দিনের হিসেবে ২৬৩০ দিনের মধ্যে হয়েছে এই ২য় এক হাজার ওয়ানডে। সাউদাম্পটনের এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। ১ম মাচে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
৪০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ ১৭ মার্চ ২০১৮, পাপুয়া নিউগিনি-হংকং, হারারে:
৪ হাজারতম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় আইসিসির দুই সহযোগী সদস্যদেশ। হারারে স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। আগে ব্যাট করে ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। তবে সেই রান তাড়া করতে নেমে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে ৫৮ রানে হেরে যায় হংকং।
৫০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ ৭ আগস্ট ২০২৬ ডান্ডিতে, স্কটল্যান্ড: আজ স্কটল্যান্ড ও কানাডার মধ্যে অনুষ্ঠিত হল এই ঐতিহাসিক এবং রিদমিক ডিজিটের ওয়ানডে ম্যাচটি। যদিও সেটা আইসিসি মেনস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টু এর দুই সহযোগী দেশের লড়াই যা হয়তো সদস্য দেশ গুলোর কাছে ততটা গুরুত্ব পূর্ণ নয় তারপরও যখন দেখবে ৫০০০তম ম্যাচ তখন একটু হলেও আলাদা ভাবে খোঁজ খবর নিতে চাইবেন আর এখানেই এই ম্যাচের আকর্ষন বা ঐতিহাসিক দিক। খেলায় স্কটল্যান্ড ৯ রানে কানাডাকে পরাজিত করে। কানাডা টস জিতে স্কটল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠালে স্কটল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৮১ রান করে ফিনলে ম্যাককার্থির ১১২ রানে ভর করে। কানাডা সেই রান তাড়া করতে নেমে ৪৯ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান করে এই ঐতিহাসিক ম্যাচে পরাজিত হয়।
সারকথা: আসলে এই ম্যাচ কানাডা বা স্কটল্যান্ডের কাছে জয় পরাজয়ের হিসেবে গুরুত্ব বহন করবে ঠিকই আর অপরদিকে ক্রিকেট রসিকদের কাছে আমার মনে হয় ৫০০০তম ম্যাচের রিদমিক সংখ্যার কারণেই বেশী মনে থাকবে।


