বাংলাদেশ ক্রিকেট
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং অভিযোগ করেছেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর বদিউল আলম খোকনের বিরুদ্ধে। তবে টনি ও খোকনের বিবাদকে মনোমালিন্য বলেছেন গ্রাউন্ডস বিভাগের সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন। বলেন, ‘কিউরেটর ও মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে টনিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে কখনও কখনও মনোমালিন্য থেকে অনুযোগ করা অস্বাভাবিক কিছু না।’
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, টনির অভিযোগ হলো–তাঁকে না জানিয়ে মিরপুরে সেন্টার উইকেটে ক্রিকেটারদের অনুশীলন করতে দেওয়া হয় আবার তাঁর সামনে মাঠকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন খোকন! টনি আশা করেন তার সামনে যেন ইংলিশেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় মাঠকর্মীদের। শেরেবাংলার প্রতিটি দেখভাল করতে হয় তাঁকেই। অভিজ্ঞ কিউরেটর হওয়ার পরও নিজেকে আপগ্রেড করতে চান না খোকন।
টনি হেমিংয়ের দায়িত্বঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সব ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টিং উইকেট গড়ে তোলা, বিসিবির বিদ্যমান কিউরেটরদের প্রশিক্ষিত করা এবং নতুন কিউরেটর তৈরি করার জন্য টনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টার্ফ ম্যানেজমেন্ট প্রধান হিসেবে। তিনি সে কাজ ভালোভাবে করছেন বলে মনে করে গ্রাউন্ডস বিভাগ।
উইকেট নিয়ে অভিযোগঃ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ঘরোয়া লিগের উইকেট নিয়ে এখন আগের মতো আর অভিযোগ নেই তারকা ক্রিকেটারদের। টনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বছর মিরপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলা হয়েছে স্পোর্টিং উইকেটে। তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করেই উইকেট গুলো প্রস্তুত করেছিলেন কিউরেটররা। তাই খোকনের বিরুদ্ধে হঠাৎ অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের।
অভিযোগ সম্পর্কে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিবঃ
টনির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব বলেন, টনির নির্দেশ মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া আছে সবাইকে। আমরা কোথাও সমস্যা দেখতে পেলে ঠিক করে ফেলি। খোকন ভাই আর টনির মধ্যে দূরত্বও থাকবে না, আশা করি।
খোকনের অভিযোগঃ অভিযোগ সম্পর্কে কিউরেটর খোকনের কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘মিরপুরের প্রধান কিউরেটর আমি। টনি হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট, পুরো দেশের দায়িত্বে। প্রধান কিউরেটর হিসেবে আমার তো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার থাকে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইকেট বানাই আমি। শেষ সময়ে এসে পরখ করে দেখেন তিনি। টনি মাঠেই আসেন বেলা ১১টায়, চলে যান বিকেল ৪টায়। আমি সকাল ৭টায় আসি, সন্ধ্যা ৬টায় বের হই। সরকারি ছুটির দিনেও আসেন না তিনি। বৃহস্পতিবার ২টায় চলে যান। আমি তো ঘড়ি ধরে ৮ ঘণ্টা কাজ করি না।
সারকথাঃ টনি এবং খোকনের মনোমালিন্য কোন ভাবেই কাম্য নয়। তবে একসাথে কাজ করতে গেলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে সেটা যেন এর বেশী না হয় ঠিকঠাকভাবে মিটমাট করা হয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলোতে স্পোর্টিং উইকেট এমনকি মিরপুর যেখানে দেখতাম স্পিনিং উইকেট সেখানেও পেসারদের উইকেট নিতে দেখেছি তাই টনি-খোকন রসায়ন দেশের ক্রিকেটের জন্য খুবই প্রয়োজন।


