ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় মহাসচিব থাকাকালে এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্কের জেরে ওই নারীকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
তবে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইনফান্তিনো। তাঁর মুখপাত্রের দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ কখনো উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে করেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উয়েফা ওই নারীকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নয়, বরং তাঁর চাকরি ছাড়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী একটি ‘ডিপার্চার পেমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তাঁর এমবিএ কোর্সের খরচও ওই অর্থের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে উয়েফা।
উয়েফা আরও বলেছে, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী সব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো আরও কঠোর ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই চাপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের ওই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল হলেও, এ নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে।
সম্প্রতি মরক্কোর রাবাতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। বিতর্কিত পরিকল্পনায় ‘ভুল’ হয়েছিল বলে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে পদত্যাগ না করে নিজের দায়িত্বেই বহাল রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী এই ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে সংস্থাটির মহাসচিব হন। ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। নতুন এই অভিযোগ তাঁর ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।


