ম্যানচেস্টার সিটির এশিয়া সফরের শেষটা হলো জয়ের আনন্দে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শেষ ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকলেন ওমর মারমুশ-দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
সিউল বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে ৫০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সিটির পক্ষে ছিল না। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। কোকের কর্নার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি সিটির রক্ষণ। মর্তেন হিউলমান্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সী জর্জে দোমিঙ্গেস দারুণ শটে বল জালে পাঠান। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মারার কিছুই করার ছিল না।
পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সিটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় ইংলিশ জায়ান্টরা।
৫৭ মিনিটে সমতায় ফেরে সিটি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে আতলেতিকোর রক্ষণে ঢুকে পড়েন অঁতোয়ান সেমেনিও। এর আগে প্রায় সাইডলাইনের বাইরে চলে যাওয়া বলটি দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। এরপর নিচু করে বাড়ানো তাঁর ক্রস থেকে সহজেই বল জালে পাঠান মারমুশ।

এর দুই মিনিট পর আবারও একই জুটি। বাঁ দিক দিয়ে সেমেনিওর নিচু ক্রস, আর এবারও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন মারমুশ। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে সিটিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
মারমুশের জোড়া গোলের পর আতলেতিকোও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামা দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা লি কাং-ইনকে ঘিরে গ্যালারিতে তৈরি হয় সবচেয়ে বড় উচ্ছ্বাস। ৫০ হাজারের বেশি দর্শকের সেই উচ্ছ্বাস আরও বাড়তে পারত, যদি পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে পারতেন লি। সতীর্থের বাড়ানো বলে প্রথমবারের চেষ্টায় তাঁর শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে সিটির জয় আরও নিশ্চিত করেন রায়ান আইত-নুরি। ডিভিন মুবামার বাড়ানো থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে নিচু ও জোরালো শটে অ্যাটলেটিকোর জালে বল পাঠান তিনি। তাতে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় সিটির।
এই ম্যাচ দিয়ে এশিয়ায় প্রাক-মৌসুম সফর শেষ করল ম্যানচেস্টার সিটি। সফরের প্রথম ম্যাচে ১ আগস্ট হংকংয়ে ইন্টার মিলানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। এরপর বুধবার সিউলে কোরিয়ান লিগ অল-স্টারদের ৩-১ গোলে হারায় সিটি। আর এশিয়া সফরের শেষ ম্যাচে একই ব্যবধানে হারাল অ্যাটলেটিকোকে।
এখন সিটির সামনে নতুন মৌসুমের প্রথম বড় পরীক্ষা। আগামী ১৬ আগস্ট কার্ডিফের প্রিন্সিপ্যালিটি স্টেডিয়ামে কমিউনিটি শিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের মুখোমুখি হবে তারা। বিশ্বকাপের শেষদিকে খেলা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এশিয়া সফরে দলের সঙ্গে ছিলেন না। এর মধ্যে ছিলেন আর্লিং হালান্ড, রদ্রি, রায়ান শেরকি, জেরেমি ডোকু, মার্ক গুয়েহি, নিকো ও’রাইলি ও এলিয়ট অ্যান্ডারসন।


