ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না হলেও ফিফার টুর্নামেন্ট ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনার শেষ নেই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জন্য গনবিদারী গর্জনে নিজেদের জান দিতেও প্রস্তুত থাকেন অনেকেই।
সেই পরিচিতির টানে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের অনেক কিংবদন্তিই বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। এবার বাংলাদেশের ডাকে না করতে পারেননি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ক্লদিও ক্যানিজিয়া। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্ট ও গ্রাউন্ডসে আয়োজিত ‘ঢাকা ইন্টার-স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সাবেক ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটরিয়ালকে (বিআইটি) হারিয়ে শিরোপা জেতে নৌবাহিনী কলেজের হাতে পরে পুরস্কারও তুলে দেন তিনি।
বৃষ্টিভেজা ফাইনাল শেষে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে উচ্ছ্বাস করেছেন ক্যানিজিয়া। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মনে করেন, একদিন বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে বাংলাদেশও। আলবিসেলেস্তাদের হয়ে ৫০ ম্যাচ খেলে ১৬ গোলের মালিক বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সব সময়ই কঠিন।
আশা করি, আগের চেয়ে বাংলাদেশ আরো ভালো করবে এবং এগিয়ে যাবে। বিশ্বকাপে এখন ৪৮ দল খেলছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরো দল বাড়বে। এতে সামনে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমার বিশ্বাস, একদিন বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশও
এত দিন দূর থেকে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাতামাতি দেখেছেন ক্যানিজিয়া। এবার সরাসরি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। ৫৯ বছর বয়সী সাবেক বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমি অবাক হইনি, কারণ ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা যখন খেলতেন, তখন থেকেই এই সমর্থনের সূচনা। আমি টিভিতে দেখেছি কিভাবে এখানকার মানুষ আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন করে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বড় দলগুলোর সমর্থক থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো এমন উন্মাদের মতো সমর্থক আর কোথাও দেখা যায় না। একটি দেশের এত বিপুল মানুষ ভিনদেশি এক দলের সমর্থক; এটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।’
হামজা চৌধুরির প্রশংসাও করেছেন ক্যানিজিয়া। তিনি বলেছেন, ‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে এমন একজন খেলোয়াড় পাওয়াটা দুর্দান্ত বিষয়। ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টগুলোতে খেললে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা দলের উন্নতিতে দারুণ সাহায্য করে।’
২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবেন লিওনেল মেসি এমন বিশ্বাসও ক্যানিজিয়ার। তিনি বলেছেন, ‘মেসির পক্ষে ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলা বেশ কঠিন হবে। তবে সে তো ফুটবলের জাদুকর, সে চাইলে ৪১-৪২ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতেই পারে। কিন্তু সেই মানসিক প্রস্তুতি তার আছে কি না, তা সময়ই বলবে।’


