চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত দুই আসরে লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাইছে না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে আগামী বছর বিপিএল ফেরানোর পরিকল্পনা করছে তারা।
আজ বিপিএল নিয়ে আলোচনায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, ‘এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি।’
গত দুই বছরে বিপিএল আয়োজন করতে গিয়ে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের লাভ করার কথা, লোকসান নয়—মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারছি না, ততক্ষণ লোকসান করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
তবে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির। বরং সময় নিয়ে টুর্নামেন্টটিকে নতুন কাঠামোয় ফেরাতে চায় বোর্ড। তামিম বলেন, ‘আমাদের এটা করার শতভাগ ইচ্ছা আছে। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি সবকিছু সঠিকভাবে করতে চাই। এতে যদি ছয় মাস বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি সেটা নেব।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে বিসিবি। যেসব দলের বকেয়া, ব্যাংক গ্যারান্টি কিংবা অন্যান্য জটিলতা রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আগামী আসরের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে চায় বোর্ড।
তামিম জানিয়েছেন, আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য তাঁদের। তাঁর ভাষায়, ‘আগে যেটা হতো, একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। এবার আমরা যথেষ্ট সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ শেষ মুহূর্তে সরে গেলে আমাদের বিকল্প খোঁজার সময় থাকে।’
চাইলেই দ্রুত কয়েকটি দল দাঁড় করিয়ে বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব বলে মনে করেন তামিম। তবে সেই পথে হাঁটতে চান না তিনি। তাঁর কাছে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু আয়োজন এবং বিসিবির মর্যাদা বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তামিম বলেন, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করব না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবির মর্যাদা বজায় রাখা। এ জন্য যদি সমালোচনাও শুনতে হয়, আমি প্রস্তুত।’
তাই এ বছর বিপিএল না হলেও আগামী আসরকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে আয়োজন করতে চায় বিসিবি। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োর বদলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও টুর্নামেন্টের কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্য বোর্ডের।


